চট্টগ্রাম, , মঙ্গলবার, ১৮ ফেব্রুয়ারি ২০২০

খলিল চৌধুরী সৌদি আরব প্রতিনিধি

রিয়াদ দূতাবাসের সহায়তায় ৯ লাখ টাকা পেলেল বাংলাদেশি গৃহকর্মী ইয়াসমিন

প্রকাশ: ২০২০-০১-২২ ১৮:০৯:৩৮ || আপডেট: ২০২০-০১-২২ ১৮:০৯:৪৪

খলিল চৌধুরী, সৌদি আরব প্রতিনিধি :

মধ্যপ্রাচ্য সৌদি আরকে বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় শ্রমবাজার। পেট্রো ডলারের এই দেশটিতে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের মতো বাংলাদেশের প্রায় ২২ লাখ প্রবাসী কাজ করছেন।

পরিবারের সচ্ছলতার জন্য মরুর প্রচন্ড খরতাপে কাজ করে এসব প্রবাসীরা বাংলাদেশের রেমিটেন্স এর মাধ্যমে অর্থ প্রেরণ করে বাংলাদেশের অর্থনীতির চাকাকে সচল রেখে চলেছেন।


বাংলাদেশ সরকার পুরুষদের পাশাপাশি নারী শ্রমিকদেরও সৌদিআরবে প্রেরণ করে আসছে।
২০১৫ সালে এক চুক্তির পর বাংলাদেশ থেকে নারী গৃহকর্মী পাঠানোর শুরু হয় সৌদি আরবে।
সেই থেকে এখন পর্যন্ত প্রায় তিন লাখের মতো নারী শ্রমিক গৃহকর্মী হিসেবে কাজ করছে মরুময় দেশটিতে।

এই খাতটিতে বাংলাদেশী প্রচুর সংখ্যক নারী শ্রমিক কাজ করার সুযোগ রয়েছে বলে মনে করছেন প্রবাসীরা। কিন্তু প্রেরণকৃত নারী শ্রমিকদের সঠিকভাবে ট্রেনিং না করে পাঠানো এবং কিছুসংখ্যক দালালদের খপ্পরে পড়ে বিভিন্ন সময় এসব নারী শ্রমিকদের পড়তে হয়েছে নানা সমস্যায়।

পাশাপাশি রয়েছে স্থানীয় কিছু সংখ্যক নিয়োগকর্তা অত্যাচার।
তাদেরই একজন নারায়ণগঞ্জ জেলার বন্দর থানার ইয়াসমিন আক্তার ৪ বছর আগে ২০১৫ সালের ২৩ ডিসেম্বর নারী গৃহকর্মীর কাজ নিয়ে পাড়ি জমান সৌদি আরবের তাবুকে।


ইয়াসমিন আক্তার এর ভাষ্যমতে নিয়োগকর্তা আব্দুল হাদিস আল আমরি স্থানীয় প্রশাসনের প্রভাবশালী কর্মকর্তা। কাজে যোগ দেওয়া পরদিন থেকেই তার সঙ্গে থাকা মোবাইল ফোনটি কেড়ে নেন শুরু হয় শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন। ঠিকমতো খাওয়া দিত না সামান্য ভুল হলে গায়ে হাত তুলতো এমনকি দেশে পরিবার সঙ্গেও কথা বলতে দিত না এই নিয়োগকর্তা।

মাস শেষে বেতনের টাকা চাইলে বৈদ্যুতিক শক সহ অমানুষিক নির্যাতন। এমত অবস্থায় ইয়াসমিন আক্তার এর পরিবারের পক্ষ থেকে বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে সৌদি দূতাবাসে আবেদন করেন ।

নিয়োগকর্তার বিরুদ্ধে অভিযোগ আসার পর ইয়াসমিনের ওপর নির্যাতনের মাত্রা বেড়ে যায় বহুলাংশে।এক পর্যায়ে ইয়াসমিন আক্তার বাসা থেকে পালিয়ে বাংলাদেশ কনস্যুলেট জেনারেল জেদ্দা আশ্রয় নেন।


পরে দূতাবাসের সহায়তায় স্থানীয় শ্রম আদালতে মামলা করা হয় নিয়োগকর্তার বিরুদ্ধে। চারটি শুনানির পর আদালত ভিকটিমের পক্ষে রায় দেয়। ইয়াসমিনের ৪২ মাসের বকেয়া বেতনের ৪২ হাজার সৌদি রিয়াল যা বাংলাদেশি মুদ্রায় ৯ লাখ ৪৫ হাজার টাকা। এই অর্থ আদায় করে ইয়াসমিনকে বুঝিয়ে দেন দূতাবাসের শ্রমকল্যাণ উইংয়ের মেহেদী হাসান।


এ বিষয়ে জানতে চাইলে দূতাবাসের প্রেস কাউন্সিল ফখরুল ইসলাম বলেন দীর্ঘদিন জেদ্দা কনস্যুলেট এর প্রচেষ্টা পরবর্তীতে দূতাবাসের অক্লান্ত পরিশ্রমে সঠিকভাবে নিয়োগকর্তার বিরুদ্ধে স্থানীয় শ্রম আইনে মামলা করা হয় কিন্তু নিয়োগকর্তা সৌদি সরকারের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা হওয়াতে মামলায় জিততে অনেক বেগ পেতে হয়েছে তবে এ কথা প্রমাণিত হয়েছে আইনের শাসন এবং যথাযথ ডকুমেন্ট থাকলে নিয়োগকর্তা যত বড় শক্তিশালী হোক না কেন শ্রমিক শ্রমিকদের পাওনা দিতে বাধ্য হয় এবং দূতাবাস নির্যাতিত শ্রমিকদের পক্ষে কাজ করতে সহজ হয় বলে তিনি মন্তব্য করেন।

বাংলাদেশ থেকে যেসব শ্রমিক পুরুষ অথবা গৃহকর্মী যারাই বিদেশে পাড়ি জমাবেন তারা যেন দূতাবাসের নাম্বার যাবতীয় ডকুমেন্ট এবং সঠিক ট্রেনিং নিয়ে কাজ সম্পর্কে সচেতন হয়ে যেন প্রবাসে আসেন তাহলে ওইসব শ্রমিকদের সমস্যা অনেকাংশে কমে যাবে বলে মনে করেন এই কর্মকর্তা।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *