চট্টগ্রাম, , বুধবার, ১৮ মে ২০২২

admin

রোহিঙ্গা বসতিতে সবুজের পাহাড় ন্যাড়া

প্রকাশ: ২০১৭-১০-০২ ২২:৪১:২০ || আপডেট: ২০১৭-১০-০২ ২২:৪১:২০

কাইছার হামিদ, উখিয়া ঘুরে এসে: এখনো  প্রতিদিন সীমান্ত দিয়ে অনুপ্রবেশ করছে রোহিঙ্গা। রোহিঙ্গা বসতি গড়ে ওঠছে সবুজ পাহাড় কেঁটে। সবুজ পাহাড় হয়ে যাচ্ছে ন্যাড়া। গত শুক্রবার ঘুরে এলাম উখিয়া রোহিঙ্গা পল্লী থেকে। বিভিন্ন এলাকায় রোহিঙ্গারা পাহাড় কেঁটে পাহাড়ের পাদদেশে নতুন বস্তি গড়ে তোলেছে। পাহাড় ও জঙ্গল কেঁটে দিন- রাত চলছে বাশঁ ও পলিথিন দিয়ে ঘর তোলার কাজ। প্রকাশ্যে এ তৎপরতা চললেও ওই বিষয়ে নজর নেই প্রশাসনের। পাহাড়ের পাদদেশে গড়ে তোলা রোহিঙ্গা বসতিতে পাহাড় ধসের অাশংকাও রয়েছে।

 

সূত্রে প্রকাশ, রোহিঙ্গারা ইতিমধ্যে বনবিভাগের সাড়ে চারশত একর বনভূমি দখল করেছে। এর অাগে প্রায় ছয় শত একর বনভূমি জবর দখল রয়েছে। সরজমিনে পরিদর্শনে দেখা যায়, উখিয়ার পালংখালি ইউনিয়নের বালুখালি, ঢালার মূখ, তাজনির মা’র খোলা, হাকিম পাড়া ও টেকনাফের হোয়াইক্যাং ইউনিয়নের পুটিবনিয়া, রইক্ষ্যং, থাইংখালি এবং নাইক্ষ্যংছড়ী এলাকার বাঁশবাগান, ঘুমধুম এলাকার পাহাড়ীভূমি দখল করে বসবাস শুরু করেছে। এসব এলাকার পথে পথে নারী-পুরুষের দীর্ঘ সারি। হাতে বস্তা, কুড়াল, বাশঁ, পলিথিন ও শুকনা খাবার। অধিকাংশ নারীর কূলে রয়েছে শিশু।

 

কয়েকটা রাতের ব্যবধানে পাহাড় হয়ে যাচ্ছে ন্যাড়া। যতদূর দেখা যায় পাহাড়ের চূড়ায়, পাদদেশে হাজার হাজার পলিথিনের ছাউনিযুক্ত ঘর। রোহিঙ্গাদের নিয়ে অনেকে বাণিজ্য শুরু করেছেন। প্রভাবশালীরা বনবিভাগের জায়গা টাকার বিনিময়ে রোহিঙ্গাদের কাছে বরাদ্দ দিচ্ছেন। বেশিরভাগ ঘর আয়তনে আট বাই দশ ফুট।

 

কথা হয় থ্যাইংখালি পাহাড়ের চূড়ায় অবস্থান করা রোহিঙ্গা নারী রহিমার সাথে। তিনি প্রতিবেদককে জানান, আমার স্বামী লাকড়ীর জন্য  প্বার্শবর্তী পাহাড়ে গেছে। আমাদের হাতে জমানো কোন কিয়াট নেই। নাফ নদী পার হওয়ার সময় সব নৌকার মাঝি নিয়ে ফেলেছে। কানের দুল দিয়ে এ জায়গায় ঘর করে আশ্রয় নিয়েছি। কি পরিমাণ বনভূমি রোহিঙ্গারা দখল করেছে তার প্রকৃত তথ্য বনবিভাগের কর্মকর্তারাও জানেন না। প্রকৃত পরিসংখ্যান জানাতে না পারলেও ধারনা করা হচ্ছে সাড়ে চারশত একর বনভূমি রোহিঙ্গাদের দখলে।

 

এখনও রোহিঙ্গা স্রোত থামানো যাচ্ছে না। প্রতিনিয়ত রোহিঙ্গারা অাসছে। জবর দখল হচ্ছে বনভূমি। ন্যাড়া হচ্ছে পাহাড়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *