চট্টগ্রাম, , বুধবার, ১১ ডিসেম্বর ২০১৯

এম মাঈন উদ্দিন মিরসরাই প্রতিনিধি

মিরসরাইয়ে আটক স্বর্ণের উৎস-গডফাদারদের খোঁজে পুলিশ

প্রকাশ: ২০১৯-০৩-০৪ ২৩:৪০:৩৪ || আপডেট: ২০১৯-০৩-০৪ ২৩:৪০:৩৪

এম মাঈন উদ্দিন,মিরসরাই : ঢাকায় নিয়ে যাওয়ার পথে মিরসরাইয়ের জোরারগঞ্জ থানার উত্তর সোনাপাহাড় এলাকা থেকে পুলিশের হাতে উদ্ধার হওয়া ৬০০ পিস স্বর্ণের বারের উৎস ও স্বর্ণ চোরাচালানের গডফাদারদের খোঁজে নেমেছে পুলিশ। একই সঙ্গে নগরের সিআরবি এলাকা থেকে উদ্ধার হওয়া ১০০ পিস স্বর্ণের বারের উৎসের সন্ধানে কাজ করছে পুলিশ। সোমবার (৪ মার্চ) ছোটপুলে জেলা পুলিশ লাইন্সে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে পুলিশ সুপার নুরেআলম মিনা বলেন, ‘স্বর্ণের উৎস ও স্বর্ণ চোরাচালানের গডফাদারদের খুঁজে বের করতে কাজ শুরু করেছে পুলিশ।’ তিনি বলেন, ‘জোরারগঞ্জে গ্রেফতার দুইজনকে জিজ্ঞাসবাদ করা হয়েছে। তারা নিজেদের তথ্য ছাড়া এখনও তেমন কোনো তথ্য দেননি। রিমান্ডে এনে আরও ব্যাপক জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে।’

নুরেআলম মিনা বলেন, ‘স্বর্ণগুলোর উপর ইউএই লেখা রয়েছে। এর মানে এসব স্বর্ণ দুবাই থেকে বাংলাদেশে এসেছে। তবে কীভাবে বা কোন মাধ্যমে এসব স্বর্ণ বাংলাদেশে এসেছে তা আমরা বলতে পারবো না। তদন্ত সাপেক্ষে তা বের করা হবে।’ রোববার দুপুরে একটি পাজারো মিতসুবিশি জিপগাড়িতে করে পাচারের সময় জোরারগঞ্জের উত্তর সোনাপাহাড় এলাকা থেকে ৬০০ পিস স্বর্ণের বারসহ করিম খান কালু ও রাকিব নামে দুইজনকে গ্রেফতার করে জোরারগঞ্জ থানা পু্লিশ। এর আগে নগরের সিআরবি এলাকা থেকে প্রাইভেট কারে করে পাচারের সময় ১০০ পিস স্বর্ণের বারসহ লাভু শাহা প্রকাশ প্রলয় কুমার শাহা ও বিলাল হোসেন প্রকাশ কাদেরকে গ্রেফতার করে নগর গোয়েন্দা পুলিশের একটি টিম।

উদ্ধার হওয়া দুইটি স্বর্ণের চালান সংযুক্ত আরব আমিরাত থেকে বাংলাদেশে এসেছে বলে নিশ্চিত হয়েছে সংশ্লিষ্ট পুলিশ। দুই চালানের স্বর্ণের উপর ইউএই লেখা রয়েছে বলে নিশ্চিত করেছেন সংশ্লিষ্ট পুলিশ কর্মকর্তারা। জেলা পুলিশের এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা বলেন, ‘জোরারগঞ্জে উদ্ধার হওয়া স্বর্ণ রেয়াজউদ্দিন বাজার এলাকা থেকে গাড়িতে নেওয়া হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে। এ তথ্য যাচাই-বাছাই হচ্ছে। জিজ্ঞাসাবাদে করিম ও রাকিব নিজেদের বহনকারী বলে দাবি করেছে। তবে তারা এর আগেও কয়েকবার একই কায়দায় স্বর্ণের চালান নিয়ে গেছে বলে জানিয়েছে।’

ওই কর্মকর্তা জানান, করিম ও রাকিবের কাছ থেকে মোট ছয়টি মোবাইল ফোন উদ্ধার করা হয়েছে। ফোনের কল রেকর্ডে তেমন কিছু পাওয়া যায়নি। করিম ও রাকিব যাদের কাছ থেকে স্বর্ণগুলো নিয়েছেন এবং যাদের কাছে পৌঁছে দেবেন তাদের সঙ্গে ভিওআইপি নম্বরে কথা বলেছেন।’ নগর গোয়েন্দা পুলিশের উপ-কমিশনার (বন্দর জোন) এসএম মোস্তাইন হোসেন বলেন, ‘গ্রেফতার দুইজনকে রিমান্ডে এনে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে। তাদের মাধ্যমে স্বর্ণ চোরাচালানের গডফাদারদের খুঁজে বের করা হবে।’ তিনি বলেন, ‘গ্রেফতারের পর বারসহ লাভু শাহা প্রকাশ প্রলয় কুমার শাহা ও বিলাল হোসেন প্রকাশ কাদের পুলিশকে জানিয়েছে তারা বদনা শাহ মাজার এলাকা থেকে স্বর্ণগুলো গাড়িতে নিয়েছে। তবে যারা দিয়েছে তাদেরকে চিনেনা বলে দাবি করেছে।’ এসএম মোস্তাইন হোসেন বলেন, ‘লাভু শাহা প্রকাশ প্রলয় কুমার শাহা ও বিলাল হোসেন প্রকাশ কাদের এর আগেও কয়েকবার চট্টগ্রাম থেকে ঢাকায় স্বর্ণ নিয়ে গেছে।’

এদিকে সোমবার বিকেলে আদালত জোরারগঞ্জ থেকে ৬০০ পিস স্বর্ণের বারসহ পুলিশের হাতে গ্রেফতার দুই স্বর্ণ চোরাচালানকারীকে পাঁচদিনের রিমান্ড ও নগরের সিআরবি থেকে ১০০ পিস স্বর্ণের বারসহ গ্রেফতার দুইজনকে চারদিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *