চট্টগ্রাম, , মঙ্গলবার, ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২২

admin

আজিজনগরে যৌতুক না পেয়ে স্ত্রীকে আগুনে পুড়িয়ে হত্যার চেষ্টা পাষান্ড স্বামীর

প্রকাশ: ২০১৭-০৯-২৯ ১৫:৩১:৩০ || আপডেট: ২০১৭-০৯-২৯ ১৫:৩১:৩০

লোহাগাড়া অফিস: যৌতুকের টাকা না পেয়ে স্ত্রীকে হত্যার চেষ্টা করেছে পাষান্ড স্বামী। হতভাগিনী স্ত্রীর নাম বিবি আয়েশা(২১)।  সে বান্দরবানের লামা উপজেলার আজিজ নগর চেয়ারম্যান পাড়ার মোঃ মোস্তফিজুর রহমানের মেয়ে। বিবি আয়েশাকে কেরোসিন ঢেলে আগুনে পুড়িয়ে হত্যার চেষ্টা করেছে পাষণ্ড স্বামী মো: রাসেল(৩০)। উপজেলার আজিজনগর ইউনিয়নের চিউনি পাড়ার সোলেইমান বাজার এলাকায় এই মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে। শুধু তাই নয়, ঘটনার পর খোঁজ খবরতো দূরে থাক বরং উল্টো মুঠোফোনে বিভিন্ন ধরনের হুমকি ধমকি দিচ্ছে ওই পাষণ্ড স্বামী।

 

বর্তমানে চিকিৎসার অভাবে পিত্রালয়ে মৃত্যুর সাথে পাঞ্জা লড়ছেন হতভাগিনী গৃহবধূ বিবি আয়েশা । মাত্র ৫০ হাজার টাকা যৌতুক দিতে না পারায় রাতভর শারীরিক নির্যাতন শেষে সকালে গায়ে কেরোসিন ঢেলে আগুন ধরিয়ে দেয় পাষণ্ড স্বামী মো. রাসেল । বিবি অায়েশার তলপেট থেকে গলা পর্যন্ত পুড়ে যায়। গত ১৪ আগষ্ট এ ঘটনা ঘটে।

 

বিবি আয়েশার বাবা মো. মোস্তাফিজুর রহমান একই ইউনিয়নের চেয়ারম্যান পাড়ার বাসিন্দা এবং স্থানীয় একটি চা দোকানে দিন মজুরের কাজ করে সংসার চালান তিনি। মা রোশনা বেগম ২০১৩ সালে মারা যান।

 

পাঁচ ভাই বোনের মধ্যে আয়েশা দ্বিতীয়। স্বামী রাসেল সোলেমান বাজার পাড়ার বাসিন্দা মো. শাহাজাহান পিসি’র ছেলে। সে চট্টগ্রামস্থ সাইফুল আজিম ভুইয়া নামের এক ব্যক্তির বাগান ম্যানেজার হিসেবে কর্মরত বলে জানা গেছে।

 

সূত্রে জানা যায়, ২০১৪ সালে এসএসসি পরীক্ষার তিন মাস পর বিবি আয়েশার সঙ্গে রাসেলের আনুষ্ঠানিকভাবে বিয়ে হয়। বিয়ের ৩-৪ মাস পর থেকে তাকে যৌতুকের জন্য চাপ সৃষ্টি করতে থাকে রাসেল। সাধ্যানুযায়ী বাবার বাড়ি থেকে স্বামীকে টাকা এনে দিতেন বিবি আয়েশা। কিন্তু এতেও সন্তুষ্ট ছিলো না রাসেল। সে আয়েশার কাছে আরো যৌতুক দাবি করে। কিন্তু আয়েশা যৌতুক দিবে না জবাব দিলে ক্ষিপ্ত হয় স্বামী রাসেল। শুরু করে শারিরীক ও মানসিক নির্যাতন।

 

এক পর্যায়ে গত ১৪ আগস্ট আয়েশার ওপর শারীরিক নির্যাতন চালায় রাসেল। পরদিন সকালে স্ত্রীর গায়ে কেরোসিন ঢেলে লাথি মেরে রান্না ঘরের জলন্ত চুলার মধ্যে ফেলে দিয়ে কোলের শিশুকে কেড়ে নেয় স্বামী রাসেল। এতে তার শরীরের গলা থেকে নাভি পর্যন্ত আগুনে পুড়ে যায়। পরে আয়েশাকে আশপাশের লোকজন এগিয়ে গিয়ে স্থানীয় চেয়ারম্যান মো. জসিম উদ্দিনের সহায়তায় উদ্ধার করে প্রথমে লোহাগাড়া হাসপাতালে ভর্তি করেন। সেখানে দায়িত্বরত চিকিৎসক তার অবস্থার অবনতি দেখে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠিয়ে দেন। এ ঘটনায় বিবি আয়েশার দরিদ্র পরিবার প্রতিকার চেয়ে আইনের আশ্রয় নেননি। এর কারণ হিসেবে জানান, আইনের আশ্রয় নিতে গেলে টাকা লাগবে। টাকা কোথায় পাবে, এমন দুর্চিন্তা গ্রস্থ আয়েশার অভিভাবক থানা পুলিশ করেননি।

 

তারা আরো জানায়, ঘটনার পর আজিজনগর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানের আর্থিক সহায়তায় বিবি আয়েশাকে তাৎক্ষনিক চমেক বার্ণ ইউনিটে ভর্তি করানো হয়। প্রতিদিন চিকিৎসা বাবদ ৩ হাজার টাকার প্রয়োজন। তাই খরচের অভাবে আশংকাজনক অবস্থাতেও তাঁকে বাড়িতে নিয়ে আসা হয়। বর্তমানে বাড়িতেই চিকিৎসার অভাবে মৃত্যুর সাথে পাঞ্জা লড়ছেন বিবি আয়েশা। স্বামী কিংবা শ্বশুর পক্ষীয়রা এ পর্যন্ত কোন খোঁজ খবর নেয়নি তার বরং শিশুকে মায়ের কোলে ফিরিয়ে দেওয়ার জন্য বললে, তারা বিভিন্ন ধরনের হুমকি-ধমকি দিচ্ছেন। এদিকে, অভিযুক্ত স্বামী রাসেলের মুঠোফোনে একাধিকবার রিং করেও বক্তব্য নেয়া সম্ভব হয়নি।

বৃহস্পতিবার বিকালে সরজমিন ক্ষতিগ্রস্ত আয়েশার পিত্রালয়ে দেখা যায়, বিছানায় কাতরাচ্ছেন আয়েশা। ঝলসে যাওয়া শরীরের যন্ত্রণার কারণে ঠিকমত কথা বলতে পারছেন না। এ সময় কথা হয় আয়েশার দাদী সিরাজ খাতুন, ফুফু কুলসুমা বেগম ও ছোট ভাই মোবারক হোসেনের সঙ্গে। তারা কান্না জড়িত কণ্ঠে জানান, ‘এসএসসি পরীক্ষার দেওয়ার এক বছর আগে আয়েশার মা মারা যান। গরীব বাবার পক্ষে পড়ালেখা ও সংসার চালানো কষ্ঠ সাধ্য হয়ে পড়ে। এ কারণে মেয়ের ভবিষ্যত চিন্তা করে আনুষ্ঠানিকভাবে রাসেলের সঙ্গে আয়েশার বিয়ে দেন তারা। কিন্তু রাসেল তাকে প্রতিনিয়ত যৌতুক দাবি করে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন করে আসছিল। শেষের দাবীকৃত ৫০ হাজার টাকা দিতে না পারায় আয়েশাকে আগুনে পুড়ে মারার চেষ্টা করেছে সে।

 

 

ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে আজিজনগর ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান মো. জসিম উদ্দিন কোম্পানী বলেন, ঘটনাটি অত্যন্ত অমানবিক। বর্তমানে অর্থভাবে দ্বগ্ধ আয়েশার চিকিৎসা চালাতে পারছেন না তাঁর দরিদ্র পরিবার। তাকে চিকিৎসা সহায়তার জন্য সমাজের বিত্তশালীদের সহায়তা কামনা করছি। আায়েশার জন্য সাহায্য পাঠানোর বিকাশ নং- ০১৮৫৮৩৪৮২৯২ (বড় ভাই নবী হোসেন), একই সাথে আইন প্রয়োগকারী সংস্থার নিকট আইনি সাহার্য্য কামনা করেন তিনি।

 

এ বিষয়ে লামা থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. আনোয়ার হোসেন জানান, এ ঘটনায় পাষণ্ড স্বামী রাসেলের বিরুদ্ধে দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *