চট্টগ্রাম, , বুধবার, ২১ অক্টোবর ২০২০

মোঃ জয়নাল আবেদীন টুক্কু নাইক্ষ্যংছড়ি প্রতিনিধি

করোনা রোধে রামুর গর্জনিয়া বাজারে পরিচ্ছনতা অভিযান ও ত্রান বিতরণ

প্রকাশ: ২০২০-০৪-০১ ১৮:৩৪:৪১ || আপডেট: ২০২০-০৪-০১ ১৮:৩৪:৪৬

মোঃ জয়নাল আবেদীন টুক্কুঃ ১ এপ্রিল ২০২০ ইংরেজি- নোভেল করোনা ভাইরাসের প্রার্দুভাব রোধে রামুর উপজেলার অধিকাংশ ও নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলা সদর সহ ৬ ইউনিয়নের মানুষের মিলনস্থান গর্জনিয়া বাজারের দূর্গন্ধময় পরিস্থিতি দূর করতে অবশেষে এগিয়ে এলেন কচ্ছপিয়ার চেয়ারম্যান ও গর্জনিয়া বাজার ব্যবসায়ী কল্যান সমিতি ও ব্যবস্থাপনা কমিটি। ৬ ইউনিয়নের ২ লাখ মানুষের জন্যে যৌথভাবে শুরু করেন বাজারের পরিচ্ছন্নতা অভিযান। এর পরে গরিব ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী এবং কর্মহীন মানুষের হাতে তুলে দিলেন খাদ্য সামগ্রী। বুধবার (১ এপ্রিল) সকাল ১০ টায় যৌথভাবে শুরু করেন কচ্ছপিয়া ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আবু মোঃ ইসমাঈল নোমান,গর্জনিয়া বাজার ব্যবসায়ী কল্যান সমিতি ও গর্জনিয়া বাজার ব্যবস্থাপনা কমিটির নেতারা। গর্জনিয়া বাজারের ব্যবসায়ীরা জানান,বাজারটি যেন ভোক্তা ও ব্যবসায়ীদের মরণ ফাঁদ। কোন নিয়ম মানে না সংশ্লিষ্টরা। দূর্গন্ধময় পরিবেশেও একদিনে ২ বার করে ৩ থেকে ৪ গুণ বেশী চাঁদা আদায় করতে গিয়ে তাদেরকে অতিষ্ট করে তুলেছে তারা। কেউ প্রতিবাদ করলে তার রেহাই নেই। মার মার,কাট কাট, ধর ধর পরিস্থিতি করে এ সব গ্রুপ। ইজারাদারের ছত্রছায়ায় এ সব হয় বলে তারা অভিযোগ করেন সাংবাদিকদের। আর এ অবস্থায় করোনা ভাইরাসের প্রার্দুভাব দেখা দিলে তারা বাজার পরিস্কার করছিলোনা । সমগ্র বাজার র্দূগন্ধে ভরে যায়। অনেকে নানা রোগে আক্রান্ত পর্যন্ত হয়ে গেছে। আর করোনা না হলেও এ অবস্থায় এসবের জীবানু ছড়ানোর আশংকা রয়েছেই। বাজারের ভোক্তা মেম্বার নুরুল আলম সিকদার জানান,সাংবাদিকরা কেন লিখে না তা তার বোধে আসে না। দেশের একমাত্র দূর্গন্ধময় বাজার এটি। স্থানীয় চেয়ারম্যান-মেম্বাররা অনেক চেষ্টা করেও অর্থব ইজারাদারের অযোগ্যতায় কিছুই হচ্ছে না। রামু ইউএনও স্যার অনেক বার এসেছেন। কিন্তু তিনি যখন আসেন ইজারাদারের দালালরা তার সাথে ঘুরঘুর করে । আর তিনি চলে গেলে ব্যবসায়ীদের উপর অত্যচার চালান। বাজার ব্যবসায়ী সিরাজ সওদাগর জানান,তিনি এ বাজারের একজন সাধারণ ব্যবসায়ী। সরকারের যাবতীয় কাজে তিনি পাশে থাকেন। কোন কারণ ছাড়া তার মালবাহী গাড়ির জন্যে চাদাঁ দিতে দিতে তিনি অতিষ্ট। তিনি বাজার ব্যবস্থাপনা কমিটির সদস্যও। তবু ইজারাদার ও তার উপ-ইজারাদাররা তান্ডব চালান প্রকাশ্যে। ব্যবসায়ী নেতা বদি আলম সিকদার বলেন,মাছ বাজার,তরকারী বাজার,মন্দির গেইট ও মাদরাসা গেইট এলাকা যেন করোনা ভাইরাস উৎপাদন কেন্দ্র। এর উপর চাদাঁবাজি। অতিষ্ঠ ব্যবসায়ীরা। তিনি প্রশানসের হস্তক্ষেপ চান তাদের বিরুদ্ধে। আর এ অবস্থায় দেশের দূরাবস্থা থেকে পরিত্রানের জন্যে এগিয়ে আসেন কচ্ছপিয়ার চেয়ারম্যান আবু মোঃ ইসমাঈল নোমান। তিনি সাংবাদিকদের জানান,সব দিক বিবেচনা করে,দেশের এ দূর্যোগময় মূর্হুতে সরকার প্রধান দেশরত্নন মাননীয় প্রধানমন্ত্রী,এ আসনের মাননীয় সাংসদ ও ইউএনও মহোদয়ের নির্দেশে সব করে যাচ্ছেন। আর বর্তমানের করোনা ভাইরাসের (কোভিড-১৯) প্রার্দুভাব রোধে তিনি নানা উদ্যোগ গ্রহন করেন। বিশেষ করে অপরিচ্ছন্ন-অপরিস্কার গর্জনিয়া বাজারকে সুন্দর পরিচ্ছন্ন বাজারে পরিনত করে করোনাকে ব্যবসায়ী তথা আশপাশের ৬ ইউনিয়নের ২ লক্ষ মানুষকে বাচাঁতে তিনি কাজ শুরু করেছেন। ইজারাদারকে বললেও তিনি দলীয় প্রভাব দেখিয়ে ফোন পর্যন্ত রিসিভ করে না। তাই তিনি গর্জনিয়া বাজার ব্যবসায়ী কল্যান সমিতি ও ব্যবস্থাপনা কমিটিকে সাথে নিয়ে কর্মহীন,গরীব ব্যবসায়ীদের খাদ্য সামগ্রী বিতরণ করেছেন। মাস্ক,হ্যান্ড ওয়াশ সহ নানা সামগী বিতরণ তথা বাজারের কর্ণারে কর্নারে ড্রাম সিষ্টেমের মাধ্যমে হাত ধৌত করণের ব্যবস্থা করেছেন সকলে যৌথভাবে। তিনি আরো বলেন,সমিতির নেতারা অনেক আন্তরিক। তিনি প্রশাসন,ব্যবসায়ী,ভোক্তা,ইজারাদার,সাংবাদিক সহ সকলের সহযোগিতার মাধ্যমে বাজারকে করোনা ভাইরাস সংক্রমন রোধে যা দরকার তা করতে সকলের আন্তরিক সহযোগীতা ও দোয়া চেয়েছেন। এ সময় উপস্থিত ছিলেন গর্জনিয়া বাজার ব্যবসায়ী কল্যান সমিতির সভাপতি ইউনূছ সিকদার,সমিতির সিনিয়র নেতা যথাক্রমে বদিউল আলম সিকদার,জাকের আহমদ কোম্পানী,নুরুল আবছার মেম্বার,আবু তাহের কোম্পানী,সাংবাদিক মাঈনুদ্দিন খালেদ,সাংবাদিকদের মাঝে আরো উপস্থিত ছিলেন,সাংবাদিক আবদুল হামিদ,সাংবাদিক আবুল বশর নয়ন,সাংবাদিক জাহাঙ্গির আলম কাজল,সাংবাদিক আমিনুল ইসলাম,সাংবাদিক জয়নাল আবেদীন টুক্কু,সাংবাদিক আবদুর রশিদ,সাংবাদিক মো:ই্উনূছ,সাংবাদিকদের আবুল শাহমা,ব্যবসায়ী নেতা জাকের আহমদ (ডিশ ব্যবসায়ী),ডা: নেপাল,নজু সওদাগর, গিয়াসুদ্দিন,আহমদুল্লাহ ও বাজারের সকল ব্যবসায়ী। ব্যবসায়ী নেতারা সপ্তাহব্যাপী করোনা ভাইরাস প্রতিরোধে অত্র এলাকায় কাজ করতে ঘোষনা দেন। আজ ১ এপ্রিল কাজ শুরু করেন তারা।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *