চট্টগ্রাম, , বুধবার, ২৯ জুন ২০২২

কাওমী মাদ্রাসার দাওরায়ে হাদিসকে মাস্টার্স ডিগ্রি স্বীকৃতি দিতে জাতীয় সংসদে বিল

প্রকাশ: ২০১৮-০৯-১১ ০০:৩৫:১৩ || আপডেট: ২০১৮-০৯-১১ ০০:৩৫:১৩

বীর কন্ঠ ডেস্ক :

কওমি মাদ্রাসার সর্বোচ্চ স্তর দাওরায়ে হাদিসকে সাধারণ শিক্ষার স্নাতকোত্তর ডিগ্রির স্বীকৃতি দিতে সংসদে বিল তোলা হয়েছে। সোমবার শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ জাতীয় সংসদে এ সংক্রান্ত ‘আলহাইয়্যাতুল উলিয়ালিল জামিয়াতুল কওমিয়া বাংলাদেশ-এর অধীন কওমি মাদ্রাসাগুলোর দাওরায়ে হাদিসের (তাকমিল) সনদকে মাস্টার্স ডিগ্রি (ইসলামিক স্টাডিজ ও আরবি) সমমান প্রদান আইন-২০১৮’ তোলেন। পরে তা পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে সাত দিনের মধ্যে সংসদে প্রতিবেদন দেওয়ার জন্য শিক্ষা মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় কমিটিতে পাঠানো হয়।

বিলে বলা হয়েছে, এই আইন বাংলাদেশে দারুল উলুম দেওবন্দের নীতি, আদর্শ ও নিসাব (পাঠসূচি) অনুসরণে পরিচালিত কওমি মাদ্রাসাসমূহের দাওরায়ে হাদিস (তাকমিল)-এর ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হবে।

প্রস্তাবিত আইন অনুযায়ী বিদ্যমান ছয়টি কওমি মাদ্রাসা বোর্ডের সমন্বয়ে একটি কওমি মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ড থাকবে। ‘আল-হাইয়াতুল উলইয়া লিল জামিয়াতিল কওমিয়া বাংলাদেশ’ নামের কমিটিই এই বোর্ড হিসেবে কাজ করবে। এর কার্যালয় হবে ঢাকায়। কমিটির চেয়ারম্যান হবেন বেফাকুল মাদারিসিল আরাবিয়া বাংলাদেশের সভাপতি। এ কমিটি সনদবিষয়ক যাবতীয় কার্যক্রমের ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ সিদ্ধান্ত গ্রহণকারী বলে বিবেচিত হবে। এই কমিটির নিবন্ধিত মাদ্রাসাগুলোর দাওরায়ে হাদিসের সনদ মাস্টার্সের সমমান বলে বিবেচিত হবে। দাওরায়ে হাদিসের পরীক্ষাও হবে এই কমিটির অধীনে। দাওরায়ে হাদিসের সিলেবাস প্রণয়ন, পরীক্ষাপদ্ধতি, পরীক্ষার সময় নির্ধারণ, অভিন্ন প্রশ্নপত্র প্রণয়ন, উত্তরপত্র মূল্যায়ন, ফলাফল, সনদ তৈরিসহ আনুষঙ্গিক সব কার্যক্রম পরিচালনার জন্য এক বা একাধিক উপকমিটি গঠন করতে পারবে ওই কমিটি। এসব বিষয় শিক্ষা মন্ত্রণালয়কে অবহিত করবে ওই কমিটি।

প্রস্তাবিত আইনানুযায়ী, এ কমিটি দলীয় রাজনীতির ঊর্ধ্বে থাকবে।

বিলের উদ্দেশ্য ও কারণ সম্বলিত বিবৃতিতে মন্ত্রী বলেন, ‘দেশের কওমি মাদ্রাসার স্বতন্ত্র বৈশিষ্ট্য বজায় রেখে দারুল উলুম দেওবন্দের মূলনীতিসমূহকে ভিত্তি ধরে ‘আল-হাইয়াতুল উলইয়া লিল-জামিয়াতিল কওমিয়া বাংলাদেশ’-এর অধীন কওমি মাদ্রাসাগুলোর দাওরায়ে হাদিসের (তাকমিল) সনদকে মাস্টার্স ডিগ্রি (ইসলামিক স্টাডিজ ও আরবি) সমমান প্রদানের উদ্দেশ্যে আইন প্রণয়নের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়।’

তিনি বলেন, ‘কওমি মাদ্রাসার বিপুলসংখ্যক শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যতের কথা চিন্তা করে এবং কওমি মাদ্রাসার স্বতন্ত্র বৈশিষ্ট্য ও স্বকীয়তা বজায় রেখে দারুল উলুম দেওবন্দের মূলনীতিসমূহকে ভিত্তি ধরে আইনটি প্রণয়ন করা অতীব প্রয়োজন ও যুক্তিযুক্ত।’

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *