চট্টগ্রাম, , বৃহস্পতিবার, ২৩ জুন ২০২২

admin

পাহাড়ে হত্যাযজ্ঞ ও চাঁদাবাজি বন্ধে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহবান

প্রকাশ: ২০১৮-০৮-২১ ২১:১৪:৪১ || আপডেট: ২০১৮-০৮-২১ ২১:১৪:৪১

শংকর চৌধুরী,খাগড়াছড়ি:

তিন পার্বত্য চট্টগ্রামে শান্তি চুক্তির পরবর্তী সময়ে পাহাড়ে অনিবন্ধিত আঞ্চলিক সংগঠন গুলোর নিজেদের মধ্যে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে সংঘটিত হত্যাযজ্ঞ, চাঁদাবাজি বন্ধ করে শান্তি ও আস্থা ফিরিয়ে আনতে গেলে পাহাড়বাসীকে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে।

খাগড়াছড়িসহ পাবর্ত্য চট্টগ্রামে আঞ্চলিক সংগঠন গুলোর সংঘাতময় পরিস্থিতির কারণে মানুষের জীবন শঙ্কায় পড়েছে। তাদের সংঘাতে সাধারণ নিরীহ মানুষও মারা যাচ্ছে। অস্থিতিশীল পরিস্থিতি তৈরি করে পাহাড়ের উন্নয়ন অগ্রযাত্রাকে ব্যাহত করতে চায় একটি স্বার্থন্বেষী গোষ্ঠী। তারাই দুর্গম পাহাড়ি অঞ্চলকে ব্যবহার করে গড়ে তুলছে সন্ত্রাসের রাজত্ব। এই সন্ত্রাসীরা পার্বত্য এলাকার শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতেও সন্ত্রাসের ঘাঁটি গড়ে তুলছে। ফলে শিক্ষা কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে। পাহাড়ে শান্তি ফেরাতে সরকার বন্ধ পরিকর।

বাংলাদেশের মানচিত্রের অবিচ্ছেদ্ধ অংশ। অপার সৌন্দর্য্যের লীলাভুমি সম্ভাবনাময় পার্বত্য এলাকাকে নৈরাজ্যের জনপদে পরিনত হতে দেয়া হবে না। সম্প্রাতি খাগড়াছড়ি স্বনির্ভর, হত্যাকান্ডসহ পাহাড়ের বিরাজনমান অস্থিতীশীল পরিস্থিতি নিয়ে খাগড়াছড়িতে আয়োজিত বিশেষ আইনশৃঙ্খলা বিষয়ক মতবিনিময় সভায় এসব কথা বলেন বক্তারা।

মঙ্গলবার (২১ আগস্ট) দুপুরে জেলা সার্কিট হাউসে চট্টগ্রাম বিভাগীয় কমিশনার আব্দুল মান্নানের সভাপতিত্বে এই বিশেষ মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়।

সভায় প্রধান অতিথি বক্তব্যে ভারত প্রত্যাগত শরণার্থী বিষয়ক টাস্কর্ফোস চেয়ারম্যান (প্রতিমন্ত্রী মর্যাদা) ও স্থানীয় সংসদ সদস্য কুজেন্দ্র লাল ত্রিপুরা বলেন, পাহাড়ে সন্ত্রাস ও চাঁদাবাজি বন্ধে সবার আগে এগিয়ে আসতে হবে স্থানীয় হেডম্যান, কার্বারী ও জনপ্রতিনিধিদের। চাঁদাবাজ ও সন্ত্রাসী সর্ম্পকে তথ্য দিয়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে সহযোগিতার আহ্বান জানান তিনি। স্থানীয় জন প্রতিনিধিদের উপর ক্ষোভ প্রকাশ করে তিনি আরো বলেন, নির্বাচন এলেই অনেক জনপ্রতিনিধি আঞ্চলিক সংগঠনের পরোক্ষ ও প্রত্যক্ষ সমর্থন নিয়ে নির্বাচন করেন। এ সব আপনাদের বন্ধ করতে হবে। তিনি বলেন, সরকার শান্তি চুক্তির ৭২ টি দাবির মধ্যে ৪৮টি বাস্তবায়ন করেছে। বাকী দাবি বাস্তবায়ন কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন। পাহাড় ও জনগণের কল্যাণে পাহাড়বাসীর মাঝে আস্থা ও শান্তি ফেরাতে তিনি সকল মহলের সহযোগিতা কামনা করেন।

সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে সেনাবাহিনীর ২৪ পদাতিক ডিভিশনের জিওসি মেজর জেনারেল জাহাঙ্গীর কবির তালুদকার বলেন, অনেক সেনা অফিসার পাহাড়ে শান্তি ফেরাতে জীবনের অর্ধেক সময়ই পাহাড়েই পার করেছে। বাংলাদেশ সেনাবাহিনী পার্বত্যঞ্চলের দুর্গম সীমান্তবর্তী পাহাড়ি এলাকায় রাষ্ট্রের অখন্ডতা রক্ষায় কাজ করছে। পাহাড়ের সবুজ জনপদে সন্ত্রাসীদের ঠাঁই হবে না। হুশিয়ারী উচ্চারণ করে তিনি বলেন, জীবন বির্সজন দিয়ে হলেও পাহাড়ে শান্তি ফেরানো হবে। এখানে কোন সন্ত্রাসীকে অস্ত্র নিয়ে ঘুরতে দেয়া হবে না, মানুষ হত্যা বন্ধ করা হবে। নিরাপত্তা বাহিনী এখান থেকে অতিতে বিপুল আকারে অবৈধ অস্ত্র ও গোলাবারুদ উদ্ধার করাসহ পাহাড়ে গত একবছরে ১০৪ টি অস্ত্র উদ্ধার করেছে বলেও জানান তিনি।

এসময়, উন্মুক্ত আলোচনায় অংশগ্রহণকারীরা পাহাড়ের অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার, পাহাড়ি-বাঙালি মৈত্রী জোরদার, তৃণমূল পর্যায়ে সন্ত্রাস প্রতিরোধ কমিটি গঠনসহ নানা উদ্যোগ গ্রহণে প্রশাসনকে অনুরোধ জানান। মতবিনিময় সভায় পুলিশের চট্টগ্রাম রেঞ্জের ডিআইজি খন্দকার গোলাম ফারুক,খাগড়াছড়ি রিজিয়ন কমান্ডার ব্রিগেডিয়ার আব্দুল মোতালেব সাজ্জাদ মাহমুদ, জেলা প্রশাসক মো: শহিদুল ইসলাম,বিজিবি সেক্টর কমান্ডার গাজী মো: সাজ্জাদ, জেলা পুলিশ সুপার আলী আহম্মদ খান ছাড়াও জেলার সামরিক -বেসামরিক প্রশাসনের উর্ধ্বতন কর্মকর্তা, উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যানবৃন্দ, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাগণসহ জেলায় কর্মরত সাংবাদিকরা উপস্থিত ছিলেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *