চট্টগ্রাম, , রোববার, ২৮ নভেম্বর ২০২১

admin

বিশ্বজিৎ দাস হত্যা মামলায় দু’জনের মৃত্যুদণ্ড বহাল

প্রকাশ: ২০১৭-০৮-০৬ ১৩:৩৫:২৭ || আপডেট: ২০১৭-০৮-০৬ ১৩:৪৬:৩০

বীরকন্ঠ ডেস্ক : 

বিশ্বজিৎ দাস হত্যা মামলায় হাইকোর্টের রায়ে দু’জনের মৃত্যুদণ্ড বহাল রাখা হয়েছে। বাকি আসামিদের মধ্যে ১৫ জনের যাবজ্জীবন ও চার জন খালাস পেয়েছে। রবিবার (৬ আগস্ট) বিচারপতি রুহুল কুদ্দুস ও বিচারপতি ভীষ্মদেব চক্রবর্তীর সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চ এ রায় দেন। এর আগে ১৭ জুলাই শুনানি শেষে রায় ঘোষণার জন্য আজকের দিন ধার্য করেন।

.বিশ্বজিৎ হত্যাকাণ্ড
মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন- রফিকুল ইসলাম শাকিল ও রাজন তালুকদার। এছাড়া খালাসপ্রাপ্ত চার জন হলেন- সাইফুল ইসলাম, কাইয়ুম মিঞা টিপু, এ এইচ এম কিবরিয়া ও গোলাম মোস্তফা। বাকি আসামিরা যাবজ্জীবন কারাদণ্ডে দণ্ডিত হয়েছেন। যাবজ্জীবন কারাদণ্ড পাওয়া ১৩ আসামির মধ্যে যে দু’জন আপিল করেছিলেন, তারা খালাস পেয়েছে। বাকি যে ১১ আসামি পলাতক, তাদের ব্যাপারে আদালত কোনও মন্তব্য করেননি।
এর আগে, চলতি বছরের ১৬ মে বিশ্বজিৎ দাস হত্যা মামলার ডেথ রেফারেন্স (মৃত্যুদণ্ডাদেশ নিশ্চিতকরণ) ও মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামিদের আপিল শুনানি শুরু হয়। ২৬ ফেব্রুয়ারি বিশ্বজিৎ দাস হত্যা মামলার ডেথ রেফারেন্স ও আসামিদের করা আপিল অগ্রাধিকার ভিত্তিতে শুনানির জন্য বেঞ্চ নির্ধারণ করে দেন প্রধান বিচারপতি। এর আগে ১৯ ফেব্রুয়ারি বিশ্বজিৎ দাস হত্যা মামলার ডেথ রেফারেন্স ও আসামিদের করা আপিল শুনানির জন্য পেপারবুক প্রস্তুত হয়।

প্রসঙ্গত, ২০১৩ সালের ১৮ ডিসেম্বর বহুল আলোচিত এ হত্যা মামলায় ৮ জনকে মৃত্যুদণ্ড ও ১৩ জনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেন ঢাকার চার নম্বর দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালের বিচারক এবিএম নিজামুল হক। রায়ের এক সপ্তাহের মধ্যে বিশ্বজিৎ হত্যা মামলার ডেথ রেফারেন্স হাইকোর্টে আসে। পাশাপাশি নিম্ন আদালতের মৃত্যুদণ্ডের বিরুদ্ধে আপিল করেন আসামিরা।

উল্লেখ্য, ২০১২ সালের ৯ ডিসেম্বর পুরনো ঢাকার ভিক্টোরিয়া পার্কের সামনে কুপিয়ে ও পিটিয়ে হত্যা করা হয় বিশ্বজিৎ দাসকে। এ মামলায় ২০১৩ সালের ১৮ ডিসেম্বর ৮ জনকে মৃত্যুদণ্ড ও ১৩ জনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেন বিচারিক আদালত। বিশ্বজিৎকে হত্যার ঘটনায় ওই রাতে সূত্রাপুর থানায় মামলা করে পুলিশ। পরদিন গণমাধ্যমে প্রকাশিত ছবি ও ভিডিও ফুটেজ দেখে হাইকোর্টের একটি বেঞ্চ স্বতঃপ্রণোদিত হয়ে ওই ঘটনায় জড়িত ব্যক্তিদের গ্রেফতারের নির্দেশ দেন। এরপর সাত আসামিকে গ্রেফতার করে পুলিশ।

পরে মামলাটি ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশে (ডিবি) স্থানান্তর করা হয়। তদন্ত শেষে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের ২১ জন কর্মীর বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দেয় ডিবি পুলিশ। আসামিদের মধ্যে আটজন রফিকুল ইসলাম, মাহফুজুর রহমান, রাশেদুজ্জামান, কাইয়ুম মিয়া, এস এম কিবরিয়া, এমদাদুল হক, সাইফুল ইসলাম ও গোলাম মোস্তফা কারাগারে আটক আছেন। হত্যাকাণ্ডের তিন মাসের মধ্যে গত ৫ মার্চ ২১ জনকে আসামি করে আদালতে অভিযোগপত্র দেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা গোয়েন্দা পুলিশের পরিদর্শক তাজুল ইসলাম। অভিযোগপত্র গ্রহণের পর মামলা চলমান অবস্থায় বিচার প্রক্রিয়া দ্রুত করতে সরকারের সিদ্ধান্তে তা গত জুলাই মাসে পাঠানো হয় দ্রুতবিচার ট্রাইব্যুনালে। এই মামলায় পুলিশের তদন্ত চলতে থাকার মধ্যেই গণমাধ্যমে যাদের নাম ও ছবি আসছিল, তাদের একে একে বহিষ্কার করে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *