চট্টগ্রাম, , সোমবার, ১০ আগস্ট ২০২০

admin

হজ্বের আনুষ্ঠানিকতা শুরু হচ্ছে আজ রাতে

প্রকাশ: ২০২০-০৭-২৮ ২০:২৯:৫৬ || আপডেট: ২০২০-০৭-২৮ ২০:৩০:০১

বৈশ্বিক মহামারি করোনাভাইরাসের কারণে চলতি বছর সীমিত আকারে অনুষ্ঠিত হবে পবিত্র হজ। আজ রাত থেকেই শুরু হচ্ছে হাজারো কণ্ঠে ‘লাব্বাইকা আল্লাহুম্মা লাব্বাইক’ ধ্বনির মাধ্যমে পবিত্র হজের আনুষ্ঠানিকতা। দীর্ঘ ৯০ বছরের ইতিহাসে এই প্রথম সৌদি আরবের বাইরের কোনো দেশ থেকে হজে অংশগ্রহণ করতে পারছে না কেউ। নভেল করোনাভাইরাসের কারণে এ নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে।

একদিন বাদ দিয়ে আগামী পরশু পালিত হবে পবিত্র হজ। এ সময় হজ পালনকারীদের ইসলাম নির্দেশিত বেশকিছু নিয়ম মেনে চলতে হয়। মিকাতের আগে বা মিকাত থেকে ইহরাম বাঁধার পর হজযাত্রীদের সর্বাবস্থায় বারবার তালবিয়া বা ‘লাব্বাইকা আল্লাহুম্মা লাব্বাইক’ পাঠ করতে হয়। এবারের হজে হাজিদের সব খরচ দিচ্ছে সৌদি সরকার। হজের দ্বিতীয় দিন বাংলাসহ ১০টি ভাষায় অনূদিত হবে আরাফাতের ময়দানের খুতবা।

মাত্র এক হাজার হজযাত্রীর পদচারণায় মিনার মাঠে আজ দিবাগত রাত থেকে শুরু হচ্ছে পবিত্র হজের আনুষ্ঠানিকতা। আজ মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) সন্ধ্যায় তারা পবিত্র মক্কা নগরী থেকে পাড়ি জমাবেন মিনার দিকে। মিনার তাঁবুতে তাঁদের সবাইকে একত্রে রাত কাটাতে হবে।

প্রতিবছর ২৫ থেকে ৩০ লাখ হাজির উপস্থিতিতে হজ পালন হলেও এবারের প্রেক্ষাপট ভিন্ন। চলমান মহামারি করোনাভাইরাসের কারণে এ বছর স্বল্প পরিসরে অনুষ্ঠিত হচ্ছে পবিত্র হজ। যদিও এর আগে সৌদি আরব জানিয়েছিল তারা দশ হাজার জনকে হজের সুযোগ দেয়া হবে। তবে করোনা পরিস্থিতিতে এবার এক হাজার জন অংশ নিচ্ছেন। আগামী ৩০ জুলাই স্বাস্থ্যবিধি ও সামাজিক দূরত্ব মেনে পালিত হবে চলতি বছরের পবিত্র হজ।

করোনা মহামারির কারণে এ বছর সীমিত পরিসরে হজ পালনের জন্য বিশেষ স্বাস্থ্যবিধি জারি করেছে সৌদি আরবের জাতীয় রোগ প্রতিরোধ ও নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ। পবিত্র হজের জন্য এখন পুরোপুরি প্রস্তুত মক্কা। করোনার কারণে এবার ব্যতিক্রমী সব পূর্ব সতর্কতামূলক ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে। এবার হজের অনুমতি পাচ্ছে এক হাজারেরও কম সংখ্যক হজযাত্রী। তারা সবাই সৌদি আরবের নাগরিক, না হয় সৌদি আরবে অবস্থানরত বিদেশি।

এসব হজযাত্রীকে উত্তম সেবা দেয়ার জন্য এ বছর মিউনিসিপ্যালিটি নিয়োগ দিয়েছে কমপক্ষে ১৮ হাজার ৪৯০ জন কর্মী। হজের পবিত্র স্থানগুলোসহ গুরুত্বপূর্ণ স্থানে ২৮টি নতুন ও পূর্ণাঙ্গ সরঞ্জামে সুসজ্জিত সার্ভিস সেন্টার বসানো হয়েছে। এসব স্থানে দিনরাত ২৪ ঘণ্টা পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার জন্য নিয়োগ করা হয়েছে কমপক্ষে সাড়ে ১৩ হাজার পরিচ্ছন্নকর্মী। পবিত্র মিনায় স্থাপন করা হয়েছে ৮৭ হাজার ৯০০ আন্ডারগ্রাউন্ড আবর্জনার কন্টেইনার।

মার্কেট, খাবার দোকান ও রেস্তোরাঁয় নজরদারি করতে কাজ করবে বেশ কিছু টিম ও কমিটি। তারা নজর রাখবেন মুদি দোকান, রেঁস্তোরা, ক্যাফেটেরিয়া, সেলুন, লন্ড্রি, বেকারি ও অন্যান্য সেবাখাতে। তারা নিয়মিত খাবারের মান পরীক্ষা করবে এবং নষ্ট জিনিসপত্র ধ্বংস করে ফেলবে। দাম দেখাশোনা করবে। পয়ঃনিষ্কাশনের ব্যবস্থা দেখাশোনা করবে। পশুদের মধ্যে কোনো মহামারি আছে কিনা তা নির্ধারণে কাজ করবে তারা। এছাড়া মক্কা মিউনিসিপ্যালিটি বিদ্যুত, সড়ক যোগাযোগ, টানেল, ব্রিজ, টয়লেট ও ড্রেনেজ ব্যবস্থা দেখাশোনা করবে। তাদের জরুরি ইউনিট অগ্নিকাণ্ড অথবা ভারী বর্ষণে করণীয় নির্ধারণ করবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *