চট্টগ্রাম, , মঙ্গলবার, ২০ আগস্ট ২০১৯

মোঃ জয়নাল আবেদীন টুক্কু নাইক্ষ্যংছড়ি প্রতিনিধি

নাইক্ষ্যংছড়িতে নির্বাচনের প্রস্তুতি সম্পন্ন : ২৫ টি কেন্দ্রের মধ্যে ৭ টি ঝুঁকিপূর্ণ

প্রকাশ: ২০১৯-০৩-১৬ ২৩:৩০:১২ || আপডেট: ২০১৯-০৩-১৬ ২৩:৩০:১২

মোঃ জয়নাল আবেদীন টুক্কুঃ  বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলা নির্বাচনে ২৫টি কেন্দ্রে ৭ টি ভোটকেন্দ্র ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। এসব কেন্দ্রে নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সকল ভোটকেন্দ্রগুলোর তালিকা করে পর্যালোচনা সম্পন্ন করেছে পুলিশ।

প্রশাসন ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রগুলোতে বিশেষ ব্যবস্থা হিসাবে বাড়তি অস্ত্রধারী পুলিশ সদস্য মোতায়েনের পরিকল্পনা করা হয়েছে।

সাধারণ ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রগুলোকে গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র হিসেবে আখ্যায়িত করেছে গোয়েন্দা ও পুলিশ। সংস্থাটির তালিকা অনুযায়ী, ভোটকেন্দ্রগুলোকে ‘পাহাড়ী এলাকা’ ও ‘বিশেষ এলাকা’ হিসেবে দুই ভাগে ভাগ করা হয়েছে। এরপর পরিস্থিতি পর্যালোচনা করে দুই এলাকাতেই আলাদাভাবে ‘গুরুত্বপূর্ণ’ ও ‘সাধারণ’ ভোটকেন্দ্র হিসাবে চিহ্নিত করা হয়েছে।
নির্বাচন কমিশনের ঘোষিত তপশীল মতে ১৮ মার্চ (সোমবার) নাইক্ষ্যংছড়িতে অনুষ্ঠিত হবে ৫ম উপজেলা নির্বাচন। এতে ২৫ টি
কেন্দ্রকে গুরুত্বপূর্ণ ও ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে ৭ টি।
বাকি ১৮টি কেন্দ্রকে সাধারণ কেন্দ্র হিসেবে বিবেচনা করা হয়েছে।

প্রশাসন সূত্রে জানা যায় যেসব ভোটকেন্দ্রের কাছাকাছি সীমান্তে অন্য উপজেলার ইউনিয়ন রয়েছে এবং যেসব কেন্দ্রে বিশৃঙ্খলার আশঙ্কা রয়েছে সেসব কেন্দ্রগুলোকে গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্রের তালিকায় রাখা হয়েছে।
পাশাপাশি বিশেষ এলাকার মধ্যে পাহাড়ি এলাকা ও আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর যাতায়াতে বিঘ্ন ঘটে এমন কেন্দ্রের তালিকাও করা হয়েছে।
পুলিশের তালিকা অনুযায়ী ৫টি ইউনিয়নের থানা,পুলিশ তদন্তকেন্দ্র ও বিজিবি বিওপি এলাকায় ২৫টি ভোটকেন্দ্র রয়েছে। এর মধ্যে ৭টি কেন্দ্র গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।

অন্য এক সূত্রে জানান, উপজেলার ৫টি ইউনিয়নের মধ্যে বাইশারীর ক্যাংগার বিল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়,ঈদগড় হেডম্যান পাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, আলীক্ষ্যং মিরঝিরি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, সোনাইছড়ি ইউনিয়নের জুমখোলা বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, ঘুমধুম ইউনিয়নের তুমব্রু সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, দৌছড়ি ইউনিয়নের তুলাতলি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, সদর ইউনিয়নের আশারতলী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্র ঝুকিঁপূর্ণ বলে জানান। নির্বাচন অফিসা সূত্রে জানা যায়
সুষ্ঠু নির্বাচনের স্বার্থে সহিংসতা প্রতিরোধ ও বহিরাগতদের আনাগোনার নজরদারীতে রয়েছে ১০টি পয়েন্টে চৌকি স্থাপন করা হয়েছে। সেনাবাহিনীর টহল জোরদার করা হয়েছে। পুলিশের পক্ষ থেকে সব ধরনের ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। সার্বিক পরিস্থিতি পর্যালোচনা করে সাধারণ কেন্দ্রের তুলনায় গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্রগুলোতে বাড়তি পুলিশ সদস্য মোতায়েন থাকবে।
সাধারণ এলাকার ভোট কেন্দ্র পাহারায় পুলিশসহ আনসার,ভিডিপি আর পাহাড়ী দূর্গম এলাকায় ঝুকিঁ পূর্ণ কেন্দ্রে পুলিশসহ বিজিবি,সেনাাহিনী ও র‍্যাব থাকার কথা রয়েছে।
ভোট কেন্দ্রের বাইরে স্ট্রাইকিং ফোর্স হিসেবে থাকবেন সেনা সদস্যরা। র‌্যাব, বিজিবি জোয়ানেরা মোবাইল ও স্ট্রাইকিং ফোর্স হিসেবে টহল দেবেন।
তারা ভোট কেন্দ্রের ভেতরে বা ভোট গণনা কক্ষে ঢুকতে পারবেন না। অবশ্য রিটার্নিং বা প্রিসাইডিং কর্মকর্তা চাইলে স্ট্রাইকিং ও মোবাইল টিমের সদস্যরা ভোট কেন্দ্রের ভেতরে প্রবেশ করবেন।
এছাড়া আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ ও আচরণবিধি প্রতিপালনে জুডিশিয়াল ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মাঠে থাকবেন। সবমিলিয়ে ভোটের মাঠের পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য মাঠে নামছেন। নির্বাচন কমিশনের একাধিক সূত্র এসব তথ্য জানিয়েছে।
নির্বাচন অফিস সূত্র মতে, মোট ভোটার ৩৭ হাজার ৩ শত ৮৬ জন ভোটারের ভোট কক্ষ ১০২ ও ২৫টি কেন্দ্র। ১৮ মার্চ পঞ্চম উপজেলা নির্বাচনের ভোট গ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে।
নির্বাচন কর্মকর্তা মধ্যে একাধিক কর্মকর্তা নাম গোপন রাখার শর্তে প্রতিবেদককে জানান, ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারির নির্বাচনের আদলে এবারের ভোটের নিরাপত্তা পরিকল্পনা নেয়া হয়েছে। তবে সেনা ও অন্যান্য বাহিনী মোতায়েনে সংখ্যার ক্ষেত্রে কিছুটা তারতম্য আনা হচ্ছে।
তারা বলেন, এবার ভোট বর্জনে রাজনৈতিক কর্মসূচি না থাকায় সহিংসতা কম হবে ধরে নিয়েই পরিকল্পনা সাজানো হচ্ছে।

নির্বাচনে সার্বিক নিরাপত্তা : সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে ভোট গ্রহণের আগে ও পরে সেনা, র‌্যাব ও পুলিশসহ অন্য বাহিনী মোতায়েন করতে যাচ্ছে নির্বাচন কমিশন। পরিকল্পনা অনুযায়ী, সেনা সদস্যরা ১৬ মার্চ মাঠে টহল জোরদার করা হয়েছে । ১৮ মার্চ পর্যন্ত তারা নির্বাচনী এলাকায় দায়িত্ব পালন করবেন বলে জানান।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *