চট্টগ্রাম, , শুক্রবার, ২১ জুন ২০২৪

admin

পুলিশের হয়রানি বন্ধসহ ১১ দফা দাবিতে চট্টগ্রামে চলছে অনির্দিষ্টকালের পরিবহন ধর্মঘট 

প্রকাশ: ২০১৭-১২-০৩ ১৩:৩৮:০৫ || আপডেট: ২০১৭-১২-০৩ ১৩:৩৮:০৫

স্টাফ রিপোর্টার :

পুলিশের হয়রানি বন্ধসহ ১১ দফা দাবিতে চট্টগ্রামে অনির্দিষ্টকালের পরিবহন ধর্মঘট চলছে। রোববার সকাল ৬টা থেকে মেট্রোপলিটন গণপরিবহন বাস মালিক সংগ্রাম পরিষদের ডাকে ওই ধর্মঘট শুরু হয়।

 

ধর্মঘটের কারণে সকাল থেকে নগরীর বিভিন্ন সড়কে জনজীবনে দুর্ভোগ দেখা দেয়। চট্টগ্রাম মহানগর ও জেলার কোথাও রিকশা ছাড়া অন্য কোনো যানবাহন চলছে না। ফলে বেশ ভোগান্তিতে পড়তে হয়েছে লোকজনকে। গণপরিবহন না পেয়ে ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করতে হয় অফিসমুখী লোকজনকে। আবার গাড়ি না পেয়ে কর্মস্থলেই যাননি অনেকে।

এদিকে নগরীর কর্ণফুলী শাহ আমানত ব্রিজ ও ইপিজেড এলাকায় পিকেটিং করার সময় চার পরিবহন শ্রমিককে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।

 

গণপরিবহন মালিক-শ্রমিক সংগ্রাম পরিষদের সভাপতি বেলায়েত হোসেন বেলাল জানান, পুলিশের হয়রানি বন্ধসহ ১১ দফা দাবিতে সকালে এ পরিবহন ধর্মঘট শুরু হয়। পরিবহনের সাত সংগঠনের মধ্যে ছয়টি এ আন্দোলনের সঙ্গে একাত্মতা প্রকাশ করেছে।

 

পুলিশি হয়রানি বন্ধ, অনুমোদন ও ফিটনেসবিহীন যানবাহন বন্ধের দাবিতে অনির্দিষ্টকালের গণপরিবহন ধর্মঘট করছে গাড়িমালিকদের একাংশ। এতে রোববার (৩ ডিসেম্বর) সকাল ছয়টা থেকে দুর্ভোগে পড়েছেন অফিসমুখো মানুষ।

শত শত মানুষ বেশি ভাড়ায় রিকশা, সিএনজি অটোরিকশায় কর্মস্থলে গেলেও অনেকে হেঁটে গন্তব্যে পৌঁছাতে দেখা গেছে। ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জানিয়ে বাদুরতলার যাত্রী আবদুর রহমান বলেন, ‘পূর্বঘোষণা ছাড়া এ ধরনের ধর্মঘটের কারণে দাঁড়িয়ে আছি এক ঘণ্টা হলো। সুযোগ পেয়ে ২০ টাকার রিকশাভাড়া ৫০ টাকা দাবি করছে। ৬০ টাকার সিএনজি অটোরিকশাভাড়া ১২০ টাকা চাইছে। সবচেয়ে অসুবিধার হচ্ছে বাড়তি ভাড়ায়ও গাড়ি মিলছে না।’

 

শুধু বাদুরতলা নয়, চকবাজার, আন্দরকিল্লা, কাজীর দেউড়ি, লালখানবাজার, টাইগারপাস, বহদ্দারহাট, আগ্রাবাদসহ পুরো নগরীতেই অপেক্ষমাণ যাত্রীদের জটলা দেখা গেছে। সাপ্তাহিক ছুটি ও ঈদে মিলাদুন্নবীর ছুটি শেষে অনেকে গ্রামের বাড়ি থেকে শহরের প্রবেশমুখগুলোতে এসেছে পড়েছেন দুর্ভোগে।

চট্টগ্রাম মেট্রো গণপরিবহন মালিক সংগ্রাম পরিষদের আহ্বায়ক পরিচয় দিয়ে বেলায়েত হোসেন বেলাল বলেন, বাস, মিনিবাস, হিউম্যান হলার, টেম্পুসহ সব ধরনের গণপরিবহন ধর্মঘটের আওতায় রয়েছে। আমাদের পরিষদের অধীনে দেড় হাজারের বেশি গাড়ি রয়েছে। এসব গাড়ি পরবর্তী দাবি আদায়ের ঘোষণা না দেওয়া পর্যন্ত চলবে না।

যাত্রীর তুলনায় গাড়ির সংকট থাকলে কিছু কিছু গণপরিবহন চলাচল করা প্রসঙ্গে বেলায়েত হোসেন বলেন, লুসাই মোটরসের গাড়িগুলো চলছে। আমাদের আন্দোলন তাদের অবৈধ গাড়ি, রেজিস্ট্রেশনবিহীন গাড়ি, নির্দিষ্ট রুটের বাইরে চলাচলরত গাড়ি বন্ধের দাবিতে। এখন তাদের কারণে গণপরিবহনে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হচ্ছে। আমরা এর থেকে মুক্তি চাই। আমরা ১১ দফা দাবিতে দীর্ঘদিন আন্দোলন করে আসছি। এখন দেয়ালে পিঠ ঠেকে গেছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *