চট্টগ্রাম, , শুক্রবার, ২০ মে ২০২২

admin

কোনো সমস্যা দেখে ভয় পায় না বাংলাদেশ : প্রধানমন্ত্রী

প্রকাশ: ২০১৭-১০-০৬ ১৮:২৪:৪০ || আপডেট: ২০১৭-১০-০৬ ১৮:২৪:৪০

 

বীর কন্ঠ ডেস্ক: প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ডাকে সাড়া দিয়ে আমরা বাঙালি জাতি যুদ্ধ করে এদেশ স্বাধীন করেছি। ফলে কোনো সমস্যা দেখা দিলে আমরা কখনো ভয় পাই না। মিয়ানমার থেকে নির্মমভাবে তাড়িয়ে দেয়া লাখ লাখ লোক (রোহিঙ্গা) বাংলাদেশে চলে আসা সত্ত্বেও এদেশ এগিয়ে যাবে।

 

যুক্তরাজ্য ও ইউরোপীয় অন্যান্য দেশের আওয়ামী লীগ নেতৃবৃন্দের সঙ্গে গতকাল (৫ অক্টোবর) প্রধানমন্ত্রীর হোটেল কক্ষে এক মতবিনিময়ের বরাত দিয়ে তার প্রেস সচিব ইহসানুল করিম এসব কথা জানিয়েছেন।

 

শেখ হাসিনা বলেন, ‘আমরা বরং এই সমস্যা (রোহিঙ্গা সংকট) মোকাবেলা করার মাধ্যমে আরও এগিয়ে যেতে চাই। মিয়ানমারের একজন সিনিয়র প্রতিনিধির সাম্প্রতিক ঢাকা সফরের মাধ্যমে এ সংকট সমাধানে আলোচনা শুরু হয়েছে। তবে বাংলাদেশের জনগণ সব সময় মানবতায় বিশ্বাস করে। মানবিক দিক বিবেচনা করে মিয়ানমার ছেড়ে চলে আসতে বাধ্য হওয়া এসব লোকজনকে আশ্রয় দিতে আশ্রয় কেন্দ্রের সংখ্যা বৃদ্ধি করা হয়েছে।’

 

তিনি আরও বলেন, ‘মানুষ মানুষের জন্য। ফলে আমরা তাদেরকে (রোহিঙ্গা) বঙ্গোপসাগরে ফেলে দিতে পারি না। আমরা ১৬ কোটি মানুষকে খাওয়াতে পারলে তাদের এই চরম দুঃসময়ে অতিরিক্ত ৫ থেকে ৭ লাখ লোককেও খাওয়াতে পারব। প্রয়োজন হলে আমরা দিনে এক বেলা খাব এবং অপর বেলার খাবার চরম বিপদে পড়া এসব লোককে দেব। আমরা ধনী না হলেও আমাদের হৃদয় অনেক বড় এবং আমাদের অবস্থান মানবতার পক্ষে।’

 

মিয়ানমার থেকে পারিয়ে এসে বাংলাদেশে আশ্রয় নেয়া দুর্ভাগা রোহিঙ্গাদের কক্সবাজারের ভাসান চরে স্থানান্তর করা হবে বলেও জানান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

 

জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৭২তম অধিবেশনে অংশ নিতে নিউইয়র্কে যাওয়ার আগেপ্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তার ছোট বোন শেখ রেহেনাকে সঙ্গে নিয়ে কক্সবাজারে রোহিঙ্গাদের বিভিন্ন শিবির পরিদর্শন করেন এবং মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্য থেকে পালিয়ে আসা নারী ও শিশুদের কাছ থেকে তাদের বিভিন্ন লোমহর্ষক অভিজ্ঞতার বর্ণনা শোনেন।

 

তিনি বলেন, জনপ্রশাসন, সেনাবাহিনী, নৌবাহিনী ও বিমানবাহিনী, বিজিবি, পুলিশ এবং তার দলের (আওয়ামী লীগ) স্বেচ্ছাসেবকরা এসব লোকের ভোগান্তি দূর করতে কঠোর পরিশ্রম করছে। কোনো বৈদেশিক সাহায্যের অপেক্ষায় না থেকে আমরা সাধ্য অনুযায়ী তাদের থাকা, খাওয়া ও ঔষধের ব্যবস্থা করেছি। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় বাংলাদেশের জনগণের এ ধরনের বদান্যতা দেখে বিস্মিত হয়েছে।

 

১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট বিশ্বাসঘাতকদের হাতে বঙ্গবন্ধু নির্মমভাবে নিহত হওয়ার পর শেখ হাসিনা বিদেশে শরণার্থী হিসেবে তার নিজের জীবনের কথা স্মরণ করে বলেন, ‘আমি ও আমার বোন ছয় বছর ধরে এ ধরনের জীবনযাপন করায় শরণার্থী জীবনের ব্যাপারে আমরা ভালো জানি।’

 

উল্লেখ্য, জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে যোগদানসহ যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যে তিন সপ্তাহের সফর শেষে শনিবার (৭ অক্টোবর) সকালে দেশে ফিরছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। সকাল ৯টা ২০ মিনিটে হযরত শাহজালাল আর্ন্তজাতিক বিমানবন্দরে এসে পৌঁছবেন তিনি।

 

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *