চট্টগ্রাম, , রোববার, ২৮ নভেম্বর ২০২১

Alauddin Lohagara

বান্দরবানে শুরু হয়েছে ঐতিহ্যবাহী রাজপুন্যাহ মেলা

প্রকাশ: ২০১৭-১২-২১ ২০:১১:৪৩ || আপডেট: ২০১৭-১২-২১ ২০:১১:৪৩

বি.কে বিচিত্র, বান্দরবান জেলা প্রতিনিধিঃ

বান্দরবানে ঐতিয্যবাহী বোমাং সার্কেলের খাজনা বা জুম কর আদায় আজ বৃহস্পতিবার (২১ ডিসেম্বর) সকালে আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হয়েছে।

তিনদিন ব্যাপী অনুষ্ঠানের প্রথম দিনে ১৭তম বোমাং রাজা প্রকৌশলী উ চ প্রু চৌধুরী রাজকীয় পোশাক পরে, তরবারি হাতে নিয়ে রাজ প্রাসাদ থেকে অতিথিদের সাথে নিয়ে পুরাতন রাজবাড়ী মাঠে অস্থায়ী আলোচনা সভা মঞ্চে আসেন। ১৪০তম রাজপুন্যাহ উপলক্ষে রাজ প্রাসাদ থেকে বাদক দলের বাঁশির সুরে পাইক-পেয়াদা, সৈন্য-সামন্ত, উজির-নাজিররা গার্ড অব অনার দেবেন রাজাকে।

 

এ সময় রাজকীয় পোশাকে রাজাকে একনজর দেখার জন্য রাস্তার দুপাশে দাঁড়িয়ে অপেক্ষা করে উৎসক জনতা। তারা রাজাকে ফুল ছিটিয়ে স্বাগত জানান পর্যটক ও প্রজারা।

 

আলোচনা সভা শেষে ১০৯ মৌজার হেডম্যান, পাড়া কারবারি ও পাইসিংরা উপঢৌকন হিসেবে মোরগ, মদ ও মাথা নুইয়ে জুম খাজনা প্রদান করেন।

 

পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের এমপি রাজপূণ্যাহ মেলার প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন। এসময় পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী বীর বাহাদুর এমপি, বান্দরবান রিজিয়ন কমান্ডার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল যুবায়ের সালেহীন, জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান ক্যশৈহ্লা, জেলা প্রশাসক দিলীপ কুমার বণিক, পুলিশ সুপার সাঞ্জিত কুমার রায়, ইউনডিপি’র প্রতিনিধি প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

বংশ পরাম্পরায় ১৪০তম রাজপুন্যাহ মেলার এটি হবে বর্তমান রাজা উ চ প্রু চৌধুরী’র চতুর্থ রাজপূণ্যাহ উৎসব। ১৮৭৫ সালে ৫ম তম বোমাং রাজা সাক হ্ন ঞো’র আমল থেকে বংশ পরস্পরায় ধারাবাহিকভাবে প্রতিবছর ঐতিহ্যবাহী রাজপুন্যাহ উৎসব হয়ে আসছে। রাজপুণ্যাহ পাহাড়ী-বাঙ্গালীর মিলন মেলায় পরিণত হয়।

বোমাং সার্কেলের অর্ন্তগত ৭টি উপজেলার ৯৫টি মৌজা এবং রাঙ্গামাটি জেলার কাপ্তাই ও রাজস্থলী উপজেলার ১৪টি মৌজাসহ মোট ১০৯টি মৌজার হেডম্যান, ৮ শতাধিকেরও বেশি কারবারির কাছ থেকে জুমের বাৎসরিক খাজনা ও ঐতিহ্যবাহী উপঢৌকন আদায় করা হয় এ অনুষ্ঠানে।

 

পুলিশ সূত্র জানান, রাজপূণ্যাহ মেলায় নিরাপত্তায় সব ধরনের ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। নিয়মিত বাহিনীর পাশাপাশি সাদা পোশাকধারী আইনশৃঙ্খলা বাহিনী মাঠে থাকবে।

 

রাজপুণ্যায় বিভিন্ন পণ্যের স্টল, হাউজি, পুতুল নাচ, বিচিত্রানুষ্ঠান, মৃত্যুকুপ, নাগরদোলা, যাত্রাপালাসহ নানা রকম বিনোদনমুলক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে।

 

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *