চট্টগ্রাম, , বৃহস্পতিবার, ২ এপ্রিল ২০২০

খলিল চৌধুরী সৌদি আরব প্রতিনিধি

মদিনায় সড়ক দুর্ঘটনায় বাংলাদেশি মামা-ভাগ্নে নিহত

প্রকাশ: ২০১৯-১২-২২ ০৮:৪৯:৫৪ || আপডেট: ২০১৯-১২-২২ ০৮:৫০:০৩

খলিল চৌধুরী,সৌদি আরব প্রতিনিধি :

সৌদি আরবে সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত হয়েছেন নারায়ণগঞ্জের দুই যুবক। তাদের দু’জনের বাড়ি বন্দর উপজেলায়। সম্পর্কে তারা মামা-ভাগ্নে।

গতকাল শুক্রবার (২০ ডিসেম্বর) স্থানীয় সময় সন্ধ্যা সাড়ে সাতটায় সৌদি আরবের মদিনা থেকে জেদ্দা ফেরার পথে গাড়ি উল্টে গিয়ে তাদের মৃত্যু হয়। এ সময় আহত হন আরও তিনজন।


নিহতরা হলেন- বন্দর উপজেলার মুছাপুর ইউনিয়নের বাজুবাগ গ্রামের আব্দুল বাতেনের ছেলে সাজ্জাদ আহমেদ সাজু (২৬) এবং একই উপজেলার ভূইয়াবাড়ি এলাকার সালাউদ্দিনের ছেলে মেজবাহ্ উদ্দিন ফাহিম (২৪)।


এই দুর্ঘটনায় আহতরাও একই উপজেলার মতিউর (৩০), হানিফা (২৪) ও সেলিম (৩৪)।
সৌদি প্রবাসী ফারাবি ফাহাদ বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। ফাহাদ নিহত ফাহিমের ছোট ভাই। তারা উভয়ে সৌদিতে মাছবাজারে কাজ করতেন।
ফাহাদ জানান, শুক্রবার সন্ধ্যায় তার বড় ভাই ও মামা মদিনা থেকে জেদ্দা যাবার পথে মদিনা রোডে গাড়ি দুর্ঘটনায় মারা গেছেন।


বন্দর উপজেলার মুছাপুর ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য খলিলুর রহমান জানান, বাজুরবাগ গ্রামের আব্দুল বাতেন মিয়ার ছেলে সাজ্জাদ, পার্শ্ববর্তী পিছকামতাল গ্রামের মো. হারুজ মিয়ার ছেলে সেলিম, মোস্তফা মেম্বারের ছেলে হানিফা, পার্শ্ববর্তী ধামগড় ইউপি জাঙ্গাল গ্রামের মতিউর রহমান ও বন্দর ভূঁইয়াবাড়ি এলাকার সালাউদ্দিনের মেজবাহ উদ্দিন ফাহিম তিন বছর পূর্বে মাছের আড়তের কাজে সৌদি আরবে যায়। মাছের বকেয়া টাকা আনতে একটি প্রাইভেট কার দিয়ে শুক্রবার জেদ্দা থেকে মদিনা পৌঁছান।


এ ব্যাপারে জানতে চাইলে বন্দর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. রফিকুল ইসলাম সময় নিউজকে বলেন, সৌদি আরবে শুক্রবার সড়ক দুর্ঘটনায় দুই বাংলাদেশি নিহত হয়েছেন বলে মিডিয়ার মাধ্যমে জেনেছি। তবে তারা বন্দর উপজেলার বাসিন্দা কিনা সেটা নিশ্চিত নই।


এদিকে প্রবাসে সড়ক দুর্ঘটনায় একই উপজেলার দু’জনের মৃত্যু ও আহত তিনজনের পরিবারের স্বজনদের মধ্যে চলছে শোকের মাতম। স্বজনরা দ্রুত নিহত দু’জনের মরদেহ দেশে ফিরিয়ে আনতে সরকারের কাছে দাবি জানান।


এ ব্যাপারে অভিবাসী কর্মী উন্নয়ন প্রোগ্রাম (ওকাপ) এর নারায়ণগঞ্জ জেলা সশাখার ফিল্ড অফিসার মো. আমিনুল হক বলেম, প্রবাসে কোন বাংলাদেশির অপমৃত্যু হলে সরকারের পক্ষ থেকে তিন লাখ টাকা ক্ষতিপূরণ দেয়া হয়ে থাকে। নিহতের পরিবার যাতে দ্রুত সেই ক্ষতিপূরণ পেতে পারে আমরা ওকাপের পক্ষ থেকে সরকারের সাথে যোগাযোগ করে সহযোগিতা করে থাকি, যাতে সঠিক সময়ে নির্দিষ্ট পরিমাণ টাকাটা পরিবার পায়।

পাশাপাশি লাশ দ্রুত দেশে ফিরিয়ে আনার ব্যাপারেও আমরা প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে যোগাযোগ করে কাজটি ত্বরান্বিত করতে সহযোগিতা করি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *