চট্টগ্রাম, , বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর ২০২০

শংকর চৌধুরী খাগড়াছড়ি জেলা প্রতিনিধি

খাগড়াছড়িতে বিজিবির গুলিতে একই পরিবারের ৫ জনসহ নিহত ৬

প্রকাশ: ২০২০-০৩-০৪ ০৬:২৬:২০ || আপডেট: ২০২০-০৩-০৪ ০৬:২৬:৩০

শংকর চৌধুরী,খাগড়াছড়ি :

খাগড়াছড়ির মাটিরাঙ্গায় বিজিবির গুলিতে ১ বিজিবি সদস্যসহ বাবা-মা ও দুই সহোদরসহ একই পরিবারের ৫ জন নিহত হয়েছে

নিহতরা হলেন, বিজিবি সদস্য শাওন, গ্রামবাসী মোঃ সাহাব মিয়া প্রকাশ মুছা (৫০), তার দুই ছেলে আহম্মদ আলী ও আলী আকবর এবং গুলিবিদ্ধবস্থায় চমেক হাসপাতালে নেয়ার পথে সাহাব মিয়ার বিয়াই নিহত আহম্মদ আলীর শশুর মফিজ মিয়া মারা যায়।

আর এদিকে বিজিবি’র গুলিতে স্বামীসহ দুই সন্তানের মৃত্যু সংবাদ শুনে সাহাব মিয়ার স্ত্রী রঞ্জু বেগম আলুটিলা বটতলীর নিজ বাড়িতে হৃদ যন্ত্রের ক্রিয়া বন্ধ হয়ে মারা যান।

ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, মঙ্গলবার (৩ মার্চ) সকাল সাড়ে ১১ টার দিকে বৈদ্যুতিক তার টানার জন্য নিজেদের জায়গা থেকে কয়েকটি গাছ কাটা হয়।

একটি ট্রলিতে করে সাহাব মিয়া ও তার ছেলে আলী আকবর কয়েক টুকরো গাছ গাজীনগর বাজারের একটি কাঠের মিলে নিয়ে যাওয়ার পথে, গাজীনগর এলাকায় ৪০ বিজিবির পলাশপুর জোনের একটি টহল দল ট্রলি আটকিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করেন। একপর্যায়ে বিজিবির সাথে তর্কে জড়িয়ে পড়ে সাহাব মিয়া ও তার ছেলে।

এ নিয়ে বিজিবি ও গ্রামবাসীর মধ্যে বাকবিতন্ডতার এক পর্যায়ে বিজিবির সাথে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে স্থানীয়রা। এসময় বিজিবি সদস্যরা এলোপাতাড়ি গুলি চালালে ঘটনা স্থলেই বিজিবি সদস্য শাওন, সাহাব মিয়া ও তার ছেলে আলী আকবর মারা যায়।

মাটিরাঙ্গা পৌরসভার ১নং ওয়ার্ডের সাবেক কাউন্সিলর মোঃ সাইফুল ইসলাম বাবু জানান, দীর্ঘদিন ধরেই বিজিবি সাধারন মানুষকে নানা ভাবে হয়রানি করে যাচ্ছে। সাধারন মানুষ নিজেদের বাড়ির গাছ কাটতে গেলেও বিজিবি বাঁধা প্রদান করে।

মাটিরাঙ্গা সার্কেলের সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার মোঃ খোরশেদ আলম জানান, বিজিবি-গ্রামবাসীর সংঘর্ষের ঘটনায় তদন্ত করে স্থানীয়দের সাথে কথা বলে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে। ২ জনকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। তাৎক্ষণিক তাদের নাম জানা যায়নি।

মাটিরাঙ্গা থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শামছুদ্দিন ভুঁইয়া সংঘর্ষে ৬ জন নিহতের বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, এ ঘটনায় নিহত বিজিবি সদস্যসহ দুজনের মরদেহ হাসপাতালে রয়েছে।

অন্য দুজনের মরদেহ ঘটনাস্থল থেকে উদ্ধার করা হয়েছে। স্বামী ও দুই সন্তানের মৃত্যুর খবরে মারা গেছেন সাহাব মিয়ার স্ত্রী রঞ্জু বেগম। এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে জানিয়ে তিনি বলেন, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ঘটনাস্থলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী কাজ করছে।

এদিকে ঘটনার পর বিকেল ৩টার দিকে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন, সেনাবাহিনীর গুইমারা রিজিয়ন কমান্ডার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোহাম্মদ শাহরিয়ার জামান, খাগড়াছড়ির জেলা প্রশাসক প্রতাপ চন্দ্র বিশ্বাস, পুলিশ সুপার মো. আব্দুল আজিজ, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার এমএম সালাহ উদ্দিন, মাটিরাঙ্গা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বিভীষণ কান্তি দাশ, উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান মোঃ রফিকুল ইসলাম, মাটিরাঙ্গা পৌরসভার মেয়র মোঃ শামছুল হক ও মাটিরাঙ্গা উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি এম হুমায়ুন মোরশেদ খান।

জেলা প্রশাসক প্রতাপ চন্দ্র বিশ্বাস বলেন, এঘটনায় অতিরিক্ত জেলা মেজিস্ট্রেট খন্দকার রেজাউল করিমকে প্রধান ও অতিরিক্ত পুলিশ সুপার একং বিভাগীয় বন কর্মকর্তার প্রতিনিধিকে সদস্য করে তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গ্রহণ করা হয়েছে।

তদন্ত কমিটি প্রতিবেদন দেয়ার আগে এ বিষয়ে মন্তব্য করা যাবে না। তদন্ত প্রতিবেদন পাওয়ার পর দোষীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। নিহতদের প্রত্যেক পরিবারকে জেলা প্রশাসকের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক ২০ হাজার টাকা করে দেয়া হবে। তিনি সকলকে শান্ত থাকারও আহবান জানান।

এ ঘটনায় জড়িত দোষীদের বিচারের আওতায় আনা হবে জানিয়ে, সেনাবাহিনীর গুইমারা রিজিয়ন কমান্ডার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোহাম্মদ শাহরিয়ার জামান বলেন, কেউই আইনের উর্ধ্বে নয়। বিষয়টি ইতিমধ্যে উধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হয়েছে।

এসময় স্থানীয়রা বিজিবি ক্যাম্প প্রত্যাহারের দাবী জানালে তিনি বলেন, গুটি কয়েক খারাপ লোকের জন্য একটি বাহিনীকে দোষারোপ করা যাবেনা। তিনি ধৈর্যধারণ করে সকলকে শান্ত থাকারও আহবান জানান।

উল্লেখ, এঘটনায় এই পর্যন্ত এক বিজিবি সদস্যসহ মোট ৬জন নিহত হয়েছে। এলাকায় থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *