চট্টগ্রাম, , সোমবার, ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২১

admin

গণভবন থেকে ভিডিও  কনফারেন্সের মাধ্যমে মগবাজার-মৌচাক ফ্লাইওভার উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী

প্রকাশ: ২০১৭-১০-২৬ ১৩:৪৫:১৭ || আপডেট: ২০১৭-১০-২৬ ১৩:৪৫:১৭

 

বীর কন্ঠ ডেস্ক:

অবশেষে খুলে দেওয়া হল বহুল আকাঙ্খিত মৌচাক-মালিবাগ ফ্লাইওভার। আজ বৃহস্পতিবার দুপুরে গণভবন থেকে   ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে ফ্লাইওভার উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি বলেন, সরকারের ধারাবাহিকতা থাকলে উন্নয়নের গতি পায়। এসময় তিনি সবাইকে ফ্লাইওভার ও রাস্তাঘাট ব্যবহারে যত্নবান এবং ট্রাফিক আইন মেনে চলার আহ্বান জানান।

 

উদ্বোধনের পর যানচলাচলের জন্য খুলে দেওয়া হয়। তবে সাময়িকভাবে বন্ধ থাকবে মালিবাগ রেলগেইট, মালিবাগ মোড় এবং মগবাজার সড়ক। উদ্বোধনের পর ফ্লাইওভারের দায়িত্বভার দেওয়া হয়েছে ঢাকার দুই সিটি করপোরেশনকে।

 

 

গত জুন মাসে উড়াল সড়কের মূল কাজ (মৌচাক-মালিবাগ-শান্তিনগর-রাজারবাগ-মগবাজার) শেষ হয়েছে।

 

প্রধানমন্ত্রীর ভিডিও কনফারেন্সের জন্য মৌচাক মোড়ে অস্থায়ী একটি মঞ্চ তৈরি করা হয়। এ সময় উপস্থিত ছিলেন, বিমান ও পর্যটনমন্ত্রী রাশেদ খান মেনন, খাদ্যমন্ত্রী কামরুল ইসলাম, সংসদ সদস্য সাবের হোসেন চৌধুরী, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের মেয়র মোহাম্মদ সাঈদ খোকন, ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের প্যানেল মেয়র ওসমান গনি।

 

 

ফ্লাইওভারটি উদ্বোধনের ফলে যানজটের তীব্র যন্ত্রণা থেকে নগরবাসী যেমন রেহাই পাবেন, তেমনি যাতায়াত সময়ও কমবে অনেক বলে ধারণা করছেন সংশ্লিষ্টরা।

 

প্রায় ৯ কিলোমিটার দীর্ঘ তিন তলা বিশিষ্ট চার লেনের এই ফ্লাইওভারটি ভূমিকম্প সহনশীল। ৯ কিলোমিটার দৈর্ঘ্যের এই ফ্লাইওভার দেশে এখন পর্যন্ত যে কয়টি ফ্লাইওভার নির্মাণ করা হয়েছে, তারমধ্যে এটি দৈর্ঘ্যে দ্বিতীয়।

 

প্রথম স্থানে আছে ১০ কিলোমিটার দৈর্ঘ্যের মেয়র মোহাম্মদ হানিফ ফ্লাইওভার (গুলিস্তান-যাত্রাবাড়ী)। মৌচাক-মালিবাগ  চার লেনের এ ফ্লাইওভারে ওঠানামার জন্য ১৫টি র‌্যাম্প রয়েছে। এটি এমনভাবে নির্মাণ করা হয়েছে, যা রিখটার স্কেলে ১০ মাত্রার ভূমিকম্পও সহ্য করতে পারবে। এর প্রতিটি পিলার ১৫০ মিটার গভীর পর্যন্ত করা হয়েছে। এর বিভিন্ন জায়গায় ৮টি বড় মোড় ও তিনটি রেলক্রসিং রয়েছে।

 

 

এছাড়া তেজগাঁওয়ের সাতরাস্তা, এফডিসি, মগবাজার, হলি ফ্যামিলি হাসপাতাল, বাংলামোটর, মালিবাগ, রাজারবাগ পুলিশ লাইন এবং শান্তিনগর মোড়ে ওঠানামা করার ব্যবস্থা রয়েছে। এটার  প্রতিটি পিলার পাইলের গভীরতা প্রায় ৪০ মিটার গভীর।

 

শুরুতে এই প্রকল্পটির ব্যয় ধরা হয়েছিল ৭৭২ কোটি ৭০ লাখ টাকা। পরে নকশায় পরিবর্তন আনা হয়। শেষ পর্যন্ত ব্যয় বাড়তে বাড়তে ১ হাজার ২১৮ কোটি ৮৯ লাখ টাকায় গিয়ে ঠেকে। এর মধ্যে সরকার অর্থায়ন করেছে ৪৪২ কোটি ৭৩ লাখ টাকা। সৌদি ফান্ড ফর ডেভেলপমেন্ট (এসএফডি) এবং ওপেক ফান্ড ফর ইন্টারন্যাশনাল ডেভেলপমেন্ট(ওএফআইডি) দিয়েছে ৭৭৬ কোটি ১৬ লাখ টাকা। মগবাজার-মৌচাক ফ্লাইওভার নির্মাণ প্রকল্প ২০১১ সালে একনেকে চূড়ান্ত হয়। ২০১৩ সালের ১৬ ফেব্রুয়ারি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা প্রায় নয় কিলোমিটার লম্বা ফ্লাইওভারটির নির্মাণকাজের উদ্বোধন করেন।-পরিবর্তন

 

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *