চট্টগ্রাম, , শনিবার, ৭ ডিসেম্বর ২০১৯

শংকর চৌধুরী খাগড়াছড়ি জেলা প্রতিনিধি

যক্ষ্মা রোগ নিয়ন্ত্রণে সংবাদ কর্মীদের ভূমিকা অনস্বীকার্য্য : নাটাবের এডভোকেসী সভায় বক্তারা

প্রকাশ: ২০১৯-১১-১৭ ১৯:২৩:০৪ || আপডেট: ২০১৯-১১-১৭ ১৯:২৩:২৭

খাগড়াছড়ি,প্রতিনিধি :

যক্ষ্মা রোগের লক্ষন ও এর চিকিৎসা সম্পর্কে সংবাদকর্মীরা সমাজে অগ্রনী ভূমিকা রাখতে পারে। সাংবাদিক সমাজের নেতৃবৃন্দরা যদি সাধারন মানুষের মাঝে যক্ষ্মারোগ প্রতিরোধ সম্পর্কে কোন কথা বলেন মানুষ তা সহজেই গ্রহন করতে পারে এবং বিশ^াস করে । এভাবেই সচেতনতা ছড়িয়ে পড়ার মধ্যে দিয়ে যক্ষ্ম প্রতিরোধ ও নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব।

রবিবার ১৭ নভেম্বর সকালে বাংলাদেশ জাতীয় যক্ষা নিরোধ সমিতি (নাটাব) খাগড়াছড়ি জেলা শাখার উদ্যোগে খাগড়াছড়ি প্রেস ক্লাব মিলনায়তনে “যক্ষ্ম রোগ নিয়ন্ত্রণে সাংবাদিক সমাজের ভূমিকা র্শীষক” আয়োজিত এডভোকেসী সভায় আলোচকরা এসব কথা বলেন।

বাংলাদেশ জাতীয় যক্ষা নিরোধ সমিতি (নাটাব) খাগড়াছড়ি জেলা শাখার সাধারন সম্পাদক সাংবাদিক জীতেন বড়–য়ার সভাপতিত্বে অনুষ্টিত সভায় প্রধান আলোচক হিসেবে বক্তব্য রাখেন, খাগড়াছড়ি স্বাস্থ্য বিভাগের ডিপুটি সিভিল সার্জন ডা: মিঠন চাকমা অন্যান্য আলোচক হিসেবে বক্তব্য রাখেন উপ জেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা: মৃদুল কান্তি ত্রিপুরা ও খাগড়াছড়ি প্রেস ক্লাবের সহ-সভাপতি মো: জহোরুল আলম আলম প্রমূখ। এতে ইলেক্ট্রনিক ও প্রিন্ট মিডিয়র ৩০ জন সাংবাদিক অংশ নেয়।

সভায় প্রধান আলোচক খাগড়াছড়ি স্বাস্থ্য বিভাগের ডিপুটি সিভিল সার্জন ডাঃ মিঠন চাকমা বলেন, যক্ষ্মা ছোঁয়াচে হলেও সচেতনতার মাধ্যমে নিয়ন্ত্রণে আনতে হলে সাংবাদিক সমাজের ভূমিকা অনস্বীকার্য্য। আলোচনায় তিনি যক্ষ্মারোগ বিষয়ে আলোকপাত করেন যে, সাধারণত বদ্ধ, স্যাঁত স্যাঁতে, ঘনবসতিপূর্ণ দরিদ্র জনগোষ্ঠীর মাঝেই যক্ষ্মা বা টিবি রোগের প্রকোপ বেশি দেখা যায়। যক্ষ্মা বা টিবির জীবাণুর সংক্রামণ বৈশিষ্ট্যের কারণেই এমনটি হয়। এ দরিদ্র জনগোষ্ঠীর মাঝে স্বাস্থ্য সচেতনতার মাত্রা কম থাকায় এ রোগের বিভিন্ন লক্ষণ বা উপসর্গ ধাপকে আক্রান্ত জনগোষ্ঠীর সিংহভাগেরই তেমন ভালো কোনো ধারণা নেই।

মাইকোব্যাকটেরিয়াম টিউবার কিউলোসিস নামের এক ধরনের জীবাণু থেকে এ রোগ ছড়ায়। আক্রান্ত রোগীর কফ থেকে এ রোগের জীবাণু একজনের দেহ থেকে অন্যজনের শরীরে প্রবেশ করে। এ রোগের কোন নির্দিষ্ট সুপ্ত কাল নেই। যেসব রোগী ৩ সপ্তাহের বেশি জ্বরে ভোগে তাদের ৩৩ শতাংশ যক্ষ্মায় আক্রান্ত হওয়ায় সম্ভাবনা থাকে। যাদের কাছ থেকে যক্ষ্মা রোগ ছড়াতে পারে তাদের বলা হয় ‘ওপেন কেস’। এদের কফ থেকে সব সময় জীবাণু বাসাতে ছড়িয়ে পড়ে। তাই এদের সাথে চলাফেরা করা অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। রোগীর হাঁচি কাশির সাথে সাধারণত রোগ জীবাণু বাইরে আসে।

রোগীর অন্য কোনো জিনিস যেমন থালা বাটি গ্লাসও পরিধেয় বস্ত্রাদির মধ্যে দিয়ে এ রোগ ছড়িয়ে পড়ার সম্ভাবনা নেই বললেই চলে। বুকের এক্সে রক্তের ইএসআর, কফ পরীক্ষা এবং টিউবার কিউলিন বা মনটে্ ংটেস্ট করে যক্ষ্মা রোগী শনাক্ত করা হয়। বিসিজি ভ্যাকসিন ৮০ শতাংশ ক্ষেত্রে যক্ষ্মা প্রতিরোধ করতে পারে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *