চট্টগ্রাম, , বৃহস্পতিবার, ৯ এপ্রিল ২০২০

শংকর চৌধুরী খাগড়াছড়ি জেলা প্রতিনিধি

খাগড়াছড়িতে আদালতের ব্যতিক্রমী আদেশ সাজাপ্রাপ্ত আসামী সাজা খাটবেন বাড়িতে

প্রকাশ: ২০২০-০১-০৭ ১১:২৫:৪০ || আপডেট: ২০২০-০১-০৭ ১১:২৫:৪৮

শংকর চৌধুরী,খাগড়াছড়ি :
খাগড়াছড়িতে ফৌজদারী মামলায় এক আসামীকে ৬ মাসের সাজা দিয়েছেন আদালত। কিন্তু আসামী হাজতে যাননি, সাজা খাটবেন বাড়িতে। ব্যতিক্রমী কিন্তু আইনানুগ এই আদেশে শহরে আলোচনার ঝড় উঠেছে।

বাদীপক্ষের আইনজীবী এডভোকেট মোঃ শাহীন হোসেন জানান, মামলার বাদী মাটিরাঙা উপজেলার লাম্বাছড়া গ্রামের আবদুর রহমান মিয়া তাকে বিগত ১৮ ফেব্রুয়ারী ২০১৮ইং তারিখে মারধোরের অভিযোগে ১ মার্চ, ১৮ ইং তারিখে আদালতে একই এলাকার আবদুস সামাদকে আসামী করে মামলা করে। মামলায় বিগত ২৭ নভেম্বর, ২০১৮ ইং তারিখে আসামী সামাদের বিরূদ্ধে চার্জ গঠন করা হয়। এই মামলায় মোট ৬ জন সাক্ষী সাক্ষ্য প্রদান করেন। সাক্ষ্য প্রমানে অভিযোগ প্রমানিত হওয়ায় বিগত ১৭ ডিসেম্বর, ২০১৮ইং তারিখে আসামী আবদুস সামাদকে ৬ মাসের কারাদন্ডাদেশ দেন জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট (প্রথম আদালত) মোঃ সামিউল আলম।

আদেশের মতে জেল হাজতে আসামীকে না পাঠিয়ে কারাদন্ড স্থগিত রেখে সমাজ সেবা কার্যালয়ের প্রবেশন অফিসারের নিকট প্রি-সেন্টেস রিপোর্ট তলব করেন আদালত। জেলা সমাজসেবা কার্যালয়ের প্রবেশন অফিসার কৃতি বিজয় চাকমা গত ২রা জানুয়ারী আসামী মোঃ আবদুস সামাদের অপরাধ দি প্রবেশান অব অপেন্ডারস এ্যাক্ট, ১৯৬০এর ৪(১) ধারা মতে পারিবারিক ও সামাজিক অবস্থা বিবেচনায় প্রবেশনযোগ্য মতামত দিয়ে আদালতে প্রতিবেদন দেন। প্রতিবেদন গ্রহন করে কারাদন্ডকালীন অর্থ্যাৎ ৬মাস সময় ১১ শর্ত মেনে বাড়িতে থাকবেন সাজাপ্রাপ্ত আবদুস সামাদ।

এবিষয়ে আসামীপক্ষের আইনজীবী এডভোকেট মো. নজরুল ইসলামের সাথে সোমবার আদালত চত্ত্বরে কথা বললে তিনি জানান, এই ধরণের রায় খাগড়াছড়ি জেলায় প্রথম। রায়টি ব্যতিক্রমী কিন্তু আইনানুগ উল্লেখ করে তিনি বলেন, প্রবেশান সংক্রান্ত মহামান্য হাইকোর্টের বিগত ১২ ফেব্রুয়ারী, ২০১৯ তারিখের সার্কুলার নং জে-০১/২০১৯ এ বর্ণিত নির্দেশনাবলী অনুসরণ করে এই আদেশ দেওয়া হয়েছে।

খাগড়াছড়ি আইনজীবী সমিতির সাধারণ সম্পাদক এডভোকেট আকতার উদ্দিন মামুন এই ধরণের রায়কে স্বাগত জানিয়ে বলেন, বিচারক মোঃ সামিউল আলম শুধু প্রবেশন সংক্রান্ত মহামান্য হাইকোর্টের নির্দেশনা অনুসরণ করেননি, তিনি আইনকে সর্বোচ্চ প্রাধান্য দিয়ে একজন কারাদন্ড প্রাপ্ত ব্যক্তিকে জেলখানায় ঘৃন্য অপরাধীদের সংস্পর্শ থেকে দুরে রেখে, ভবিষ্যতে আরো বড় অপরাধে জড়িত হবার হাত থেকে রক্ষা করেছেন। এই প্রক্রিয়া চলমান থাকলে যারা পূর্বে দন্ডপ্রাপ্ত হননি বা প্রথম অপরাধে এক বছর পর্যন্ত কারাদন্ড প্রাপ্ত হয়েছেন, তারা বড় অপরাধ থেকে বা অপরাধীর সংস্পর্শে আসা থেকে বাঁচবেন। যা সমাজে অপরাধ কমাবে বলে মনে করেন তিনি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *