চট্টগ্রাম, , শুক্রবার, ২১ জানুয়ারী ২০২২

admin

সন্ত্রাসীদের গুলিতে নিহতদের শেষকৃত্য সম্পন্ন: পাহাড় জুড়ে শোকের মাতম

প্রকাশ: ২০১৮-০৮-১৯ ২২:৩৪:০১ || আপডেট: ২০১৮-০৮-১৯ ২২:৩৪:০১

শংকর চৌধুরী, খাগড়াছড়ি:

খাগড়াছড়িতে সন্ত্রাসীদের গুলিতে নিহতদের লাশ স্বজদের হাতে হস্তান্তর করেছেন খাগড়াছড়ি সদর থানা পুলিশ। নিহতদের লাশ এলাকায় পৌঁছালে স্বজনদের কান্নায় ভারি হয়ে উঠে পুরো খাগড়াছড়ি। পাহাড় জুড়ে বইছে শোকের মাতম।

প্রকাশ্য দিবালোকে সন্ত্রাসীদের স্বশস্ত্র হামলার ঘটনায় আতঙ্কিত হয়ে উঠেছে সাধারন মানুষ। গভীর অরণ্যের সীমানা ছাড়িয়ে এখন প্রকাশ্যে ঘটছে আঞ্চলিক সংগঠন গুলোর স্বশস্ত্র হামলার ঘটনা। তবে এসব আধিপত্য বিস্তারের লড়াইয়ে প্রতিপক্ষ সংগঠনের নেতাকর্মী ছাড়াও সন্ত্রাসীদের গুলিতে বলি হচ্ছে সাধারণ মানুষ।

শনিবার (১৮ আগষ্ট) খাগড়াছড়ি শহরের স্বনির্ভর এলাকায় প্রতিপক্ষের গুলিতে ইউপিডিএফ নেতাকর্মীসহ ৭ জনের নিহতের পর এখনো আতঙ্ক কাটেনি। ব্যস্ততম স্বনির্ভর বাজারের কোন দোকানপাট খোলেনি। পুরো বাজার জুড়ে আতঙ্কের ছাপ। সাধারন মানুষের চলাফেরায়ও রয়েছে সাবধানতা।

এদিকে, শরিবার প্রতিপক্ষের গুলিতে নিহত ৬ জনের মধ্যে তিনজনের লাশ স্বজনরা নিয়ে গেলেও ইউপিডিএফ সমর্থিত পিসিপি ও গণতান্ত্রিক যুব ফোরাম‘র নেতা তপন চাকমা, এলটন চাকমা ও পলাশ চাকমার লাশ গ্রহণের জন্য কেউ না এলেও রোববার বেলা তিনটার দিকে পুলিশের উপস্থিতিতে দক্ষিন খবং পুড়িয়া এলাকায় নিহত তিন নেতার মরদেহ দলীয় নেতাকর্মীর উপস্থিতিতে তাদের স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করে খাগড়াছড়ি সদর থানা পুলিশ।

খাগড়াছড়ি সদর থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো: সাহাদাত হোসেন টিটো জানান, ‘শনিবার স্বনির্ভর এলাকায় ৬ জনকে হত্যার ঘটনায় এখনো কোন মামলা হয়নি। এই নিয়ে এখনো থানায় কেউ কোন অভিযোগও করেনি। তবে, ঘটনার দিন শনিবার রাতেই খাগড়াছড়ি জেলা প্রশাসন হত্যাকান্ডের তদন্তে ৫ সদস্য বিশিষ্ট একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছেন। অপরদিকে, খাগড়াছড়ির আইন-শৃঙ্খলার উন্নয়নসহ জনমনে স্বস্তি ও আস্থা ফেরাতে বিশেষ অভিযান শুরু করেছে যৌথ বাহিনী। খাগড়াছড়ি পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার এমএম সালাউদ্দিন জানান, অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারে সপ্তাহব্যাপী চলবে এই অভিযান। রোববার গিরিফুল এলাকা থেকে এ বিশেষ অভিযান শুরু হয়েছে বলেও জানান তিনি।

অন্যদিকে, খাগড়াছড়ির স্বনির্ভর এলাকায় প্রতিপক্ষের গুলিতে ইউপিডিএফ নেতাকর্মীসহ ৭ জনের নিহতের প্রতিবাদে সোমবার (২০ আগষ্ট) খাগড়াছড়ি জেলাজুড়ে আধাবেলা সড়ক অবরোধের ডাক দিয়েছে ইউনাইটেড পিপলস ডেমোক্রেটিক ফ্রন্ট-ইউপিডিএফ (প্রসীত খীসা) সমর্থিত তিন সংগঠন।

প্রসঙ্গত, শনিবার (১৮ আগষ্ট) খাগড়াছড়িতে প্রকাশ্য দিবালোকে প্রতিপক্ষের গুলিতে ইউনাইটেড পিপলস ডেমোক্রেটিক ফ্রন্ট-ইউপিডিএফ (প্রসীত খীসা) সমর্থিত তিন নেতাসহ ৬ জন নিহত হয়। এরপর পেরাছড়া এলাকায় বিক্ষোভ মিছিলে হামলার ঘটনায় আরো একজন নিহত হয়। এই ঘটনার জন্য প্রতিপক্ষ আঞ্চলিক সংগঠন পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতি (জেএসএস-এমএন লারমা) ও ইউপিডিএফ (গণতান্ত্রিক)-কে দায়ী করেছে ইউনাইটেড পিপলস ডেমোক্রেটিক ফ্রন্ট-ইউপিডিএফ (প্রসীত গ্র“প)।

তবে, বরাবরের মত এই ঘটনায় নিজেদের কোন সংশ্লিস্টতা নেই অস্বাকীর করে জেএসএস (এমএন লারমা) এর কেন্দ্রীয় সহ-তথ্য ও প্রচার সম্পাদক প্রশান্ত চাকমা জানান, এ হামলার ঘটনার সাথে জেএসএস (এমএন লারমা) কোনভাবেই জড়িত নই। এরা অহেতুক তাদেরকে দোষারোপ করছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *