চট্টগ্রাম, , শনিবার, ৫ ডিসেম্বর ২০২০

কাইছার হামিদ

লাইভে এসে স্ত্রীকে হত্যাকারী ঘাতক টুটুল নিজেই ৯৯৯ ফোন করে আটক!

প্রকাশ: ২০২০-০৪-১৫ ২৩:৪৮:১৪ || আপডেট: ২০২০-০৪-১৫ ২৩:৪৮:২০

বীর কণ্ঠ ডেস্ক|
ফেনীতে ফেসবুক লাইভে এসে স্ত্রীকে কুপিয়ে হত্যা করা সেই ঘাতক নিজেই ৯৯৯ এ ফোন দিয়ে পুলিশকে তার স্ত্রীকে হত্যার কথা জানিয়েছিলেন স্বামী ওবায়দুল হক টুটুল (৩২)। তারপর পুলিশ গিয়ে তাকে আটক করে।

বুধবার দুপুরে ফেনী পৌরসভার উত্তর বারাহীপুর ভূঁইয়া বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে।
হত্যার আগে ফেসবুক লাইভে টুটুল ভুঁইয়া বলেন, ‘প্রিয় দেশবাসী, আমাকে ক্ষমা করে দেবেন, আজকে আমার কারণে আমার পরিবার ধ্বংস।

যার কারণে ধ্বংস আজকে তারে আমি এ মুহূর্তে ধ্বংস করে দিলাম। আমি চেষ্টা করছি, অনেক চেষ্টা করছি, পারি নাই।
আল্লাহর ওয়াস্তে সবাই আমাকে মাফ করে দেবেন।

আমার এতিম মেয়েটার খেয়াল রাখবেন। আমার ভাইবোনগুলোর খেয়াল রাখিয়েন। আমার পরিবার ভাইবোনগুলার কোনো দোষ নাই। কেউ এটাতে সম্পৃক্ত না। আমি আমার আজকের এ ঘটনার জন্য সম্পূর্ণ দায়ী।

নিহতের বোন রেহানা আক্তার জানান, ৫ বছর আগে কুমিল্লা জেলার গুনবতী এলাকার আকদিয়া গ্রামের সাহাবুদ্দিনের মেয়ে তাহমিনা আক্তারের সঙ্গে ওবায়দুল হক টুটুলের প্রেমের সম্পর্কে বিয়ে হয়। কিন্তু বিয়ের পর থেকে আর্থিক অস্বচ্ছলতা নিয়ে তাদের পরিবারের মাঝে প্রায় সময় ঝগড়া হয়ে আসছিল। এরইমধ্যে স্বামী টুটুল মেয়ের পরিবারের কাছ থেকে বেশ কিছু টাকাও নেয়। কিন্তু আরো টাকার জন্য চাইলে তারা অস্বীকৃতি জানায়।

এক পর্যায় দুপুরে ফেসবুক লাইভে এসে স্বামী টুটুল তার স্ত্রীকে এলোপাতাড়ি দা দিয়ে কুপিয়ে হত্যা করে। পরে হত্যাকারী টুটুল নিজেই পুলিশকে ৯৯৯ মুঠোফোনে খবর দিলে পুলিশ ফেনী মডেল থানাকে জানায়। পরে পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে হত্যাকারীকে গ্রেফতার করে এবং হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত দা ও ফেসবুকে প্রচার চালানো মোবাইল জব্দ করে।

ফেনী মডেল থানার পরিদর্শক জানান, পারিবারিক কলহের জের ধরে এ ঘটনা ঘটেছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। তবু বিষয়টি ক্ষতিয়ে দেখা হচ্ছে।
লাশ ময়নাতদন্তেরর জন্য ফেনীর ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতাল মর্গে প্রেরণ করা হয়েছে।

ফেনী মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আলমগীর হোসেন বলেন, ফেসবুক লাইভে হত্যার পর টুটুল নিজেই ৯৯৯ এ ফোন দিয়ে হত্যার কথা জানায়। পরে আমরা তাকে ধরতে গিয়ে দুই পাশের দরজা আটকানো পাই। পরে ওই নারীর গলাকাটা লাশ উদ্ধার ও নিহতের স্বামীকে আটক করা হয়েছে। এসময় মোবাইল সেট জব্দ করা হয়েছে।

ওবায়দুল হক টুটুল ঢাকার একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে চাকরি করে। তাদের ঘরে দেড় বছরের একটি মেয়ে সন্তান রয়েছে। সে একই এলাকার গোলাম মাওলা ভুঞার ছেলে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *