চট্টগ্রাম, , মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর ২০২০

মিজবাউল হক চকরিয়া অফিস

মুক্তিযোদ্ধা পরিবারের বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালাচ্ছেন লক্ষ্যারচর ইউপি চেয়ারম্যান জামায়াত নেতা কাইছার

প্রকাশ: ২০২০-০৪-১৪ ২৩:৩৯:২৭ || আপডেট: ২০২০-০৪-১৪ ২৩:৩৯:৩২

মিজবাউল হক, চকরিয়া :

আওয়ামীলীগ ও মুক্তিযোদ্ধা পরিবারের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রমুলক অপপ্রচার চালানোর অভিযোগ উঠেছে চকরিয়া উপজেলার লক্ষ্যারচর ইউপি চেয়ারম্যান ও জামায়াত নেতা গোলাম মোস্তফা কাইছারের বিরুদ্ধে। পরিকল্পিতভাবে ইউপি চেয়ারম্যান কাইছার স্থানীয় আওয়ামীলীগ নেতা ও মুক্তিযোদ্ধা পরিবারের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রমুলক অপপ্রচার চালাচ্ছেন বলে অভিযোগ করেছেন লক্ষ্যারচর ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সভাপতি রেজাউল করিম সেলিম। মঙ্গলবার (১৪ এপ্রিল) বিকালে চকরিয়া প্রেসক্লাবে এক সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে তিনি এ অভিযোগ করেন।
লক্ষ্যারচর ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সভাপতি রেজাউল করিম সেলিম তার লিখিত বক্তব্যে বলেন, আমি প্রয়াত বীর মুক্তিযোদ্ধা আনোয়ার হোসেন বাঙ্গালীর জৈষ্ঠ ছেলে হিসেবে দুই দুই বার লক্ষ্যারচর ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করে আসছি। পাশাপাশি আমি এ ইউনিয়নের হতদরিদ্র লোকজনের মধ্যে ১০টাকা দামের চাল বিতরণের সরকারী নিয়োগপ্রাপ্ত ডিলার হই। ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সভাপতির দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি ওই ডিলারশীপের মাধ্যমে সরকারী নির্দেশনা অনুযায়ী আমি লক্ষ্যারচর ইউনিয়নের ২৬৫ হতদরিদ্র পরিবারের মাঝে ১০টাকা দামের চাল সরবরাহ করে আসছি। লক্ষ্যাচর ইউনিয়ন পরিষদের তালিকাভূক্ত ওই হতদরিদ্র পরিবারের মাঝে চাল বিতরণের সময় উপজেলা প্রশাসন কর্তৃক নির্ধারিত দুইজন ট্যাগ অফিসার নিয়োগ প্রদান করেন। এ দুইজন ট্যাগ অফিসারের উপস্থিতিতে হতদরিদ্র পরিবারের মধ্যে সরকারী নির্ধারিত মূল্যে চাল বিতরণ করা হলেও লক্ষ্যারচর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও জামায়াত নেতা গোলাম মোস্তফা কাইছার ভিত্তিহীন ও কাল্পনিক অভিযোগ তুলে সাংবাদিকদের মিথ্যা তথ্য সরবরাহ করে আওয়ামীলীগ ও মুক্তিযোদ্ধা পরিবারের সুনাম ক্ষুন্ন করে চলেছেন।
লক্ষ্যারচর ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সভাপতি রেজাউল করিম সেলিম আরও বলেন, সা¤্রতিক সময়ে আমাদের বাড়ি মুক্তিযোদ্ধা কুঠিরে পুলিশী হামলার মুল ইন্দনদাতা ছিলেন ইউপি চেয়ারম্যান কাইছার। তার মিথ্যা তথ্যের ভিত্তিতেই সেদিন পুলিশ মুক্তিযোদ্ধা কুঠিরে ব্যাপক তান্ডব চালায়। এঘটনার পর থেকে ইউপি চেয়ারম্যান কাইছার বেশ কিছুদিন ধরে পলাতক থাকলেও পরে এলাকায় ফিরেন তিনি। তারপর থেকেই আমার পরিবার ও আওয়ামীলীগের বিরুদ্ধে নানা ষড়যন্ত্র চালাচ্ছেন ইউপি চেয়ারম্যান কাইছার।
তিনি আরও বলেন, আমার বাবা যুদ্ধাপরাধ মামলার বাদী ও প্রয়াত বীর মুক্তিযোদ্ধা আনোয়ার হোসেন বাঙ্গালী ১৯৭১ সালের স্বাধীনতা যুদ্ধে অনন্য অবদান রেখেছিলেন। তিনি চকরিয়া উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের কমান্ডারের পাশাপাশি জেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডের সাংগঠনিক কমান্ডার ছিলেন। তিনি জাতির জনক বঙ্গবন্ধুর আদর্শের উত্তরসূরী ও পিতা মুজিবের একজন নিবেদিত প্রাণ ছিলেন। মৃত্যুর আগ পর্যন্ত মুক্তিযোদ্ধা আনোয়ার হোসেন বাঙ্গালী সরাসরি উপজেলা আওয়ামীলীগের রাজনীতির সাথে জড়িত ছিলেন। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা যখন যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের আওতায় এনে শাস্তির উদ্যোগ নেন তখন তিনি বাদি হয়ে চকরিয়া ও কক্সবাজারের ২০ জনকে আসামী করে মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগ এনে বিজ্ঞ আদালতে একটি মামলা দায়ের করেন। বর্তমানে ওই মামলাটি আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে বিচারাধীন রয়েছে। আমার বাবা যে সকল রাজাকার ও যুদ্ধাপরাধীকে আসামী করে মামলা দায়ের করেছিলেন পরবর্তীতে তারা আমার বাবাকে উড়ো চিঠি ও কাফনের কাপড় পাঠিয়ে হত্যার হুমকি দিয়েছিলেন। যে কারণে ওই সকল রাজাকার ও যুদ্ধাপরাধীকে আসামী করে থানায় জিডিও করেছিলেন প্রয়াত মুক্তিযোদ্ধা আনোয়ার হোসেন বাঙ্গালী। ওই সময় থেকেই মুক্তিযোদ্ধের দুসরদের নানা যড়যন্ত্রের শিকার হয়ে আসছেন প্রয়াত মুক্তিযোদ্ধা আনোয়ার হোসেন বাঙ্গালীর পরিবার। লক্ষ্যারচর ইউপি চেয়ারম্যান ও জামায়াত নেতা গোলাম মোস্তফা কাইছারের এহেন ষড়যন্ত্র মুলক অপ্রপ্রচারের ব্যাপারে স্থাণীয় সাংসদ জাফর আলম ও প্রশাসনের উর্ধতন কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সভাপতি ও হতদরিদ্র পরিবারের চাল বিতরণের ডিলার রেজাউল করিম সেলিম। এ সময় ইউনিয়নিয়ন আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক খ ম আওরঙ্গজেব বুলেটসহ অন্যন্যরা উপস্থিত ছিলেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *