চট্টগ্রাম, , মঙ্গলবার, ২৯ নভেম্বর ২০২২

admin

কক্সবাজার-টেকনাফে রোহিঙ্গাদের বিক্ষোভ

প্রকাশ: ২০১৮-০৮-২৫ ১৮:২৭:২১ || আপডেট: ২০১৮-০৮-২৫ ১৮:২৭:২১

 

বীর কন্ঠ ডেস্ক :

২০১৭ সালের এই দিনে নিজ দেশের সেনাবাহিনী, বিজিপি ও উগ্রবাদী বৌদ্ধদের পাশবিক নির্যাতনে প্রাণ হারান অসংখ্য রোহিঙ্গা। প্রাণে বাঁচতে পাহাড়, মাঠ, নদী পার হয়ে জিরোপয়েন্টে এসে জড়ো হয় লাখো রোহিঙ্গা।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার মানবিক সহায়তায় রোহিঙ্গাদের বাংলাদেশে আশ্রয় দেয়া হয়। নিজেরা প্রাণে বাঁচলেও স্বজনদের হারিয়ে দিনটিকে কালদিবস হিসেবে ঘোষণা করেছে বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গারা।

সেদিনের ঘটনার বিচার ও মর্যাদা এবং নিরাপত্তা নিয়ে নিজ দেশে প্রত্যাবাসনের দাবি জানিয়ে কক্সবাজারের টেকনাফ ও উখিয়ার কুতুপালং বাজারে কক্সবাজার-টেকনাফ মহাসড়কে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করেছে রোহিঙ্গারা।

শনিবার সকাল ১০টার দিকে কয়েক হাজার রোহিঙ্গা এ বিক্ষোভ সমাবেশে অংশ নেয়। একই সময়ে কুতুপালং রোহিঙ্গা ক্যাম্পের বিভিন্ন ব্লকে মিছিলের পাশাপাশি সমাবেশ চলছে বলে জানা যায়। এ মিছিল থেকে নাগরিক অধিকার ফিরিয়ে দিয়ে নিরাপদ প্রত্যাবাসনের দাবি জানানো হয়।

কালোদিবসে কুতুপালং ক্যাম্পে আয়োজিত বিক্ষোভ সমাবেশে রোহিঙ্গা নেতারা বলেন, নিজ দেশে চরম নির্যাতনের শিকার হয়ে পালিয়েছি। বাংলাদেশ সরকার আমাদের মমতায় আশ্রয় দিয়েছে। সব রকমের সহযোগিতাও দিচ্ছে। এ ঋণ কখনো শোধ হবার নয়। কিন্তু আশ্রিত হয়ে আমরা কতদিন অন্যের ঘাড়ে পড়ে থাকব। সবকিছু পেলেও এখানে অনেক প্রতিবন্ধকতা রয়েছে। কিছুদিন পর আমরা এদেশের বোঝাতে পরিণত হব। তাই স্বদেশে ফিরে যেতে চাই। আন্তর্জাতিক মহলকে অনুরোধ জানাচ্ছি, মিয়ানমারের ওপর চাপ প্রয়োগ করুন। যাতে তারা আমাদের নিরাপদ প্রত্যাবাসন করায়। কারণ আমাদের নিতে মিয়ানমার সামরিক জান্তা টালবাহানা শুরু করেছে।

এ ছাড়া সেদিনের ঘটনার মিয়ানমারের সামরিক জান্তা সরকারের আন্তর্জাতিক আদালতের বিচারের মুখোমুখি করার আহ্বান জানান রোহিঙ্গা নেতারা।

মিছিলে অংশগ্রহণকারী রোহিঙ্গা আমির আলী বলেন, ২০১৭ সালের ২৫ আগস্ট মিয়ানমার সেনার গুলিতে প্রাণ হারিয়েছে আমার মা ও ভাই। আমার বোনকে ধর্ষণ করে হত্যা করা হয়েছে। আমার বাবাও এদেশে পালিয়ে আসার পথে মারা গেছে। সব হারিয়ে নিঃস্ব। তারপরও আমি আমার দেশে ফিরে যেতে চাই। এ কারণে আমি বিক্ষোভে অংশ নিয়েছি।

তবে বিক্ষোভের আয়োজনের বিষয়ে প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, নায্য অধিকার আদায়ের জন্য কোনো কিছুই আয়োজন করতে হয় না। এখানে সবাই স্বতঃস্ফূর্তভাবে এসেছে।

বিক্ষোভ মিছিলে থাকা মো. আয়ুব নামের এক রোহিঙ্গা বলেন, আন্তর্জাতিক মহলের দৃষ্টি আকর্ষণের জন্যই আমরা আজকের এ বিক্ষোভ করেছি। আমরা কি চাই তাই জানানোর জন্যই আমাদের এ প্রয়াস।

তিনি বলেন, আমরা যুদ্ধ চাই না, শান্তি চাই। নিজ দেশে ফিরে যেতে চাই। আর সেজন্য আন্তর্জাতিক মহলের সহযোগিতা চাই। আমরা সেদিন ঘটনার জন্য দোষীদের বিচার চাই।

প্রসঙ্গত, ২০১৭ সালের ২৫ আগস্ট থেকে বাংলাদেশে রোহিঙ্গার ঢল নামেন। রাখাইন রাজ্যে সহিংসতার কথা বলে সে দেশের সেনাবাহিনী ধরপাকড় চালায়। সেখানে নির্যাতন, বাড়িঘরে আগুন ও গণধর্ষণ চালালে রোহিঙ্গারা পালিয়ে বাংলাদেশে আসতে শুরু করে। মিয়ানমার থেকে পালিয়ে বাংলাদেশে ঠাঁই নিয়েছে ১০ লক্ষাধিক রোহিঙ্গা।

 

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *