চট্টগ্রাম, , বৃহস্পতিবার, ১১ আগস্ট ২০২২

Alauddin Lohagara

মালয়েশিয়ায় পাসপোর্ট জালিয়াত চক্রের হোতা চট্টগ্রামের মোজাম্মেল গ্রেফতার

প্রকাশ: ২০১৮-০৩-০৭ ২০:৪০:২১ || আপডেট: ২০১৮-০৩-০৭ ২০:৪০:২১

বীর কণ্ঠ ডেস্ক :

মালয়েশিয়ায় পাসপোর্ট জালিয়াত চক্রের হোতা ৫০ বছর বয়সের বাংলাদেশি মাস্টারমাইন্ড চট্টগ্রামের মোজাম্মেল হক। তার সঙ্গে আরও ১৮ বাংলাদেশিসহ মোট ২৬ জনকে গ্রেফতার করেছে মালয়েশিয়া ইমিগ্রেশন বিভাগ। সোমবার ক্লাং নামক স্থান থেকে তাদের আটক করা হয়েছে।ইমিগ্রেশনের দাবি, এটি মালয়েশিয়ার সবচেয়ে বড় পাসপোর্ট জালিয়াতির সিন্ডিকেট।

 

মালয়েশিয়া ইমিগ্রেশন বিভাগের মহাপরিচালক দাতুকে সেরি মোস্তাফার আলী সাংবাদিকদের বলেন, সোমবার রাতে ক্লাং উপত্যকায় ১৮ জন বাংলাদেশিকে পাসপোর্ট জালিয়াতির সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে আটক করা হয়েছে। গ্রেফতারকৃতদের মধ্যে দুজন পাকিস্তানি, চারজন ইন্দোনেশিয়ান নারী, একজন ফিলিপাইন নারী এবং একজন স্থানীয় নাগরিক রয়েছে।

তিনি বলেন, গ্রেফতারের সময় তাদের কাছ থেকে দুটি গাড়ি, সহস্রাধিক জাল পাসপোর্ট, ইমিগ্রেশন রাবার স্ট্যাম্প, বিদেশি ভিসা স্টিকার, চারটি কম্পিউটার, একটি প্রিন্টার এবং চারটি পেনড্রাইব উদ্ধার করা হয়েছে।

ইমিগ্রেশন ডিপার্টমেন্ট সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে দাতুক সেরি মোস্তাফার আলী সাংবাদিকদের জানান, দীর্ঘদিন ধরে চক্রটি বাংলাদেশের জাল পাসপোর্ট তৈরির পাশাপাশি মালয়েশিয়াসহ বেশ কয়েকটি দেশের পাসপোর্ট ও ভিসা জাল করে আসছে।

কুয়ালালামপুরের শ্রী পেটেলিংয়ে ভাড়া বাসাতে তার পরিবার নিয়ে বসবাস করত ৫০ বছর বয়সী মাস্টারমাইন্ডের এই বাংলাদেশি। তিনি যে বাসায় থাকতেন তার পাশের বাসাতে থাকত পরিবার। সেখানেও পাসপোর্ট তৈরির সরঞ্জাম পাওয়া যায়। পরে তার পরিবারের সদস্যদের আটক করা হয় বলে জানিয়েছে ইমিগ্রেশন বিভাগ

৫০ বছর বয়স্ক মোজাম্মেল তার জালিয়াতি লুকানোর জন্য সে নামে মাত্র আরও বেশকিছু ব্যবসা প্রতিষ্ঠান চালু করেছে বলে জানান মোস্তাফার। ২০০৫ সালে মোজাম্মেল ভ্রমণ ভিসায় পরিবার নিয়ে মালয়েশিয়ায় বেড়াতে আসেন। পরে জালিয়াতির মাধ্যমে এখানেই থেকে যান।

মোস্তাফার আলী বলেন, পাসপোর্ট তৈরির আগে মোজাম্মেল মালয়েশিয়ায় সাধারণ বিমা, টেক্সটাইল, রেস্তোরাঁয় চুক্তিমূলক কাজ এবং তার অপরাধ ঢাকার জন্য সামাজিক কাজকর্ম চালু করেন।

সিন্ডিকেটটি নকল বাংলাদেশি শিক্ষা সার্টিফিকেট তৈরি করে বিভিন্ন কাজে যোগদানের জন্য বাংলাদেশিদের সহযোগিতা করে বলে জানান দেশটির ইমিগ্রেশন মহাপরিচালক। তিনি বলেন, এই সিন্ডিকেট বাংলাদেশি বা অন্যদেশের নাগরিকদের মালয়েশিয়ায় নিয়ে এসে জাল ভিসা তৈরি করে কানাডা, সিঙ্গাপুর, সুইজারল্যান্ড, কোরিয়া, জাপানসহ আরও কয়েকটি দেশে তাদের পাঠানোর ব্যবস্থা করে।খোজ নিয়ে জানা গেছে, গত ২৬ জানুয়ারি মালয়েশিয়ার বাংলাদেশ দূতাবাসে দালালি করতে গিয়ে মোহাম্মদ মোজাম্মেল হককে আটক করে পুলিশে সোপর্দ করে দূতাবাস।

 

দূতাবাস সূত্রে জানা গেছে, মোজাম্মেল ওই দিন নিজেকে ভূমি জেরনির পরিচালক পরিচয় দেয়। কিন্তু সিস্টেমে থাকা কোম্পানির প্রোফাইলে মোজাম্মেল নামক কোনো পরিচালকের নাম পাওয়া যায়নি। এতে আরও সন্দেহ হয় দূতাবাস কর্মকর্তাদের।

ওই কোম্পানির পরিচালকের কাছে জানতে চাইলে তিনি জানান, বাংলাদেশ থেকে ১৫০ জন কর্মী এনে দেবে। এর বিনিময়ে তাকে পরিচালক করার প্রক্রিয়া চলছে।

উল্লেখ্য, ২০০৯ সালে মোজাম্মেল হক নকল পাসপোর্ট করার মেশিনসহ ধরা পড়েছিল মালয়েশিয়া পুলিশের হাতে। -যুগান্তর

 

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *