চট্টগ্রাম, , শনিবার, ২২ ফেব্রুয়ারি ২০২০

admin

রাঙ্গুনিয়ায় পুলিশের বিশেষ উদ্যোগ ‘ওসি এখন আপনার পাশে’

প্রকাশ: ২০২০-০২-১৪ ২১:২৪:৪১ || আপডেট: ২০২০-০২-১৪ ২১:২৪:৫০

আব্বাস হোসাইন আফতাব, রাঙ্গুনিয়া প্রতিনিধি :

“মুজিববর্ষের অঙ্গীকার, পুলিশ হবে জনতার” এই প্রতিপাদ্যে রাঙ্গুনিয়ার প্রতিটি ইউনিয়নে নিয়মিত সপ্তাহের একদিন করে অফিস করার কার্যক্রম গ্রহণ করেছে পুলিশ। রাঙ্গুনিয়া থানার ওসি মুহাম্মাদ সাইফুল ইসলাম এই উদ্যোগ গ্রহণ করেন। জনগণের আরও কাছাকাছি পুলিশকে নিয়ে যাওয়ার লক্ষ্যে ব্যতিক্রমী এই উদ্যোগ নিয়েছেন বলে জানান তিনি।

ওসি এখন আপনার পাশে, আপনার অভিযোগ সরাসরি ওসিকে জানান” এই স্লোগানে প্রথম বারের মতো বৃহস্পতিবার (১৩ ফেব্রুয়ারী) বিকাল ৩টা থেকে ৫টা পর্যন্ত উপজেলার দক্ষিণ রাজানগর ইউনিয়নের ধামাইরহাট ধামাইরহাট ভিএড ক্লাব মাঠে পুলিশের এই কার্যক্রম শুরু করা হয়।

প্রথম দিনেই ৩টি লিখিত অভিযোগ সহ মৌখিকভাবে মাদক, ইভটিজিং, ছিনতাই সহ বিভিন্ন অপরাধের একাধিক অভিযোগ পেয়েছে পুলিশ।

স্থানীয় জনসাধারণের করা এই অভিযোগের ভিত্তিতে তড়িৎ গতিতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস প্রদান করেন ওসি মুহাম্মদ সাইফুল ইসলাম।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, উত্তর রাঙ্গুনিয়ার ধামাইরহাট বাজারের ধামাইরহাট ভিএড পাবলিক মাঠের এক পাশে সাইনবোর্ডে লেখা ‘ওসি এখন আপনার পাশে’।

সামনে চেয়ার পেতে বসা ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকা থেকে আসা মানুষজনের কথা শুনছেন ওসি সাইফুল। সেখানে এসে ওসিকে কেউ জানাচ্ছেন ব্যক্তিগত অভিযোগ, কেউ বলছেন এলাকার নানা সমস্যার কথা। আবার অনেকে অপরাধমুক্ত এলাকা গড়তে দিচ্ছেন নানা প্রস্তাব। ওসি নিজেই সেসব অভিযোগ শুনে বিষয়গুলো তাৎক্ষণিকই সমাধান দেওয়ার চেষ্টা করছেন।

এই কাজে থানার নিয়মিত দায়িত্বরত কর্মকর্তা হিসেবে তাকে সহায়তা করছেন উপ-পরিদর্শক সুমন কুমার দে সহ থানার ৩ জন উপ পরিদর্শক এবং একদল পুলিশ।

ওসি সাইফুল ইসলাম বলেন, রাঙ্গুনিয়া সহ চট্টগ্রামের তিনটা থানায় ওসি হিসেবে আমি চাকুরী করার সুবাধে পুলিশভীতির পুরোনো চিত্র দেখতে পেয়েছি। অনেকে থানায় ঢুকতে ভয় পান। থানায় একা একা আসতে চান না। আসার সময় রাজনৈতিক নেতা, উকিল ধরেন। থানায় ও ওসির কক্ষে ঢুকতে মানুষের ভয় কাটানোর জন্যই বিভিন্ন ইউনিয়নে গিয়ে একদিন করে অফিস করার পদক্ষেপ নিয়েছি। এতে মানুষ জানতে পারবেন, পুলিশ তাঁদের বন্ধু, তাঁদের কল্যাণেই কাজ করে।

তিনি বলেন, ‘পুলিশের কাজ হচ্ছে জনগণের সেবা করা, তাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা। জনগণের আরও কাছাকাছি যাওয়ার লক্ষ্য থেকেই এই উদ্যোগের কথা মাথায় আসে। এখন অনেকে বেশ স্বাচ্ছন্দ্যে তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ করছেন। খোলামনে সমস্যার কথা জানাচ্ছেন। তিনিও পুলিশ সম্পর্কে ইতিবাচক ধারণা দেওয়ার সুযোগ পাচ্ছেন। অন্যদিকে অপরাধীদের জন্যও এটি একটি সতর্ক বার্তা যে, অপরাধ করছে ছাড় পাওয়ার সুযোগ নেই।’

এদিকে পুলিশের বিশেষ এই উদ্যোগের উদ্বোধন উপলক্ষে আয়োজিত সভায় বক্তব্য দেন স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান আহম ছৈয়দ তালুকদার, লালানগর ইউপি চেয়ারম্যান মীর তৌহিদুল ইসলাম কাঞ্চন, আওয়ামী লীগ নেতা আবদুর রহমান, জামাল উদ্দিন, সাংবাদিক আব্বাস হোসাইন আফতাব, জগলুল হুদা, ইউপি সদস্য আব্দুস সালাম, আব্দুল কাদের, শাহ আলম, কাজী মঈন, ব্যবসায়ী নেতা জসিম উদ্দিন তালুকদার, ফজলুল ইসলাম সেলিম প্রমুখ।

কার্যক্রমের প্রথম দিনেই ৩টি সাধারণ ডায়রিসহ ৯ টি মৌখিক অভিযোগ পেয়েছেন জানিয়ে কর্তব্যরত পুলিশ কর্মকর্তার দায়িত্বে থাকা রাঙ্গুনিয়া থানার উপ-পরিদর্শক সুমন কুমার দে বলেন, “ মাদক, ইভটিজিং, ছিনতাইসহ বিভিন্ন সামাজিক অপরাধের মৌখিক অভিযোগ পেয়ে নোট করা হয়েছে।

এসব অভিযোগ তদন্ত করে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস প্রদান করেন ওসি মুহাম্মদ সাইফুল ইসলাম। এই কার্যক্রমে সহযোগিতা করেন থানার উপ-পরিদর্শক মো. ইসমাঈল হোসেন ও মাহাবুব হোসেনসহ ৫ জন পুলিশ সদস্য।

এসময় উপস্থিত ছিলেন দক্ষিণ রাজানগর ইউপি চেয়ারম্যান আহামদ ছৈয়দ তালুকদার ও লালানগর ইউপি চেয়ারম্যান মীর তৌহিদুল ইসলাম। অনেক অভিযোগ মাইকে প্রকাশ্যে বলেন অভিযোগকারীরা।

অভিযোগ দিতে আসা দক্ষিণ রাজানগর ইউনিয়নের শিক্ষক শাহ আলম বলেন, থানায় যেতে মানুষের যে ভয় কাজ করত, তা এই উদ্যোগের কারণে দূর হয়ে যাবে। ভয় না করে ওসির সঙ্গে এভাবে সরাসরি কথা বলার পর মনে শান্তি পাচ্ছে এলাকার মানুষ।”

এলাকার তরুন কাজী মো. শাওয়াল এলাকায় নির্দিষ্ট করে মাদক বেচাকেনা কোথায় হচ্ছে জানিয়ে ওসিকে অভিযোগ দেন। বখাটেরা কোন কোন স্কুলের সামনে অবস্থান নেন তাও জানান তিনি।

তিনি আরো বলেন, থানা মানুষের দোড়গোড়ায় আসছে ভাবতে অবাক লাগছে। সাধারণ জনগণের কথা শুনছে পুলিশ। সাধারণ মানুষ উৎসাহ পেয়েছে, সাহস পেয়েছে নিজেদের কথাগুলো বলার।

অভিযোগ দিতে এসে উল্টো এক পুলিশ সদস্যের বিরুদ্ধে অভিযোগ করেন দক্ষিণ রাজানগর ইউনিয়নের রাজা ভুবন ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য আব্দুস সালাম। তিনি বলেন, তাঁর এলাকায় রাতে উন্মুক্ত দোকানে মাদক সেবন ও বেচাকেনা হচ্ছে। কাউকে মানছেনা তাঁরা। স্থানীয় এক পুলিশ ফাঁড়ির পুলিশ সদস্যের বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলে বলেন উনি মাদক ব্যবসায়ীর কাছ থেকে মাসোহারা নিয়ে এলাকায় মাদক জিঁইয়ে রেখেছেন।”

এই বিষয়ে ওসি মুহাম্মদ সাইফুল ইসলাম বলেন, পুলিশ সদস্যের বিরুদ্ধে অভিযোগ তদন্ত করে দেখা হচ্ছে । অভিযোগের সত্যতা পেলে তাঁকে প্রত্যাহার করা হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *