চট্টগ্রাম, , বুধবার, ২১ অক্টোবর ২০২০

প্রদীপ শীল রাউজান প্রতিনিধি

ধর্ষক বড়ভাই: ধর্ষিতা অন্তঃসত্ত্বার সাথে ছোট ভাইয়ের বিয়ে !

প্রকাশ: ২০২০-০৩-০৩ ২১:১৬:৫৭ || আপডেট: ২০২০-০৩-০৩ ২১:১৭:০৫

রাউজান প্রতিনিধিঃ

চট্টগ্রামের রাউজানে বড় ভাইয়ের ধর্ষণের ঘটনাকে আড়াল করতে গভীর রাতে শালিস বৈঠক করে ছোট ভাইয়ের সাথে ধর্ষিতা তরুনীকে বিয়ে পড়িয়ে দিয়েছেন এক উপজেলা যুবলীগ নেতা।

ঘটনাটি ঘটেছে উপজেলার ৫ নম্বর ওয়ার্ডের আধারমানিক গ্রামের কাশেম মেম্বারের বাড়িতে।

গতকাল মঙ্গলবার বিকালে সরেজমিনে গিয়ে স্থানীয় লোকজন, জনপ্রতিনিধি ও সংশ্লিষ্ট পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলে ঘটনার সত্যতা পাওয়া গেছে।

জানা যায়, কাশেম মেম্বার বাড়ির নুরুল ইসলামের ছেলে মো. সরওয়ার বিয়ের প্রলোভনে এক তরুনীকে ধর্ষণ করে। এতে ওই তরুনী পাঁচ মাসের অন্তঃসত্ত্বা হয়ে পড়েন।

ঘটনাটি জানাজানি হলে ধর্ষককে আড়াল করতে উপজেলা যুবলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক মঈন উদ্দিন নেতৃত্বে গত সোমবার গভীর রাতে পূর্ব গুজরা ইউনিয়ন পরিষদ কমপ্লেক্সে একটি শালিস বৈঠকের আয়োজন করা হয়।

ওই বৈঠকেই ধর্ষক সরোয়ারকে আড়াল করে প্রশাসনকে না জানিয়ে উল্টো ধর্ষকের ছোটভাই মারুফের সাথে বিয়ে পড়িয়ে দেয়া হয়। অভিযোগ আছে, যারা এ শালিস বৈঠকের নেতৃত্ব দিয়েছেন তারা ৪০ হাজার টাকা আদায় করেছে ধর্ষকের কাছ থেকে। এ ঘটনার পর এলাকায় চরম ক্ষোভ বিরাজ করছে।

এ প্রসঙ্গে অভিযুক্ত সরোয়ার বলেন, আমাদের মধ্যে যা ঘটেছে তা সমঝোতা করে দিয়েছেন যুবলীগ নেতা মঈন উদ্দিন। এর বাইরে আমার আর কোন কথা নেই। পূর্বগুজরা ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য আবদুল সালাম বলেন, ঘটনা সম্পর্কে তিনি লোকমুখে শুনলেও শালিস বৈঠকের ব্যাপারে তাকে কেউ কিছু জানায় নি।

শালিস বৈঠককারী উপজেলা যুবলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক মঈন উদ্দিন ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বলেন, উভয় পক্ষের সম্মতি নিয়ে ছোটভাই মারুফের সাথে ওই তরুনীটির বিয়ে পড়িয়ে দেয়া হয়। আমি একটি ভাল কাজ করতে পেরেছি।

পূর্বগুজরা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আব্বাস উদ্দিন আহমেদ বলেন, শালিস বৈঠকের বিষয়ে কিছুই জানতাম না। পরে খবর নিয়ে ঘটনার সত্যতা পান বলে দাবি করেন তিনি। তার ইউনিয়ন পরিষদে শালিস বৈঠকের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমার অজান্তে এ বৈঠক আমার কার্যালয়ে হয়েছে।

যারা এ শালিস বৈঠকের সাথে জড়িত তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে। পূর্ব গুজরা ইউনিয়ন পরিষদের নিকাহ রেজিষ্টার কাজী আবু বকর বিবাহ নিবন্ধনের কথা স্বীকার করে করেছেন।

রাউজান উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জোনায়েদ কবির সোহাগ বলেন, বিবাহ বহিঃর্ভূত সম্পর্ক ধর্ষণের পর্যায়ে পড়ে।

এই ধরনের ঘটনা শালিস বৈঠক করে মিমাংসা করার এখতেয়ার কারো নেই। ভিকটিম পরিবারের পক্ষ থেকে যদি কোন অভিযোগ পাওয়া যায় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য থানা পুলিশকে নির্দেশ দেয়া হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *