চট্টগ্রাম, , শুক্রবার, ১৩ ডিসেম্বর ২০১৯

মোঃ জয়নাল আবেদীন টুক্কু নাইক্ষ্যংছড়ি প্রতিনিধি

নাইক্ষ্যংছড়িতে দায়ীত্বপ্রপ্তদের ম্যানেজ করে গহিন বনে ইটভাটা: মানছে না কোন আইন

প্রকাশ: ২০১৯-০৪-০২ ০০:৩১:১৮ || আপডেট: ২০১৯-০৪-০২ ০০:৩১:১৮

মোঃ জয়নাল আবেদীন টুক্কুঃ  পার্বত্যাঞ্চলে ইটভাটা নিষিদ্ধ থাকলেও ক্ষমতার দাপটে এবং আইনের ফাঁকফোকরে নাইক্ষ্যংছড়ির গহীন বনে গড়ে উঠেছে ৭টি ইটভাটা। উখিয়ার হলদিয়া পালং এর ফজল মেম্বার ওরফে কালা ফজল, উখিয়ার মনজুর, উখিয়ার হায়দার আলী, কক্সবাজারের চকরিয়ার দুলাহাজারার পেয়ারো, নাইক্ষ্যংছড়ি সদরের জহির এর ইটভাটাসহ ৭ ইটভাটার এসব মালিক ইট তৈরির কোন আইনই মানছে না। অনুসন্ধানে জানা যায়, নাইক্ষ্যংছড়িতে অবস্থিত সব ইটভাটাই গহীন বনে। চারপাশে পাহাড়, বন ও চাষি জমি। পাহাড় ও টিলা কেটে বা চাষি জমির টপ সয়েল কেটে এ ইটভাটার কাঁচামালের চাহিদা পূরণ করা হচ্ছে। স্থানীয়রা জানান, উপজেলার যে ৭টি ইটভাটা গড়ে উঠেছে তার প্রতিটি ইটভাটার মালিক ইটপ্রস্তুত করতে নিয়ম না মেনেই অর্থলোভে পরিবেশ নষ্ট করে চলেছেন। পাহাড় কাটা, বন উজাড়করণ, কালো ধোঁয়া, ধুলা-বালির কুণ্ডলিতে আকাশে যেন ধুলা বৃষ্টির সৃষ্টি হয়।

অথচ ইটভাটা স্থাপনে সরকারের সর্বশেষ প্রজ্ঞাপণে বলা হয়েছে, পার্বত্যাঞ্চলে ইটভাটা করা যাবে না। আর অপরাপর স্থানে যারা ইটভাটা করবে তারা যেন লাইসেন্স ছাড়া ইট প্রস্তুত না করে। আর কেউ অনুমতি নিতে চাইলে জেলা প্রশাসক থেকেই অনুমতি নেবে। তবে কংক্রিট, বালি ও সিমেন্ট দিয়ে তৈরি কংক্রিট কম্প্রেসড ব্লক তৈরিতে লাইসেন্স লাগবে না। আর কেউ লাইসেন্স ছাড়া ইট তৈরি বা ভাটা স্থাপন করলে ও পরিচালনা করলে অনধিক এক বছরের কারাদণ্ড বা ৫ লাখ টাকা জরিমানা কিংবা উভয় দণ্ডের বিধান রয়েছে। ইটভাটা সংক্রান্ত সর্বশেষ ২০১৩ সালের জারি করা নতুন এ অধ্যাদেশে আরও যে সব নির্দেশ রয়েছে, তা হলো ইটভাটার লাইসেন্স্ পেতে আবেদনপত্রে ইটভাটায় ব্যবহার্য মাটির উৎস হলফনামায় দাখিল করতে হবে। এছাড়া আইনে নিষিদ্ধ এলাকায় ইটভাটা স্থাপন করলে পাঁচ বছরের কারাদণ্ড বা অনধিক ৫ লাখ টাকা জরিমানা বা উভয় দণ্ডের বিধান রাখা হয়েছে। যা প্রয়োগ করবেন জেলা উপজেলায় আইনের সাথে জড়িত সরকারের কর্তা ব্যক্তিরা।

এতে আরও নির্দেশনা রয়েছে- ইট তৈরির জন্যে কৃষিজমি, পাহাড় ও টিলা কেটে কাঁচামাল হিসেবে ব্যবহার করা যাবে না। এটি ইট মালিকরা করলে কিংবা জেলা প্রশাসকের অনুমোদন ছাড়া ইট তৈরির জন্যে মজা পুকুর,খাল, বিল, খাড়ি, দীঘি, নদ-নদী, হাওর, চরাঞ্চল ও পতিত জায়গায় মাটি কাটলে ২ বছরের কারাদণ্ড বা ৫ লাখ টাকা জরিমানা অথবা উভয়দণ্ডে দণ্ডিত হবেন সেই ব্যক্তি। আইনে আরও বলা আছে, ইটভাটায় জ্বালানি হিসেবে কাঠ ব্যবহার করতে পারবে না। আর নির্ধারিত মাত্রার অতিরিক্ত সালফার অ্যাশ, মারকারী বা এমন উপাদান সংবলিত কয়লা ব্যবহার করলে এক লাখ টাকা জরিমানার বিধান রয়েছে। আর আইন লঙ্গণ করে ইটভাটা থেকে অতিরিক্ত গ্যসীয় নি:সরণ ও তরল বর্জ্য ফেললে এক বছরের কারাদণ্ড বা অনধিক এক লাখ টাকা জরিমানা কিংবা উভয় দণ্ডের বিধান রয়েছে। অনুসন্ধানে বেরিয়ে আসে উপরের সকল প্রকার অনিয়ম এবং আইন ভঙ্গের সাথে জড়িয়ে পড়েছেন নাইক্ষ্যংছড়িতে স্থাপিত ৭টি ইটভাটার মালিক ও পরিচালকরা।

আর এসব অনিয়মের খবর পেয়ে সম্প্রতি জটিকা অভিযানে যান নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলা নির্বাহী অফিসার সাদিয়া আফরিণ কচি। তিনি হায়দারের ইটভাটাসহ দুটি ইটভাটায় দেড় লাখ টাকা জরিমানা করেন। তবে সূশীল সমাজের প্রত্যাশা হয়তো এবার বাকি ইটভাটাতেও ধারাবাহিক অভিযান চলবে। এ বিষয়ে ইটভাটা মালিক ফজল মেম্বার বলেন, তার ছেলে নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলার সোনাইছড়ি ইউনিয়নের মেম্বার। তিনি দীর্ঘ দিন ধরে পার্শ্ববর্তী উখিয়া উপজেলার হলদিয়া পালং ইউনিয়ন পরিষদের মেম্বর হিসেবে দায়িত্ব পালন করে আসছেন। এ কারণে সবাইকে ম্যানেজ করে এ ইটভাটা চালাচ্ছি। ইউনিয়ন, উপজেলা থেকে জেলা পর্যন্ত সর্ব স্তরের দায়িত্বপ্রাপ্তদের ম্যানেজ করে এসব করছি। সর্ব সাকুল্যে আমার ইটভাটা বৈধ। বান্দরবান জেলা প্রশাসক মো. দাউদুল ইসলাম বলেন, এসব ভাটার কোন কাগজপত্র নেই। তাদের এ সব ইটভাটার বিষয়ে শীঘ্রই ব্যবস্থা নেয়া হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *