চট্টগ্রাম, , সোমবার, ২৪ ফেব্রুয়ারি ২০২০

জাহেদুল হক আনোয়ারা প্রতিনিধি

আনোয়ারায় মাছ ধরার নৌকা তৈরির হিড়িক

প্রকাশ: ২০১৯-০৪-২০ ০০:৪২:১৩ || আপডেট: ২০১৯-০৪-২০ ০০:৪২:১৩

 

জাহেদুল হক,আনোয়ারা :

ইলিশ মৌসুম সামনে রেখে আনোয়ারা উপকূলে মাছ ধরার নৌকা তৈরির হিড়িক পড়েছে। ইতিমধ্যে ছোট বড় প্রায় দেড় শতাধিক নৌকা তৈরি করা হয়েছে। এসব নৌকায় ইঞ্জিন বসানোসহ রংয়ের কাজ চলছে পুরোদমে। পাশাপাশি আরো অর্ধশতাধিক নৌকা তৈরির কাজে ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছেন কারিগররা।
জানা গেছে,উপজেলার উপকূলীয় ইউনিয়ন রায়পুর,জুঁইদন্ডী ও বারশতের অসংখ্য মানুষ সাগরে মাছ ধরে জীবিকা নির্বাহ করেন। আর নদী বা সাগরে মাছ ধরার অন্যতম উপকরণ হচ্ছে নৌকা। প্রতিবছর ইলিশ মৌসুম সামনে রেখে উপকূলীয় এই অঞ্চলে নদী বা সাগর পাড়ে নৌকা তৈরি ও মেরামতের কাজ চলে। এ বছরও তার ব্যতিক্রম ঘটেনি জোরেশোরে চলছে নৌকা তৈরির কাজ। তাই বাজারে কাঠের দাম একটু বেশি হলেও কারিগররা নৌকা তৈরিতে মনোযোগ দিয়েছেন।

সরেজমিন ঘুরে রায়পুর ইউনিয়নের বিভিন্ন স্থানে নৌকা তৈরি ও মেরামতের দৃশ্য চোখে পড়েছে। আর কাঠমিস্ত্রীদের পাশাপাশি নৌকার মালিকরা নৌকা তৈরির উপকরণ সংগ্রহে ব্যস্ত হয়ে পড়েছেন। গহিরা গ্রামের বহদ্দার ছালেহ আহমদ বলেন,উপকূলের প্রায় বিশ হাজারের বেশি মানুষ মৎস্যজীবী। এরা সাগরে মৎস্য আহরণ করে জীবিকা নির্বাহ করেন। উপকূলের মানুষের জীবন-জীবিকার সাথে নৌকা জড়িত। একটি নৌকা বানাতে খরচ হয় দেড় লাখ থেকে দুই লাখ টাকা। আর বড় ট্রলার হলে কমপক্ষে ৫ লাখ টাকা খরচ পড়ে।

জুঁইদন্ডী গ্রামের নৌকার কারিগর (কাঠমিস্ত্রী) আবদুচ ছবুর জানান, ছোট-বড় নৌকা তৈরিতে বিভিন্ন প্রজাতির গাছের কাঠ ব্যবহার করা হয়। বিশেষ করে গর্জন,মেহেগুনী,আকাশি,লিচু,কাঁঠাল,পৃথ্বীরাজ,কড়ই বা শিলকড়ই গাছের কাঠ বেশি ব্যবহার হয়। তিনি আরো জানান, এই উপজেলায় প্রায় দুই শতাধিক কাঠমিস্ত্রী রয়েছে। বেশ আর কম সকলে এখন নৌকা তৈরির কাজে ব্যস্ত সময় পার করছেন। তাদের পাশাপাশি আরো অন্তত তিন শতাধিক সহকারি এ কাজে নিয়োজিত রয়েছে।

গহিরার বেড়িবাঁধের খাদে নৌকা তৈরিতে ব্যস্ত কাঠমিস্ত্রী নজির আহমদ বলেন,প্রতিবছর এ সময়ে নৌকা বানানোর হিড়িক পড়ে যায়। একটি নৌকা বানাতে এক থেকে দেড় মাস সময় লাগে। নৌকার আকার ও প্রকার ভেদে মজুরি নেওয়া হয়। তবে একটি নৌকা বানাতে কমপক্ষে ৪০-৬০ হাজার টাকা মজুরি আসে।

 

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *