চট্টগ্রাম, , মঙ্গলবার, ১৮ জুন ২০২৪

admin

লামায় রোহিঙ্গা ভাগিনার হাতে মামা খুন

প্রকাশ: ২০১৭-১০-১২ ১৪:১৬:০৩ || আপডেট: ২০১৭-১০-১২ ১৪:১৬:০৩

 

বেলাল আহমদ,  (বিশেষ ) প্রতিনিধি: বান্দরবানের লামার সরই ইউনিয়নে মাকে নিয়ে বিরোধের জের ধরে খুন হয়েছে নুর হোসেন (২৮) নামে এক রোহিঙ্গা। বুধবার দিবাগত রাত ২টায় ইউনিয়নের ৭নং ওয়ার্ড চেয়ারম্যান পাড়া এলাকায় জনৈক জসিমের খামার বাড়িতে এই খুন হয় বলে জানায় নিহতের স্ত্রী নুর ফাতেমা। লামা থানা পুলিশের অফিসার ইনচার্জ আনোয়ার হোসেন বলেন, পুলিশ লাশ উদ্ধার করেছে। প্রাথমিক সুরহাতাল শেষে লাশ ময়নাতদন্তের জন্য বান্দরবান জেলা হাসপাতালে প্রেরণ করা হবে। 

নিহতের স্ত্রী নুর ফাতেমা (২৩) বলেন, দুইদিন আগে আমার স্বামীর ভাগিনা ইউছুপ তার ভাগিনী জামাই মো. ইউছুপ দুইজন এখানে বেড়াতে আসে। গতকাল দুপুরে তারা চলে যায়। তারা আমার শাশুড়ি হাজেরা বেগমকে নিয়ে যেতে চায়। কিন্তু আমার স্বামী তাকে না দিলে তার রাগ করে চলে যায়। পরে গভীর রাতে দুই সিএনজি করে ভাড়াটিয়া লোক নিয়ে এসে আমার স্বামীকে কুপিয়ে খুন করে ও শাশুড়িকে নিয়ে যায়। আমার স্বামীর দুই ভাই নুর হাসি ও নুর আলী মালয়েশিয়া ও বড় ভাই কালা মিয়া অষ্ট্রেলিয়া থাকে। তারা সেখান থেকে টাকা পয়সা দিয়ে ও তাদের হুকুমে ভাগিনা ইউছুপ ও ভাগিনী জামাই মো. ইউছুপ ভাড়াটিয়া খুনি দিয়ে এই ঘটনা ঘটিয়েছে।

জানা গেছে, ৫/৬ মাস আগে পরিবার নিয়ে পাশর্^বর্তী চকরিয়া উপজেলার মানিকপুর থেকে লামার সরই ইউনিয়নে বসবাসের জন্য আসে নুর হোসেন। তারা ৪ ভাই। সে ছাড়া বাকী ৩ ভাই অষ্ট্রেলিয়া ও মালয়েশিয়া থাকে। নুর হোসেন তার পরিবার রোহিঙ্গা এবং তারা আগে কক্সবাজারের উখিয়া এলাকায় থাকত। নিহত নুর হোসেন সরই ইউনিয়নের ৭নং ওয়ার্ড চেয়ারম্যান পাড়া এলাকায় মো. জসিম উদ্দিনের খামার বাড়িতে চাষা হিসেবে থাকত ও চাষাবাদ করত।

খামারের মালিক জসিম উদ্দিন বলেন, নুর হোসেন তার স্ত্রী সন্তান নিয়ে ৫/৬ মাস আগে এখানে আসে। তারা নিজেদের বাংলাদেশী পরিচয় দেয় এবং জন্মনিবন্ধন দেখায়। ভোটার আইডি কার্ড চাইলে বলে, আমরা নতুন ভোটার হয়েছি কয়েকদিন পরে দিব। কিছুদিন আগে নুর হোসেন তার মা হাজেরা বেগমকেও এখানে নিয়ে আসে। পরে জানা যায় তার রোহিঙ্গা।

স্থানীয় ইউপি মেম্বার আশ্রফ আলী বলেন, সকালে খুনের ঘটনা শুনে আমরা ছুটে আসি। ঘরের ভিতরে জবাই করা রক্তাক্ত লাশ পড়ে থাকতে দেখি। লাশের হাত দুইটি কেটে ফেলা হয়েছে। সামান্য একটু লেগে আছে। নিহতের স্ত্রী ও দেড় বছরের সন্তান আব্দুল খালেক এর কান্না পরিবেশ ভারী হয়ে আসে।

এবিষয়ে সরই ইউপি চেয়ারম্যান ফরিদ-উল আলম বলেন, তারা রোহিঙ্গা। তাদের আগের বাড়ি কক্সবাজারের উখিয়া। নিহতের স্ত্রী নুর ফাতেমা খুনিদের চিনতে পেরেছে বলে পুলিশ ও আমাদের জানিয়েছে।

খুনের ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে লামা থানার অফিসার ইনচার্জ আনোয়ার হোসেন বলেন, খুব নিশংস ভাবে হত্যা করা হয়েছে। প্রকৃত ঘটনা উদ্ধার ও খুনিদের দ্রুত গ্রেফতারে কাজ করছে পুলিশ।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *