চট্টগ্রাম, , মঙ্গলবার, ১৭ মে ২০২২

admin

আমরা যুদ্ধ চাই না, শরনার্থীদের ফিরিয়ে নিতে প্রস্তুত মিয়ানমার: সু চি

প্রকাশ: ২০১৭-০৯-১৯ ০৯:৫৬:০৫ || আপডেট: ২০১৭-০৯-১৯ ০৯:৫৬:০৫

 

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: মিয়ানমারে কোন জাতিগত সংখ্যালঘু নিধনের ঘটনা ঘটেনি। তবে যে সব শরনার্থী বাংলাদেশসহ অন্যান্য দেশে গিয়েছে নব্বইয়ের দশকে করা প্রত্যাবাসন চুক্তির আওতায় ‘যাচাইয়ের মাধ্যমে’ বাংলাদেশে থাকা শরণার্থীদের ফিরিয়ে নিতে মিয়ানমার প্রস্তুত বলে জানিয়েছেন দেশটির নেত্রী অং সান সু চি।

 

তিনি বলেছেন, “যে শরণার্থীরা মিয়ানমারে ফিরতে চায়, ওই চুক্তির আওতায় আমরা যে কোনো সময় তাদের ভেরিফিকেশন প্রক্রিয়া শুরু করতে প্রস্তুত। আর যে শরণার্থীরা মিয়ানমার থেকে গেছে বলে চিহ্নিত হবে, কোনো ধরনের সমস্যা ছাড়াই নিরাপত্তা ও মানবিক সহায়তার পূর্ণ নিশ্চিয়তা দিয়ে আমরা তাদের গ্রহণ করব।”

 

তিনি বলেন, রাখাইন রাজ্য ছেড়ে রোহিঙ্গারা কেন বাংলাদেশে আশ্রয় নিয়েছে তাও খুঁজে বের করা হবে। আমরা শান্তি চাই, ঐক্য চাই-কোন যুদ্ধ চাই না।

 

রাখাইনে সহিংসতার প্রেক্ষাপটে বিশ্বজুড়ে সমালোচনার মধ্যে মঙ্গলবার জাতির উদ্দেশ্যে দেওয়া ভাষণে এ কথা বলেন দেশটির স্টেট কাউন্সেলর সু চি।

 

সু চি আরো বলেন, ‘আমরা শান্তির প্রতি প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। আমরা সব মানুষের দুর্ভোগ গভীরভাবে অনুভব করি। রাখাইনে শান্তি, স্থিতিশীলতা পুনরুদ্ধারে কাজ করছি। রাখাইনে বাস্তুচ্যুতদের সহায়তা দেওয়া হচ্ছে। আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষণের ভয় করি না। কারো ঘাড়ে দায় চাপানো বা দায়িত্ব এড়িয়ে যাওয়া মিয়ানমার সরকারের ইচ্ছা নয়।

 

তবে রাখাইনের পরিস্থিতির কারণ ওই রাজ্যের মুসলমানদের পালিয়ে বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়ার কথা স্বীকার করলেও বক্তৃতার কোথাও তাদের ‘রোহিঙ্গা’ হিসেবে উল্লেখ করেননি সু চি।

 

রাখাইন থেকে মুসলমানরা কেন পালিয়ে বাংলাদেশে যাচ্ছে, তা মিয়ানমার সরকার খুঁজে বের করতে চায় জানিয়ে, আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে রাখাইন পরিদর্শনে যাওয়ার আমন্ত্রণ জানিয়েছেন তিনি।

 

পরিস্থিতি দেখার জন্য আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে রাখাইন পরিদর্শনে যাওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন এবং এ ব্যাপারে সব ধরনের সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছেন তিনি।

 

সু চি দাবি করেন, ৫ সেপ্টেম্বরের পর রাখাইনে কোনো ধরনের সহিংসতা বা অভিযান চালানো হয়নি। সঙ্কট নিরসনে কফি আনান কমিশন যে সুপারিশ করেছে, তা দ্রুততম সময়ের মধ্যে সরকার বাস্তবায়ন করতে চায়।

 

তিনি বলেন, “আমরা শান্তি প্রতিষ্ঠায় অঙ্গিকারাবদ্ধ। রাখাইনের সবার দুর্দশার বেদনা আমরা গভীরভাবে অনুভব করছি।”

 

মিয়ানমার সরকার রাখাইনে শান্তি ও স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনতে কাজ করছে এবং বাস্তুচ্যুতদের পুনর্বাসনে সহযোগিতা দেওয়া হচ্ছে বলেও দাবি করেন ক্ষমতাসীন দল ন্যাশনাল লিগ ফর ডেমোক্রেসির নেত্রী সু চি।

 

আজ মঙ্গলবার এক ভাষণে সু চি এ কথা বলেন। দেশটির ক্ষমতাসীন রাজনৈতিক দল ন্যাশনাল লিগ ফর ডেমোক্রেসির (এনএলডি) নেত্রী বলেন, ‘আমরা শান্তি চাই, ঐক্য চাই। যুদ্ধ চাই না।’

 

উল্লেখ্য, জাতিসংঘের হিসেবে বাংলাদেশে রোহিঙ্গা অনুপ্রবেশের সংখ্যা চার লাখ ছাড়িয়ে গেছে। এখন পর্যন্ত চার লাখ ৯ হাজার রোহিঙ্গা বাংলাদেশে ঢুকেছে। প্রতিদিন গড়ে ১৮ হাজার রোহিঙ্গা বাংলাদেশে আসছে।

 

সেনা অভিযান বন্ধে মিয়ানমারের প্রতি দ্বিতীয় দফায় গত ১৬ সেপ্টেম্বর আহবান জানায় জাতিসংঘ। সেনা অভিযান বন্ধে দেশটির ডি ফ্যাক্টো নেত্রী অং সান সু চির হাতে শেষ সুযোগ রয়েছে বলেও উল্লেখ করেন জাতিসংঘের মহাসচিব অ্যান্তোনিও গুতেরেস।

 

মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে ব্যাপক হত্যাযজ্ঞ চালিয়েছে দেশটির সেনাবাহিনী। অমানবিক নির্যাতন চালাচ্ছে, নারীদের ধর্ষণ করছে, শিশু, বৃদ্ধ, যুবকদের এলোপাতাড়ি গুলি করে হত্যার ঘটনা সেখানে ঘটেছে। এর ফলে প্রায় চার লাখ রোহিঙ্গা মুসলিম ওই নিজেদের বাড়ি-ঘর ছেড়ে পালিয়ে বাংলাদেশে আশ্রয় নিয়েছে।

 

সু চি মঙ্গলবার তার বক্তব্যে বললেন,জাতিগত সংখ্যালঘু নিধনের মতো ঘটনা মিয়ানমারে ঘটেইনি। তবে যারা দেশ ছেড়েছেন তাদের ফিরিয়ে নিতে দেশটি প্রস্তুত বলে ঘোষণা দিলেন এই নেত্রী।

 

যদিও মিয়ানমার সেনাবাহিনীর সাম্প্রতিক রোহিঙ্গা নির্যাতনের ঘটনা নিয়ে ইতোমধ্যে জাতিসংঘ, কমনওয়েলথ, হিউম্যান রাইটস ওয়াচের মতো মানবাধিকার সংগঠগুলো তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে।

 

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *