চট্টগ্রাম, , মঙ্গলবার, ২৫ ফেব্রুয়ারি ২০২০

জাহেদুল হক আনোয়ারা প্রতিনিধি

আনোয়ারায় বিষমুক্ত শুঁটকি উৎপাদনের ধুম

প্রকাশ: ২০১৯-১১-২৭ ২০:৪৯:৪২ || আপডেট: ২০১৯-১১-২৭ ২০:৪৯:৫০


জাহেদুল হক, আনোয়ারা :
আনোয়ারা উপক‚লজুড়ে এখন চলছে বিষমুক্ত শুঁটকি উৎপাদনের ধুম। সামুদ্রিক কাঁচা মাছ প্রক্রিয়াজাত থেকে শুরু করে শুঁটকি হওয়া পর্যন্ত এসব মহালে কাজ করছে বিপুল সংখ্যক শ্রমিক। এই শুঁটকি দেশের চাহিদা মিটিয়ে বিদেশেও নেওয়া হচ্ছে। সরকারি সহযোগিতার মাধ্যমে গহিরার চর মহালের আধুনিকায়ন করা গেলে এই শুঁটকি বিদেশে রপ্তানি করা সম্ভব বলে জানালেন ব্যবসায়ীরা।


জানা যায়,আশির দশকের শুরু থেকে আনোয়ারা উপক‚লে বিভিন্ন এলাকায় শুঁটকি উৎপাদন শুরু হয়। তবে মাঝখানে টানা কয়েক বছর নানা কারণে শুঁটকি উৎপাদনে ভাটা পড়ে। গত কয়েক বছর ধরে আবারও শুঁটকি উৎপাদনে আগ্রহী হয়ে উঠেন এখানকার ব্যবসায়ীরা। সেই থেকে এই এলাকার উৎপাদিত শুঁটকি দেশ-বিদেশে ব্যাপক পরিচিতি পায়। এক্ষেত্রে গহিরা বেড়িবাঁধ সড়কসহ অবকাঠামো উন্নয়ন ও আধুনিকায়ন করা হলে পরিবেশবান্ধব এ শুঁটকিপল্লী সরকারি রাজস্ব খাতে গুরুত্বপূর্ণ ভ‚মিকা রাখবে।

এছাড়া শুঁটকিশিল্পে ঋণপ্রাপ্তি নিশ্চিত করা গেলে রপ্তানিতে প্রচুর বৈদেশিক মুদ্রা আয়ের সঙ্গে সঙ্গে বিপুলসংখ্যক লোকের কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে বলে মনে করেন সংশ্লিষ্টরা।
স্থানীয় উদ্যোক্তা ও ইউপি সদস্য জাহাঙ্গীর আলম জানান,নিজস্ব অর্থায়নে গহিরার চরে শুঁটকি উৎপাদনের জন্য একটি মহাল তৈরি করেছেন। প্রতিদিন শত শত কেজি সামুদ্রিক মাছের শুঁটকি উৎপাদিত হচ্ছে ওই মহালে। কোন ধরনের কীটনাশক প্রয়োগ ছাড়াই প্রাকৃতিক উপায়ে উৎপাদিত হচ্ছে এসব শুঁটকি। সমুদ্রের তীরবর্তী হওয়ায় এখানে রোদের প্রচন্ড তাপ রয়েছে।

এছাড়া বায়ু চলাচলেও নেই কোন প্রতিবন্ধকতা। তাই রোদ ও বাতাসের সংমিশ্রণে দ্রুত কাঁচা মাছ শুঁটকি হিসেবে রূপান্তরিত হচ্ছে।


সরেজমিন দেখা গেছে, সাগরে পাতানো ভাসান ও টং জালে আহরিত সামুদ্রিক বিভিন্ন প্রজাতির মাছ জেলেদের নৌকা থেকে উঠানো হচ্ছে। সেখানে জেলেদের কাছ থেকে পছন্দের মাছগুলো কিনে মহালে নিয়ে যাচ্ছে ব্যবসায়ীরা। এসব মাছ প্রথমে মহালে সংরক্ষণ করা হয়। পরে পরিশুদ্ধ করার পর এসব কাঁচা মাছে আংশিক লবণ মেশানো হয়। তারপর গিট তৈরি করে এগুলো শুকানোর জন্য ওই মহালের একাধিক মাচায় টাঙানো হয়। চিংড়ি ও ফাইস্যা জাতীয় মাছগুলো বিছানো পলিথিনের চটে ছিটিয়ে শুকানো হয়। উৎপাদিত শুঁটকিগুলোর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হচ্ছে লইট্যা,ছুরি,ফাইস্যা,চইক্যা,পোপা ও চিংড়িসহ নানা প্রজাতির সামুদ্রিক মাছ।


এখানকার উৎপাদিত শুঁটকি স্বাদে ও মানে প্রসিদ্ধ হওয়ায় স্থানীয় চাহিদা মিটিয়ে ঢাকা-চট্টগ্রামসহ বিভিন্ন এলাকায় বিক্রির জন্য নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। যা স্থানীয় খুচরা বাজারে প্রতি কেজি লইট্যা ৫০০ থেকে ৬০০ টাকা,ফাইস্যা ৩৫০ থেকে ৪৫০ টাকা,ছুরি ৭০০ থেকে ৯৫০ টাকা,বড় চিংড়ি (চাগাইছা) ১৩০০ থেকে ১৫০০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।

এছাড়া শুঁটকি মহালের মাছের গুড়ি পোল্ট্রি ফার্ম ও ফিস ফিডের জন্য সরবরাহ হয়ে থাকে।


সিনিয়র উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা মো.রাশিদুল হক বলেন,আনোয়ারা উপক‚লে প্রায় ২০টি মহালে প্রচলিত নিয়মে শুঁটকি উৎপাদন করা হচ্ছে। বিষমুক্ত শুঁটকি উৎপাদনের ক্ষেত্রে জেলেদের সচেতনতামুলক পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। ডিডিটি পাউডার বা কীটনাশক না মেশালে শুঁটকির প্রকৃত স্বাদ পাওয়া যায়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *