চট্টগ্রাম, , মঙ্গলবার, ২০ আগস্ট ২০১৯

মোঃ জয়নাল আবেদীন টুক্কু নাইক্ষ্যংছড়ি প্রতিনিধি

নাইক্ষ্যংছড়ির তুমব্রু সীমান্তে বিজিবির বাধায় নেট তৈরীর কাজ বন্ধ করে দিয়েছে বিজিপি

প্রকাশ: ২০১৯-০৪-০৭ ২০:২৭:১০ || আপডেট: ২০১৯-০৪-০৭ ২০:২৭:১০

মোঃ জয়নাল আবেদীন টুক্কুঃ

বাংলাদেশ-মিয়ানমার সীমান্তের তুমব্রু শূণ্যরেখায় অবস্থানরত রোহিঙ্গাদের সরাতে নতুন পাঁয়তারা শুরু করেছে মিয়ানমার। সীমান্তে দেশটির অভ্যন্তরে ঘন ঘন গুলিবর্ষণ, রাতে কাঁটাতার ঘেঁষে অতিরিক্ত সৈন্যসমাবেশসহ এখন নতুন করে খালে ব্রিজের নিচে লোহার রড দিয়ে নেট তৈরি করছে শূক্রবার থেকে। এতে বর্ষা মৌসুমে শূণ্যরেখা ক্যাম্প ও স্থানীয় বসতভিটা কৃষি জমি পানিতে তলিয়ে যাবে বলে দাবি রোহিঙ্গা ও স্থানীয়দের। যার ফলে সীমান্তে বসবাসকারী রোহিঙ্গা ও স্থানীয়দের মাঝে নতুন করে সৃষ্টি হয়েছে আতঙ্ক। গতকাল রোববার বেলা ১১ টায় কক্সবাজার ৩৪ বিজিবির অধিনায়ক লে. কর্ণেল আলী হায়দার আহমদ মিয়ানমার বিজিপিকে শূন্য রেখার ব্রিজের নিচে লোহার নেট তৈরির কাজ বন্ধ করতে কড়া প্রতিবাদ জানান। বিজিবির কড়া প্রতিবাদে মিয়ানমার বিজিপিরা নেট তৈরির কাজ বন্ধ করে দিয়ে শূন্য রেখা থেকে সরে গেছে বলে জানিয়েছেন বিজিবির ঐ কর্মকর্তা।

জানা গেছে, ২০১৭ সালের ২৫ আগস্ট পর মিয়ানমার সেনাবাহিনীর নির্যাতন নিপিড়নের শিকার হয়ে পালিয়ে এসে নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলার তুমব্রু“ সীমান্তের শূণ্যরেখায় আশ্রয় নেয় প্রায় সাড়ে ৪ হাজার রোহিঙ্গা। এসব রোহিঙ্গাদের রেডক্রস মানবিক সহায়তা দিয়ে আসছে। মিয়ানমার শূণ্যরেখার রোহিঙ্গাদের সরাতে বারবার নানা অপচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে মিয়ানমার বিজিপি। এজন্য সীমান্তে দেশটির অভ্যন্তরে ঘন ঘন গুলিবর্ষণ, অস্ত্র উঁচিয়ে হুমকি, রাতে সীমান্তে সৈন্য সমাবেশ ঘটানো হচ্ছে। তারপরও নিজ দেশ মিয়ানমারে ফিরে

 

যাওয়া ছাড়া শূন্যরেখা ছাড়তে রাজি নন রোহিঙ্গারা। শূণ্যরেখায় অবস্থানকারী রোঙ্গিাদের নেতা দিল মোহাম্মদ জানান, এবার শূন্যরেখা থেকে। রোহিঙ্গাদের সরাতে নতুন পাঁয়তারা শুরু করেছে মিয়ানমার। যে কারণে তুমব্রু“ খালে নতুন করে ব্রিজ নির্মাণ পরবর্তী ব্রিজের নিচে নেট তৈরি করার কারনে খালে পানির স্বাভাবিক চলাচল বিঘ্ন ঘটবে এবং বর্ষা মৌসুমে পানির উচ্চতা বেড়ে শূণ্যরেখার রোহিঙ্গা ক্যাম্পসহ বাংলাদেশের অভ্যন্তরে কোনারপাড়ার কৃষি জমি পানিতে তলিয়ে যাবে। এছাড়াও বিনা উস্কানীতে গত শুক্রবার থেকে কাটা তাঁরের বেড়া ঘেষে সেনা, বিজিপির টহল জোরদার করেছে মিয়ানমার।

নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলার ঘুমধুম ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান একে জাহাঙ্গীর আজিজ জানান, তুমব্রুখালে ব্রিজ নির্মাণের পর থেকে উদ্বেগ উৎকণ্ঠায় রয়েছে রোহিঙ্গা ও স্থানীয়রা। এখন দেখতেছি ব্রিজের নিচে লোহার রড দিয়ে নেট তৈরী করা হচ্ছে। এতে আবারো নতুন করে আতঙ্ক সৃষ্টি হয়েছে। কক্সবাজার ৩৪ বিজিবি’র অধিনায়ক লে. কর্ণেল আলী হায়দার আজাদ আহমেদ ব্রিজের নিচে নেট তৈরীর ব্যাপারে জানতে চাইলে তিনি জানান, রোববার বেলা ১১ টায় বিজিবির কড়া প্রতিবাদে মিয়ানমার বিজিপি ওখানে কাজ না করে আপাতত তারা তাদের অভ্যন্তরে ফিরে গেছে। সীমান্তে মিয়ানমার অতিরিক্ত সেনা ও বিজিপি’র মোতায়নের সত্যতা স্বীকার করেন এ বিজিবি’র অধিনায়ক বলেন, আরকান আর্মির তৎপরতারকারনে মিয়ানমার সেনা ও বিজিপি টহল জোরদার করেছে বলে আমাদেরকে জানিয়েছে। এতে আমাদের উদ্বিগ্ন হওয়ার কিছু নেই। তবে সীমান্তের যেকোন ধরনের অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে বিজিবি সতর্ক রয়েছে বলে তিনি জানান।

 

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *