চট্টগ্রাম, , বুধবার, ১১ ডিসেম্বর ২০১৯

মোঃ জয়নাল আবেদীন টুক্কু নাইক্ষ্যংছড়ি প্রতিনিধি

হুমকি মুখে শতাধিক পরিবার, নষ্ট হচ্ছে পরিবেশের ভারসাম্য

প্রকাশ: ২০১৯-০৩-২২ ০০:১০:৩৯ || আপডেট: ২০১৯-০৩-২২ ০০:১০:৩৯

নাইক্ষ্যংছড়ি প্রতিনিধি : নাইক্ষ্যংছড়ির খুটাখালির ছড়া থেকে মেশিন দিয়ে নির্বিচারে বালি উত্তোলন মোঃ জয়নাল আবেদীন টুক্কুঃ ২১ মার্চ ২০১৯ইং। বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলার বাইশারী ইউনিয়নের ১নং ওয়ার্ড কাগজি খোলা গ্রামের ২৮৩নং ঈদগড় মৌজা ও লামা উপজেলার ফাঁসিয়াখালী ইউনিয়নের ১নং ওয়ার্ড সীমান্ত সংলগ্ন খুটাখালির ছড়া থেকে নির্বিচারে বালি উত্তোলন অব্যাহত রয়েছে। প্রতিদিন কম পক্ষে শতাধিক ট্র্কা ও ডাম্পারে করে বালি পাচার করে যাচ্ছে বালি খেকো দল। বাঁধা দেওয়ার শক্তি কারো নেই বলে জানালেন, স্থানীয় নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক ব্যক্তি।

পাহাড়ী ছড়া থেকে বালি উত্তোলনের ফলে হুমকি মূখে পড়েছে উভয় পাড়ে বসবাসরত শতাধিক বাড়ি ঘরের বাসিন্দারা। স্থানীয়দের অভিযোগ বালি খেকোর দল প্রভাবশালী হওয়ায় ওদের বিরুদ্ধে মূখ খুলে কথা বলার সাহস কারো নেই। যার কারণে প্রকাশ্যে দিবালোকে পাহাড়ী খাঁল থেকে বালি উত্তোলন ও পাচার কাজ চলছে দে-দারছে। মাত্র এক হাজার গজ দূরত্বে একটি পুলিশ ফাঁড়ি থাকলেও তাহারা রয়েছে চুপচাপ। পরিবেশ অধিদপ্তরের ছাড় পত্রতো দূরের কথা স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদের রাজ¯^ ও আদায় করে না তারা। সরজমিনে এই প্রতিবেদক ঘটনাস্থলে গিয়ে দেখা যায়, বাইশারী ইউনিয়নে ১নং ওয়ার্ড, কাগজী খোলা গ্রাম, কালাপাড়া, লাইলামার পাড়া, সহ বেশ কয়েকটি গ্রাম এবং ছড়ার উভয় পাড়ে বসবাসরত শতাধিক পরিবার বালি উত্তোলনের ফলে এখন হুমকির মূখে।

আগামী বর্ষা মৌসুমে এসব বাড়িঘর বিলিন হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। তাছাড়া পাহাড়ী খাঁল থেকে বালি উত্তোলনের ফলে ফসলি জমি ও খাঁলে পরিণত হয়েছে। জমির মালিক রহুল আমিন তাদের বাধা দিয়ে কোন ধরনের বাধা না মানাই বালি খেকোদের বিরুদ্ধে প্রশাসনের বিভিন্ন দপ্তরে লিখিত অভিযোগ করেছেন বলে জানান। তাছাড়া বালি উত্তোলনের কারণে পরিবেশ মারাত্মক হুমকি মূখে পড়েছে। ধ্বংশ হচ্ছে পরিবেশের ভারসাম্য এবং ছড়ার গতিপথ ও পরিবর্তন হয়ে যাচ্ছে। স্থানীয় লোকজনের সাথে কথা বলে জানা যায়, ফাঁসিয়াখালী ইউনিয়নের লাইলামার পাড়া গ্রামের বাসিন্দা আব্দুর শুক্কুরের পুত্র মোঃ আজিজ, প্রকাশ আওয়ামীলীগ নেতা আজিজের নেতৃত্বে একটি সেন্ডিকেট তৈরী করে নির্বিচারে বালি উত্তোলন ও পাচার কাজ চালিয়ে যাচ্ছে রাত দিন। প্রতিদিন কম হলেও কয়েক শত ট্রাক বালি উক্ত খাঁল থেকে উত্তোলনে পর পাচার করে যাচ্ছে।

বালি উত্তোলনের কাজে ব্যবহার করা হচ্ছে কয়েকটি ড্রেজার মেশিন। বালি উত্তোলনকারী সেন্ডিকেটের প্রধান মোঃ আজিজের সাথে কথা হলে তিনি জানান, সব কিছু ম্যানেজ করে আমি দীর্ঘকাল যাবৎ বালি উত্তোলনের কাজ চালিয়ে যাচ্ছি। তিনি আরো বলেন এমন কারো ক্ষমতা নেই বালি উত্তোলন বন্ধ করে দেওয়া। বাইশারী ইউপি চেয়ারম্যান মোঃ আলম কোম্পানী বলেন, মোঃ আজিজ সহ বেশ কয়েকজন লোক খুটাখালির ছড়া থেকে সরকারের রাজস্ব ফাঁকি দিয়ে অনুমতি বিহিন বালি উত্তোলন করে যাচ্ছে। যার ফলে আগামী বর্ষা মৌসুমে শতাধিক বাড়িঘর বিলিন হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। তিনি আরো বলেন, তাদেরকে নিষেধ করার জন্য পরিষদের পক্ষ থেকে সচিব ও পুলিশ পাঠানো হয়েছিল। কিন্তু তারা কোন ধরনের কর্নপাত না করে নির্বিচারে বালি উত্তোলন করে যাচ্ছে। যার ফলে বাড়িঘর সহ ফসলি জমি ও ছড়ায় পরিণত হয়েছে।

এই বিষয়ে পরিবেশ অধিদপ্তর ক·বাজার অঞ্চলের পরিচালক মোঃ কামরুল হাসান মুঠো ফোনে জানান, বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়ির উপজেলায় বালি উত্তোলনের জন্য পরিবেশ অধিদপ্তরের পক্ষ থেকে কোন প্রকার অনুমতি দেওয়া হয়নি। বিষয়টি তদন্ত পূর্বক খতিয়ে দেখে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *