চট্টগ্রাম, , মঙ্গলবার, ২ মার্চ ২০২১

এম সেকান্দর হোসাইন সীতাকুণ্ড প্রতিনিধি :

পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ডের প্রকল্পে জনবল নিয়োগে অনিয়মের অভিযোগ

প্রকাশ: ২০১৯-০৫-২৪ ০২:১৪:৫৭ || আপডেট: ২০১৯-০৫-২৪ ০২:১৪:৫৭

রাঙামাটি প্রতিনিধি : পার্বত্য চট্টগ্রামের সর্ব বৃহৎ উন্নয়ন প্রতিষ্ঠান পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ডের বাস্তবায়নাধীন ‘টেকসই সামাজিক সেবা প্রদান’ শীর্ষক প্রকল্পে জনবল নিয়োগে অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। বর্তমানে প্রকল্পটিতে ২১ পদে কর্মকর্তা-কর্মচারী নিয়োগ প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। এসব পদের মধ্যে প্রকল্প ব্যবস্থাপকসহ বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ পদে বিভিন্ন অনিয়মের আশ্রয় নেয়া হচ্ছে বলে অভিযোগে জানা গেছে।

জানা যায়, চলতি বছর ১৯ এপ্রিল লিখিত ও ২০ এপ্রিল নিয়োগপ্রার্থীদের মৌখিক পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়- যা বর্তমানে চুড়ান্ত নিয়োগ প্রক্রিয়ার মধ্যে রয়েছে। এসব পদে নিয়োগের জন্য ২০১৮ সালের ১ জুলাই দরখাস্ত আহবান করে বিজ্ঞাপন দেন প্রকল্প পরিচালক ড. প্রকাশ কান্তি চৌধুরী। এতে প্রকল্প ব্যবস্থাপকসহ আরও কয়েক পদে নিয়োগ বিজ্ঞপ্তির শর্ত ভঙ্গ করে প্রার্থীদের কাছে ইন্টারভিউ কার্ড বা সাক্ষাৎকারের প্রবেশপত্র সরবরাহ করা হয়।

এ ছাড়াও আগের মেয়াদে শেষ হওয়া প্রকল্পে যাদের বিরুদ্ধে অনিয়ম-দুর্নীতিতে জড়িত থাকার অভিযোগ ছিল, সেই সব কর্মকর্তাদের আবার নিয়োগ দেয়ার চূড়ান্ত করা হচ্ছে। অনুসন্ধানে জানা গেছে, একটি প্রকল্প ব্যবস্থাপক পদের বিপরীতে আবেদন করেছেন ৯জন প্রার্থী। তাদের মধ্যে নিয়োগ কমিটি যাচাই বাছাই করে ৬ জনকে যোগ্য বিবেচনা করে নিয়োগ পরীক্ষার জন্য ইন্টাভিউ কার্ড ইস্যু করে। এতে দেখা যায়, রামবাদু ত্রিপুরা (স্টিভ) নামে এক আবেদনকারী নিয়োগ বিজ্ঞপ্তির শর্তানুযায়ী ১০ বছরের কম অভিজ্ঞতার সনদ জমা দেন। কিন্তু অনার্স পাস বা ¯œাতকোত্তর সনদ জমা দেননি। এরপরও তাকে যোগ্য ঘোষণা করে ইন্টারভিউ কার্ড ইস্যু করা হয়। একই পদে নিধি চাকমা নামে আরেক আবেদনকারী মাত্র ৫ বছরের অভিজ্ঞতার সনদ জমা দেন। নিয়োগ বিজ্ঞপ্তিতে ১০ বছরের অভিজ্ঞতার সনদ জমা দেয়ার শর্ত থাকলেও তাকেও যোগ্য ঘোষণা করে ইন্টারভিউ কার্ড ইস্যু করা হয়।

এ বিষয়ে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বোর্ডের একজন কর্মকর্তা জানান, নারী কোটা সংরক্ষণ না করে প্রকল্প ব্যবস্থাপক দুটি পদে পুরুষ প্রার্থী নিয়োগ দেয়ার চূড়ান্ত প্রক্রিয়া শেষ করতে চলেছেন। অথচ একটি পদে লিখিত পরীক্ষায় দ্বিতীয় স্থান অধিকার করেছেন এক নারী প্রার্থী। কিন্তু নিয়োগের চুড়ান্ত তালিকায় তার নাম নেই। আর পদটিতে চুড়ান্ত নিয়োগের তালিকায় নাম থাকা একেএম রেজাউল হকের বিরুদ্ধে গত মেয়াদের আইসিডিপি প্রকল্পে দায়িত্বপালনকালে আর্থিক অনিয়ম ও নারীসংক্রান্ত অপরাধের অভিযোগ রয়েছে। জানা গেছে, ওই রেজাউল হক আগের মেয়াদের আইসিডিপি প্রকল্পে রাঙ্গামাটির বিলাইছড়ি ও কাউখালী এবং খাগড়াছড়ির মাটিরাঙ্গা উপজেলায় প্রকল্প ব্যবস্থাপক থাকাকালে তার বিরুদ্ধে উপজেলা নির্বাহী অফিসারের স্বাক্ষর জাল করে প্রকল্পের টাকা উত্তোলন, পাড়াকর্মীদের সম্মানি ভাতা আত্মসাৎ, পাড়াকর্মী নিয়োগ নিয়ে বাণিজ্য ও নারীসংক্রান্ত অপরাধে জড়িত থাকার অভিযোগ ছিল। ওইসব অপরাধের কারণে বোর্ড কর্তৃপক্ষ তাকে ওইসব কর্মস্থল থেকে বারবার প্রত্যাহার করেছিলেন। কিন্তু অদৃশ্য শক্তির প্রভাবে সেই একই ব্যক্তিকে আবারও ‘টেকসই সামাজিক সেবা প্রদান’ প্রকল্পের শীর্ষ পদে নিয়োগ দেয়ার চূড়ান্ত প্রক্রিয়া চলছে। এ ছাড়া উপজেলা প্রকল্প ব্যবস্থাপক, প্রকল্প সমন্বয়ক ও সহকারী প্রকল্প ব্যবস্থাপক পদেও মেধাভিত্তিক নিয়োগ অনুসরণ না করে নানা অনিয়মের মাধ্যমে নিয়োগ দেয়ার প্রক্রিয়া চলছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।

এ অবস্থায় যোগ্য প্রার্থীদের মধ্যে চরম হতাশা বিরাজ করছে। তারা এ বিষয়ে বোর্ড কর্তৃপক্ষ ও সরকারের উচ্চ পর্যায়ের হস্তক্ষেপ কামনা করছেন। এ ব্যাপারে প্রকল্প পরিচালক ড. প্রকাশ কান্তি চৌধুরী বলেন, এ ধরনের অভিযোগ আমদের কাছে আসেনি। তা ছাড়া নিয়োগ প্রার্থীদের আবেদন যাচাই বাছাইয়ের জন্য আলাদা একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। তারা বিষয়টি বেশী জানবেন। তবে সুনির্দিষ্ট কোনো প্রার্থীর ব্যাপারে এ ধরনের অভিযোগ প্রমাণিত হলে ব্যবস্থা নেয়া হবে বলে জানান তিনি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *