চট্টগ্রাম, , বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর ২০২০

শংকর চৌধুরী খাগড়াছড়ি জেলা প্রতিনিধি

বিজিবির গুলিতে নিহতদের মরদেহ সমাহিত : মাটিরাঙ্গায় শোকের মাতম : জনমনে আতঙ্ক

প্রকাশ: ২০২০-০৩-০৪ ১৮:৩৩:৫৬ || আপডেট: ২০২০-০৩-০৪ ১৮:৩৪:০৫

শংকর চৌধুরী, খাগড়াছড়ি :

খাগড়াছড়ির মাটিরাঙ্গায় বিজিবির গুলিতে একই পরিবারের ৩ জনসহ
নিহত ৪ জনের জানাজা শেষে দাপন সম্পন্ন হয়েছে।

বুধবার সকালে একই পরিবারের তিন জনসহ ৪ জনের মরদেহবাহী অ্যাম্বুলেন্স মাটিরাঙ্গার গাজীনগর পৌঁছালে সেখানে এক হৃদয়বিদারক দৃশ্যের অবতারণা হয়।

নিহতদের পরিবারসহ পুরো মাটিরাঙ্গা এলাকাজুড়ে শোকের মাতম। শেষ বারের মত একনজর দেখতে হাজারো মানুষ জড়ো হয় নিহতদের বাড়িতে। কান্নার রোল ওঠে পুরো এলাকা জুড়ে।

বুধবার সকাল সাড়ে ১১ টায় মাটিরাঙ্গার ১০ নং ইসলামপুর জামে মসজিদ ও আলুটিলা বটতলী উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে নামাজে জানাজা শেষে আলুটিলা বটতলী কবরস্থানে মোঃ মফিজ মিয়াকে এবং ইসলামপুর কবরস্থানে সাহাব মিয়া ও তার দুই ছেলে আলী আকবর ও আহাম্মদ আলীর দাফন সম্পন্ন হয়।

এছাড়া বিজিবির গুলিতে নিহতদের নামাজে জানাজা ও দাফনে হাজারো মানুষের সমাগম হলেও বিজিবি বা এঘটনায় গঠিত তদন্ত কমিটির কেউই উপস্থিত ছিলেন না। এলাকাবাসী সংক্ষিত লাশ দাফনের পর এলাকায় কি যেন কি হয়। জনমনে আতঙ্ক বিরাজ করছে।

এর আগে মঙ্গলবার (০৩ মার্চ) রাতে খাগড়াছড়ি সদর হাসপাতাল মর্গে বাবা ও দুই ছেলেসহ চারজনের ময়নাতদন্ত করা হয়।

আর বিকেল ৫টার দিকে ময়নাতদন্ত শেষে মঙ্গলবার (৩ মার্চ) রাতেই বরগুনার বেতাগী উপজেলার দক্ষিণ বাসন্ডা গ্রামের বাড়িতে পাঠানো হয় নিহত বিজিবি সদস্য মোঃ শাওন খানের মরদেহ।

ময়নাতদন্ত শেষে বুধবার সকালে একই পরিবারের তিন জনসহ ৪ জনের লাশ স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করেন, মাটিরাঙ্গা থানা পুলিশের ওসি মোঃ শামসুদ্দিন ভুঁইয়া।

এ সময় মাটিরাঙ্গা উপজেলা নির্বাহী অফিসার বিভীষণ কান্তি দাশ, সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার (মাটিরাঙ্গা সার্কেল) মোঃ খোরশেদ আলমসহ অন্যান্যরা উপস্থিত ছিলেন।

এ ঘটনার জন্য বিজিবির হাবিলদার ইসহাককে দায়ী করেছেন স্থানীয়রা।

ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শীরা বলেন, বাকবিতন্ডতার এক পর্যায়ে ইসহাক নির্বিচারে গুলি চালিয়েছে। গুলি চালাতে বাধাঁ দিলে এ সময় তার সহকর্মী শাওনের ওপরও গুলি চালায় সে। এমনকি গুলিবিদ্ধদের উদ্ধারে স্থানীয়রা এগিয়ে আসতে চাইলেও ইসহাকের বাধার কারণে শুরুতে কেউ এগিয়ে আসতে পারেনি।


এদিকে এ ঘটনা নিয়ে বিজিবির জনসংযোগ কর্মকর্তা মোঃ শরিফুল ইসলামের পাঠানো এক প্রেসবিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, মূলত অবৈধ কাঠ পাচাররোধে ব্যবস্থা নিলে স্থানীয় লোকজন বিজিবির টহল দলকে ঘিরে ধরে।

এ সময় উভয়ের মধ্যে বাকবিতন্ডতার এক পর্যায়ে বেসামরিক লোকজন অস্ত্র ছিনিয়ে নিয়ে অনিয়ন্ত্রিতভাবে গুলি ছোড়ে। এতে এ হতাহত হয় বলে জানানো হয়।


এদিকে ঘটনাস্থল পরিদর্শনকালে গুইমারা সেনা রিজিয়ন কমান্ডার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল শাহরিয়ার জামান বলেছেন, ঘটনায় যদি নিরাপত্তা বাহিনীর কোনো সদস্য জড়িত থাকে তাকে আইনের আওতায় আনা হবে।

এঘটনায় অতিরিক্ত জেলা মেজিস্ট্রেট খন্দকার রেজাউল করিমকে প্রধান ও অতিরিক্ত পুলিশ সুপার একং বিভাগীয় বন কর্মকর্তার প্রতিনিধিকে সদস্য করে তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গ্রহণ করেছে জেলা প্রশাসক।


এদিকে স্থানীয় সংসদ সদস্য কুজেন্দ্র লাল ত্রিপুরা, খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান কংজরী চৌধুরী, জেলা প্রশাসক প্রতাপ চন্দ্র বিশ্বাস, পুলিশ সুপার মো. আব্দুল আজিজসহ প্রশাসনের উচ্চ পর্যায়ের কর্মকর্তারা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন।

এ সময় জেলা প্রশাসকের পক্ষ থেকে নিহত প্রত্যেককের পরিবারকে ২০ হাজার টাকা করে আর্থিক সহযোগিতা দেওয়ার ঘোষণা দেওয়া হয়।


উল্লেখ, মঙ্গলবার (৩ মার্চ) সকাল সাড়ে ১১ টার দিকে নিজের বাগানের গাছ কাটাকে কেন্দ্র করে মাটিরাঙ্গার গাজীনগরে বিজিবি ও গ্রামবাসীর মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।

এসময় বিজিবি সদস্যরা এলোপাতাড়ি গুলি চালালে ঘটনাস্থলেই সাহাব মিয়া ও তার ছেলে আলী আকবর মারা যায় এবং মাটিরাঙ্গা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে সেখানেই মারা যান বিজিবি সদস্য মোঃ শাওন এবং সাহাব মিয়ার আরেক ছেলে আহাম্মদ আলী।

আর গুলিবিদ্ধ আশঙ্কাজনক অবস্থায় মোঃ মফিজ মিয়া ও তার ছেলে হানিফ মিয়াকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেয়ার পথে পথিমধ্যে মোঃ মফিজ মিয়া মারা যান।

আর ছেলে চমেক হাসপাতালে মৃত্যুর সাথে পাঞ্জা লড়ছে গুলিবিদ্ধ মোঃ হানিফ মিয়া। এঘটনায় এখনো পর্যন্ত কোন মামলা হয়নি। তবে গঠিত তিন সদস্যের কমিটি তদন্ত শুরু করেছে বলে জানা গেছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *