চট্টগ্রাম, , বুধবার, ১১ ডিসেম্বর ২০১৯

আবদুল হাকিম রানা পটিয়া প্রতিনিধি

পটিয়ার নতুন পরিসংখ্যান কর্মকর্তা হলেন মীর আন্-নাজমুস সাকিব

প্রকাশ: ২০১৯-০৪-০৩ ২৩:৩৪:৩২ || আপডেট: ২০১৯-০৪-০৩ ২৩:৩৪:৩২

আবদুল হাকিম রানা, বীর কন্ঠ : পটিয়ার পরিসংখ্যান কার্যালয়ের পরিসংখ্যান কর্মকর্তা পদে বদলিভিত্তিক পদায়ন লাভ করেছেন মীর আন্-নাজমুস সাকিব। বুধবার (২০ মার্চ) পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের পরিসংখ্যান ও তথ্য ব্যবস্থাপনা বিভাগের প্রশাসন-১ অধিশাখার এক অফিস আদেশের মাধ্যমে এ বদলিভিত্তিক পদায়ন প্রদান করা হয়। সাকিব আগামী বুধবার (০৩ এপ্রিল) পদায়নকৃত কর্মস্থলে যোগদান করবেন বলে জানা গেছে। তিনি এর আগে ঝালকাঠি জেলার ঝালকাঠি সদর উপজেলা পরিসংখ্যান কার্যালয়ের পরিসংখ্যান কর্মকর্তার দায়িত্ব পালন করেন।

এদিকে একই আদেশে পটিয়া উপজেলা পরিসংখ্যান কার্যালয়ের পরিসংখ্যান কর্মকর্তা মারুফ আহমেদকে ঝালকাঠি সদর উপজেলা পরিসংখ্যান কার্যালয়ে বদলিভিত্তিক পদায়ন করা হয়। উভয় কর্মকর্তা বৃহস্পতিবার (২৮ মার্চ) অপরাহ্নে নিজ নিজ কর্মস্থল হতে অবমুক্ত হন। সাকিব গত বছরের ০৯ সেপ্টেম্বর পূর্বাহ্নে একই অধিশাখার এক নিয়োগ প্রজ্ঞাপনের আদেশ অনুযায়ী বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর পরিসংখ্যান কর্মকর্তা পদে যোগদান করেন। পরবর্তীতে তিনি একই অধিশাখার আরেকটি অফিস আদেশ অনুযায়ী বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর স্টাটিসটিক্যাল স্টাফ ট্রেনিং ইনস্টিটিউটে সংযুক্তি পেয়ে গত বছরের ১০ সেপ্টেম্বর হতে ২৩ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত দশদিনব্যাপী মৌলিক প্রশিক্ষণ কোর্স সম্পন্ন করেন। গত বছরের ২৭ সেপ্টেম্বর পূর্বাহ্নে তিনি পরিসংখ্যান কর্মকর্তা পদে তাঁর পদায়নকৃত কর্মস্থল ঝালকাঠি সদর উপজেলা পরিসংখ্যান কার্যালয়ে যোগদান করেন।

২৮ মার্চ উক্ত কর্মস্থল হতে অবমুক্তির পূর্ব পর্যন্ত দাপ্তরিক কাজের পাশাপাশি তিনি সাফল্যের সাথে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন, পঞ্চম উপজেলা পরিষদ নির্বাচন ও বিভিন্ন সরকারি কর্মসূচি বাস্তবায়নে উপজেলা ও জেলা প্রশাসনকে সার্বিক সহযোগিতা করেন। তাঁর সুনাম, সততা ও দক্ষতার স্বীকৃতিস্বরূপ ঝালকাঠি সদরের উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আতাহার মিয়া তাঁকে প্রশংসাসূচক ডিও লেটার প্রদান করেন। ঝালকাঠিতে ছয় মাসের কার্যকালে অল্পসময়ের মধ্যেই ঝালকাঠিবাসীর মনের মণিকোঠায় স্থান করে নেন তিনি।

সাকিবের জন্ম ১৯৯১ সালে চাঁদপুর জেলার মতলব দক্ষিণ উপজেলার এক সম্ভ্রান্ত মুসলিম পরিবারে। তাঁর বাবা প্রফেসর মীর গোলাম হায়দার সরকারি টিচার্স ট্রেনিং কলেজ, ফেনী-এর অবসরপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ (বিসিএস-সাধারণ শিক্ষা) ও মা ইসমত পারভীন রুনু একজন সংগঠক, সংস্কৃতিকর্মী ও লেখিকা। তিনি কুমিল্লা শিক্ষা বোর্ডের অধীনে ২০০৬ সালে ঐতিহ্যবাহী ফেনী সরকারি পাইলট উচ্চ বিদ্যালয় থেকে এসএসসি এবং ২০০৮ সালে ঐতিহ্যবাহী কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া সরকারি কলেজ থেকে এইচএসসি পাস করেন। দুটো পরীক্ষাতেই তিনি কৃতিত্বের সাথে জিপিএ ফাইভ পেয়ে উত্তীর্ণ হন। পরবর্তীতে সিলেটের শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের গণিত বিভাগ থেকে তিনি কৃতিত্বের সাথে উচ্চ সিজিপিএসহ ২০১২ সালে চার বছর মেয়াদী বিএসসি (অনার্স) এবং ২০১৪ সালে ডিসটিঙ্কশনসহ দেড় বছর মেয়াদী এমএস (থিসিস) ডিগ্রি সম্পন্ন করেন। বর্তমানে একই বিশ্ববিদ্যালয়ের একই বিভাগে এমফিল (ফেলো) হিসেবে গবেষণা করছেন। পুরো শিক্ষা জীবনে নিজের মেধার স্বাক্ষর রেখে তিনি প্রাথমিক ও জুনিয়রসহ নানা পর্যায়ের বৃত্তি অর্জন করেন। সহপাঠক্রমিক কার্যাবলিতে রয়েছে তাঁর স্বত:স্ফ‚র্ত অংশগ্রহণ। স্নাতক গণিত অলিম্পিয়াড আয়োজনসহ সংগঠক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন বিভিন্ন সংগঠনে। এর মধ্যে স্বেচ্ছাসেবক ও প্রশিক্ষক হিসেবে যুক্ত ছিলেন বাংলাদেশ রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটির সাথে। জড়িত ছিলেন সাংবাদিকতা, কুইজ ও বিতর্ক চর্চার সাথেও।

তিনি শাবিপ্রবি গণিত সমিতির প্রাক্তন সহ-সভাপতি ও প্রাক্তন সাধারণ স¤পাদক; ডেল্টা ডিবেটার্স ফ্যাক্টরির আজীবন সদস্য, প্রাক্তন প্রেসিডিয়াম সদস্য ও প্রতিষ্ঠাতা; সাস্টনিউজ টুয়েন্টি ডটকমের প্রাক্তন সম্পাদক; ফেনী গর্ভনমেন্ট পাইলট হাই স্কুল ডিবেটিং সোসাইটির প্রাক্তন মডারেটর, প্রতিষ্ঠাতা ও আজীবন সদস্য; শাবিপ্রবি গণিত অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশনের কার্যনির্বাহী ও আজীবন সদস্য; সাস্ট ক্লাব লিমিটেডের প্রতিষ্ঠাতা সদস্য; ফেনী ডিবেট মুভমেন্টের কার্যনির্বাহী সদস্য এবং বাংলাদেশ গণিত সমিতির আজীবন সদস্য। এছাড়াও তিনি কাজ করেছেন দেশ আমার ও ন্যাশনাল চিলড্রেনস টাস্ক ফোর্সসহ আরও অনেক সংগঠনে।

তিনি ২০১৫ সালে বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব জার্নালিজম অ্যান্ড ইলেকট্রনিক মিডিয়া (বিজেম), ঢাকা থেকে এক বছর মেয়াদী ডিপ্লোমা ইন জার্নালিজম (করেসপন্ডেন্স) এবং ২০১৬ সালে বাংলাদেশ কম্পিউটার কাউন্সিল (বিসিসি), সিলেট আঞ্চলিক কার্যালয় থেকে ছয় মাস মেয়াদী ডিপ্লোমা ইন আইসিটি কোর্স সম্পন্ন করেন। উভয় কোর্সেই তিনি প্রথম স্থান অর্জন করেন। বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোতে যোগদানের পূর্বে তিনি ৩৪তম বিসিএস (নন-ক্যাডার) থেকে সহকারী শিক্ষক (গণিত) হিসেবে নিয়োগপ্রাপ্ত হয়ে কর্মরত ছিলেন ফেনী সরকারি পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়ে। সেখানে কর্মরত থাকার সময়ে প্রযুক্তিনির্ভর শিক্ষক ও সফল সংগঠক হিসেবে ব্যাপক জনপ্রিয়তা অর্জন করেন তিনি। তাঁর নেতৃত্বে স্কুলটি জেলার শ্রেষ্ঠ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের স্বীকৃতিসহ অর্জন করে প্রচুর পুরস্কার ও স্বীকৃতি। বিভিন্ন জাতীয়, অনলাইন ও আঞ্চলিক পত্রিকা এবং সাময়িকীতে ইত:পূর্বে সাকিবের প্রচুর লেখা প্রকাশিত হয়েছে।

তিনি প্রবন্ধ লেখক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ড (এনসিটিবি)-তে। বিভিন্ন প্রতিযোগিতার জন্য গল্প, প্রবন্ধ ও নাটক রচনা করে তিনি অর্জন করেছেন প্রচুর পুরস্কার ও স্বীকৃতি। ২০১৭ সালের অমর একুশে গ্রন্থমেলায় ‘ঘাস প্রকাশন’ থেকে তাঁর প্রথম উপন্যাস গ্রন্থ ‘পৌন:পুনিকতা’এবং ২০১৮ সালের গ্রন্থমেলায় একই প্রকাশনী থেকে তাঁর প্রথম গল্পগ্রন্থ ‘কয়েকটি অণুগল্প’ প্রকাশিত হয়। ২০১৯ সালের অমর একুশে গ্রন্থমেলায় ‘পায়রা প্রকাশ’ থেকে তাঁর আধা-গবেষণাধর্মী, তথ্যভিত্তিক গ্রন্থ ‘বাংলাদেশে যা কিছু জাতীয়’ প্রকাশিত হয়। স্বীকৃত আন্তর্জাতিক গবেষণাধর্মী জার্নালে তাঁর দুটি প্রকাশনা রয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *