চট্টগ্রাম, , মঙ্গলবার, ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২২

admin

লোহাগাড়ায় ৫ বন্ধুর নৃশংসভাবে নিহতের ঘটনায় চালক আটক

প্রকাশ: ২০২২-০৩-২২ ২০:৫৬:০১ || আপডেট: ২০২২-০৩-২২ ২০:৫৬:০৫

লোহাগাড়া(চট্টগ্রাম) প্রতিনিধি|
চট্টগ্রামের লোহাগাড়ায় বেপরোয়া ও নিয়ন্ত্রণহীনভাবে ট্রাক চালিয়ে ০৫ জন মেধাবী ছাত্রকে নির্মম ও নৃশংসভাবে নিহতের ঘটনায় চালককে আটক করেছে র‌্যাব-৭। গত ২১ মার্চ চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়ক উপজেলার আধুনগর এলাকায় ট্রাক-প্রাইভেটকার মুখোমুখি সংঘর্ষে প্রাণ হারায় ৫ বন্ধু। ঘাতক ড্রাইভার রিপনকে ১৮ ঘন্টার মধ্যে র‌্যাব আটক করে। ড্রাইভার মোহাম্মদ রিপন শারীরিকভাবে অযোগ্য ও অর্ধপঙ্গু এবং লাইসেন্সবিহীন বলে জানিয়েছে র‌্যাব-৭।

চালক মোহাম্মদ রিপনকে বিবাদী করে নিহত রিজভী শাকিবের ভাই রাজিব হাসান লোহাগাড়া থানায় মামলা দায়ের করেন। মামলা নং- ২২, তারিখ ২১/০৩/২২ ইং। সড়ক পরিবহন ২০১৮ আইনে ৯৫/১০৫ ধারায় মামলা রুজু হয়েছে বলে জানান লোহাগাড়া থানার অফিসার ইনচার্জ মোঃ আতিকুর রহমান।

উল্লেখ্য, গত ২১ মার্চ আনুমানিক ভোর সাড়ে ৫ টায় একটি প্রাইভেটকার যোগে ৫ জন ছাত্র-বন্ধু চট্টগ্রাম থেকে কক্সবাজার যাচ্ছিলো। যাওয়ার পথে প্রাইভেটকারটি চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কের আধুনগর নামক স্থানে পৌছালে রাস্তার বিপরীত দিক থেকে বেপরোয়া গতিতে আসা একটি ট্রাকের সাথে মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। সংঘর্ষে প্রাইভেটকারে থাকা পাঁচজনের মধ্যে চারজনই ঘটনাস্থলেই নির্মমভাবে মারা যান এবং গুরুতর আহত অবস্থায় আহত আরো একজন হাসপাতালে মৃত্যুবরণ করে।

জানা যায়, ড্রাইভার মোঃ রিপন (৩১) ২০০৪ সালে চট্টগ্রাম আসেন। নিমতলা বিশ্বরোডে বসবাস শুরু করেন। প্রথমে সে গাড়ীর হেলপার হিসেবে জীবিকা নির্বাহ শুরু করে। ২০০৪ সাল হতে ২০১৫ সাল পর্যন্ত সে গাড়ীর হেলপার ছিল। ২০০৬ সালে হেলপার থাকা অবস্থায় গাড়ী চালানোর সময় মারাত্মক দূর্ঘটনায় পতিত হয়। এতে তার ডান পা পঙ্গু হয়ে যায় এবং উক্ত পায়ে প্রায় সম্পূর্ণ শক্তি হারিয়ে ফেলে।

র‌্যাব মিডিয়া সূত্রে জানা যায়, ২০১৫ সালে তার আবেদনের প্রেক্ষিতে বিআরটিএ হতে হালকা যানবাহনের লাইসেন্স পায় এবং পঙ্গু অবস্থায় গাড়ী চালনার কারনে সে অনেকগুলো দূর্ঘটনায় পতিত হয়। পরবর্তীতে ভারী যানবাহনের আবেদন করলে তার শারীরিক অযোগ্যতার কারণে বিশেষ করে ডান পা পঙ্গুত্ব ও শক্তি হারানোর প্রেক্ষিতে তাকে লাইসেন্স প্রদান করা হয়নি। তবু সে নিয়মিত ভারী যানবাহন নির্বিঘ্নে চালিয়ে যাচ্ছে, যার ফলে অত্যন্ত করুণ ও নির্মমভাবে চলে গেল পাঁচজন তরতাজা যুবকের প্রাণ, যাদের বয়স এখোনও ত্রিশের কোটায়।

র‌্যাব-৭ ব্রিফিং এ জানায়, ট্রাকের মূল চালক ছিল ড্রাইভার মোঃ নুরনবী। সেদিন নুরনবী উক্ত গাড়িটি নিয়ে কক্সবাজার জেলার পেকুয়া মেরিন ড্রাইভ ও ফোর লেইনের চলমান সড়ক নির্মানের পাথর বোঝাই করে নেওয়ার কথা ছিলো। কিন্তু নূরনবী টানা ১০দিন নির্ঘুম থেকে গাড়ী চালানোর কারণে ক্লান্ত থাকায়, উক্ত গাড়ী চালানোর দায়িত্ব মালিকের অনুমতি সাপেক্ষে পরিবর্তন করে বদলীকৃত ড্রাইভার মোঃ রিপনকে দেওয়া হয়।

উল্লেখ্য যে, রিপন এই কোম্পানীর উক্ত ভারী ডাম্পার ট্রাক চালানোর স্থায়ী কোন ড্রাইভার নয় বা এই ধরনের গাড়ী চালানোর জন্য ভারী লাইসেন্স অথবা পূর্ব অভিজ্ঞতা না থাকা সত্ত্বেও তাকে গাড়ী চালাতে দেওয়া হয়। অতঃপর সে গাড়িটি নিয়ে পেকুয়ায় মেরিন ড্রাইভ ও ফোর লেইনের সড়ক নির্মাণের পাথর আনলোড করে আসার সময় লোহাগাড়া থানাধীন আধুনগর বাজারে পৌছালে অত্যন্ত বেপরোয়া ও নিয়ন্ত্রণহীনভাবে অপর প্রান্ত হতে নিয়মিত গতিতে আসা প্রাইভেটকারকে সজোরে ধাক্কা দেয়। প্রথম ধাক্কায় প্রাইভেটকারটি থেমে গেলেও ট্রাক ড্রাইভার রিপন এর ডান পায়ের পঙ্গুত্ব ও শক্তি কম থাকায় সে ব্রেক করতে পারেনি এবং প্রাইভেটকারের উপর ট্রাকটি সম্পূর্ণ উঠে যায়। এতে ঘটনাস্থলেই হারুনুর রশিদ হীরণ (২৬), খোরশেদ আলী সাদ্দাম (৩১), রিজভী শাকিব (২৬) এবং মনছুর আলী (২৩) মারা যান এবং গুরুতর আহত মুহাম্মদ হুমায়ুন (২৫) হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যু বরণ করে।

লক্ষণীয় যে, উক্ত গাড়ির কোন হেলপার ছিল না এবং গাড়িটি অত্যন্ত বেপরোয়া গতি এবং নিয়ন্ত্রণহীন ছিল। দূর্ঘটনার সময় গাড়িটি (কক্সবাজার হতে চট্টগ্রামের দিকে আসতে) রাস্তার বাম পাশে থাকলেও সেটি নিয়ন্ত্রণহীনভাবে ডান পাশে চলে যায়। ট্রাকের ড্রাইভার শারীরিকভাবে অযোগ্য, ডান পায়ে শক্তি প্রায় নেই। সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য, এই ধরনের ডাম্পার ট্রাকের মতো ভারী যানবাহন চালানোর মত কোন ড্রাইভিং লাইসেন্স বা অভিজ্ঞতা কিছুই তার নেই। মহাসড়কপথে ড্রাইভারদের এই ধরনের অনভিজ্ঞতা, অবহেলিত ও খামখেয়ালিপূর্ণ আচরণ প্রতিনিয়ত কেড়ে নিচ্ছে অসংখ্য প্রাণ।

গ্রেফতারকৃত আসামী সংক্রান্তে পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহনের নিমিত্তে সংশ্লিষ্ট থানায় তাকে হস্তান্তর করা হয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *