চট্টগ্রাম, , সোমবার, ১৪ জুন ২০২১

আব্বাস হোছাইন আফতাব রাঙ্গুনিয়া প্রতিনিধি, চট্টগ্রাম।

ফেসবুকে গ্রুপ খুলে সড়কে জরুরী সেবা দিচ্ছেন ওরা

প্রকাশ: ২০২০-০৪-২৩ ১৯:৫৪:৪৩ || আপডেট: ২০২০-০৪-২৩ ১৯:৫৪:৫০

প্রতিনিধি,রাঙ্গুনিয়া,চট্টগ্রাম :

গর্ভবতী এক নারীর প্রসবের আর বেশিদিন সময় নেই। কদিন ধরে খুবই অসুস্থ তিনি। ঘরে বৃদ্ধ শাশুড়ী। স্বামী থাকেন বিদেশে। সড়কে গাড়ী চলাচল বন্ধ তাই চিকিৎসকের কাছে যেতে পারছেন না। করোনাভাইরাসের ভয়ে প্রতিবেশী কেউ এগিয়ে আসছেন না। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে তরুনদের জরুরী সেবার মু্ঠোফোন নাম্বার পেয়ে ফোন করলে এগিয়ে যান কয়েকজন তরুন। তাঁরা অটোরিক্সা যোগাড় করে ওই নারীকে চিকিৎসকের কাছে নিয়ে যান। চিকিৎসা শেষে ওষুধ কিনে দিয়ে আবার বাড়িতে পৌঁছে দেন। গত এক সপ্তাহে চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়া উপজেলায় এই রকম ৪০ জনকে জরুরী সেবা দিয়ে সবার নজরে আসেন ৯ জন তরুন। তরুনদের মধ্যে বেশিরভাগই কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র।

এই তরুনদের সাথে কথা বলে জানা গেছে, সারাদেশের মতো করোনাভাইরাসের বিস্তার রোধে সরকার যানবাহন চলাচল সীমিত করে দেন। সড়কে বের হয়ে অনেকেই গাড়ি পান না। নানা রকম সমস্যার কারনে যানবাহন না থাকায় অনেকেই অসুবিধায় পড়েন। ৯ জন তরুন ভাবেন নিজেদের মোটরসাইকেল এই সময় তো বাড়িতে পড়ে থাকবে। এই সময়ে তাঁদের মোটরসাইকেলকে কাজে লাগিয়ে অন্তত মানুষের সেবায় পাশে থাকতে চান। এ মাসের শুরুতে ফেসবুকে ” ইমার্জেন্সী বাইক হেল্প ফর রাঙ্গুনিয়া ” নামে একটি ফেসবুক গ্রুপ খুলে কার্যক্রম শুরুর বিষয় প্রচার করেন তাঁরা । ৯ তরুন নিজেদের ফেসবুক আইডি থেকেও করোনাকালে মোটরসাইকেলে ফ্রি জরুরী যে কোনো সেবা দিতে নিজেদের পরিচয় তুলে ধরে অঙ্গীকার করেন। ষ্ট্যাটাসের সাথে তাঁদের মুঠোফোন নাম্বারও দেয়া হয়। এক সপ্তাহ ধরে বিভিন্ন এলাকা থেকে জরুরী সেবা নিতে অনুরোধ অাসতে থাকে। তাঁদের সেবামূলক কর্মকান্ডগুলো প্রতিদিন ফেসবুকে আপডেট দেয়া হচ্ছে যাতে অন্যরা উৎসাহিত হন।

তাঁদের মধ্যে এক তরুন মহিউদ্দিন ফাহিম। জানতে চাইলে তিনি বীর কন্ঠকে বলেন, এই মহামারীর সময়ে মানুষের জন্য কিছু করতে পারলে মানসিক শান্তি পাব। আমরা জানি ঘরে থেকে বের হলে করোনা সংক্রমনের ঝুঁকি আছে। আমরা নিজেদের সুরক্ষিত করে মাঠে ঘাটে আছি। মানুষকে ঘরে রাখতে আমরা বাইরে আছি। নিজেদের মধ্যে টাকা তুলে গাড়ির জ্বালানী কিনে নিই। গতকাল মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল) পর্যন্ত এক সপ্তাহে রক্তদাতাকে হাসপাতালে পৌঁছানো, জরুরী ত্রাণ পৌঁছানো, টাকা তুলতে ব্যাংকে পৌঁছানো, বাড়িতে জরুরী ওষুধ পৌঁছানো, জরুরী রোগীকে চিকিৎসকের কাছে পৌঁছানোসহ ৪০ জনকে সড়কে বিনা খরচে সেবা দেয়া হয়। করোনাকালে জরুরী এসব সেবা অব্যাহত রাখবেন বলে তাঁরা জানান।”

আরেক তরুন স্বেচ্ছাসেবী মো. ইসমাঈল হোসেন বলেন, ” অনেকেই আত্নীয়ের বাড়িতে পাঁচন পাঠানো কিংবা সাধারণ দ্রব্য পাঠানোর অনুরোধ করেন। এইসব সেবা দিতে গেলে জরুরী অনেক সেবা থেকে মানুষ বঞ্চিত হবে। সাধারণ কোনো বিষয়ে অনুরোধ কিংবা কল দেয়া থেকে বিরত থাকতে তিনি অনুরোধ জানান। তাঁদের দলের আরেক তরুন কাউছার হৃদয় বলেন, “রাঙ্গুনিয়ার মধ্যে এই সেবা চালু আছে। জরুরী সেবার জন্য কারো কাছ থেকে কোনো টাকা নেয়া হয়না। নি:সংকোচে জরুরী প্রয়োজন হলে নিম্ললিখিত নাম্বারে কল করতে তিনি অনুরোধ জানান-
ইসমাঈল হোসেন (০১৮৬৭২৯১০৩৩)
আসিফ সিকদার (০১৮৪৬০৮৯৯৫০)
মহিউদ্দিন ফাহিম (০১৮৮৩৮০২৫৮৫)
মেহেদী মামুন (০১৮১৪৪৯৪৭৪৭)
মিজানুর রহমান (০১৬১৯৯১৩৭৩৭)
কাজী আনিস (০১৮১১৯৮৭৭৭৬)
ইরফান মির্জা (০১৬৪৩৯৪৯৪৯৮)
কাউসার হৃদয় ( ০১৬৪৫১৫৩৫০০)
নুরুল আজিম (০১৮৩০২৫৮৮৬৮)


তরুনদের কার্যক্রম সম্পর্কে জানতে চাইলে স্থানীয় ব্যবসায়ী ও মানবাধিকার নেতা মাহাবুবুল আলম সিকদার বলেন, ” এই সংকটে তরুনদের উদ্যোগটি মহৎ। তাঁদের সহযোগিতা করলে অন্যরা উজ্জ্বীবিত হবে। এই কার্যক্রমের প্রতিক্রিয়া জানতে চাইলে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা(ইউএনও) মো. মাসুদুর রহমান বলেন। ” স্বেচ্ছাসেবী তরুনরা এই সময়ে সাধারণ মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছেন। তাঁরা একটি ভালো কাজ করে দেখিয়ে দিয়েছেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *