চট্টগ্রাম, , বুধবার, ১ ডিসেম্বর ২০২১

admin

নিজের আইসিইউ ছেলেকে দিয়ে না ফেরার দেশে মা

প্রকাশ: ২০২১-০৭-২৯ ১১:৩৫:৪৪ || আপডেট: ২০২১-০৭-২৯ ১১:৩৫:৪৯

বীর কণ্ঠ ডেস্ক|
শ্বাস নিতে পারছেনা ছেলে। মুমূর্ষ অবস্থায় আইসিইউতে শুয়ে থাকা মায়ের কানে খবরটা যেতেই ছটফট শুরু করে দেন মা। কিন্তু প্রয়োজন থাকলেও শয্যা খালি না থাকায় ছেলেকেও আইসিইউ সাপোর্ট দিতে পারছেন না চিকিৎসকরা। ছেলের ছটফটের কথা শুনে নিজের হাতে লাইফ সাপোর্টের সরঞ্জাম খুলে ছেলেকে আইসিইউতে আনতে চিকিৎসকদের ইশারা করেন তিনি। যেন প্রিয় সন্তান বেঁচে থাকে। শত চেষ্টা করেও মাকে বুঝাতে পারেননি চিকিৎসকরা। তখন এক প্রকার বাধ্য হয়ে মাকে নামিয়ে আইসিইউ বেডে তোলা হয় ছেলেকে।
ভাগ্যের নির্মম পরিহাস, আইসিইউ থেকে নামার এক ঘণ্টার মাথায় পৃথিবীর মায়া কাটিয়ে করোনার কাছে হার মানে মা। ছেলে বেঁচে আছেন। তবে মৃত্যুর সঙ্গেই লড়ছেন তিনি। এমন মর্মান্তিক এ ঘটনাটি ঘটেছে চট্টগ্রাম জেনারেল হাসপাতালের আইসিইউ ইউনিটে।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, সপ্তাহ খানেক আগে নগরীর দিদার মার্কেট সিএন্ডবি কলোনি এলাকার বাসিন্দা কানন প্রুভা পাল নামে ৬৫ বছর বয়সী এক নারী করোনা আক্রান্ত হয়ে জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি হন। কয়েকদিন পর তার ছেলে শিমুল পালও (৩৮) করোনায় আক্রান্ত হয়ে একই হাসপাতালে ভর্তি হন। মায়ের অবস্থা সংকটাপন্ন হওয়ায় আইসিইউতে নিয়ে যান চিকিৎসকরা। ছেলে ভর্তি ছিল সাধারণ ওয়ার্ডে। ধীরে ধীরে শরীরে অক্সিজেনের মাত্রা কমতে থাকে ছেলের। তারও প্রয়োজন আইসিইউ বেড। তবে হাসপাতালটির ১৪টি আইসিইউ রোগীতে ভর্তি থাকায় বেড পাওয়া যায়নি।
একই অবস্থা ছিল চট্টগ্রামের প্রাইভেট মেডিকেলগুলোতেও। কোথাও খালি ছিলনা আইসিইউ শয্যা। পরে ছেলেকে বাঁচাতে আইসিইউ ছেড়ে ছিলেন মা।
মর্মান্তিক এ ঘটনার বিষয়ে় জেনারেল হাসপাতালের সিনিয়র কনসালটেন্ট ডা. আব্দুর রব বলেন, ‘পুরো ঘটনাটিই আমাদের চোখের সামনে ঘটেছে। কিন্তু আমরা নিরুপায়। রোগীর চাপ বাড়ায় হাসপাতালে কোন আইসিইউ শয্যা খালি নেই।’
বর্তমানে ছেলের শারীরিক অবস্থায় তেমন ভাল নয় উল্লেখ করে আইসিইউ ওয়ার্ডের ইনচার্জ ডা. রাজদ্বীপ বিশ্বাস বলেন, ‘পরিবারের সবার সম্মতিতে চিকিৎসকরা মাকে বাদ দিয়ে ছেলে শিমুল পালকে আইসিইউ বেডে শিফট করান এবং মাকে আইসোলেশন বেডে নিয়ে যান। কিন্তু মাকে বাঁচানো যায়নি। সবকিছু জেনেও কিছুই করার ছিল না।’

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *