চট্টগ্রাম, , বুধবার, ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২১

Faruque Khan Executive Editor

হ্যাটট্রিক জয়ে বাংলাদেশ

প্রকাশ: ২০২১-০৮-০৭ ০৯:৫৪:২৪ || আপডেট: ২০২১-০৮-০৭ ০৯:৫৪:৩১

ক্রীড়া প্রতিবেদক|

সংক্ষিপ্ত স্কোর: অস্ট্রেলিয়া ২০ ওভারে ১১৭/৪ (বাংলাদেশ ২০ ওভারে ১২৭/৯)

বাঁধনহারা উচ্ছ্বাস:
আগের দুই ম্যাচ জয়ের পর খুব একটা উল্লাস করতে দেখা যায়নি বাংলাদেশের ক্রিকেটারদের। তবে সিরিজ জয় পর দেখা গেল বাঁধাভাঙা আনন্দ। মাঠেই ছুটোছুটি করলেন তারা পরস্পরকে জড়িয়ে। এরপর কাঁধে কাঁধ রেখে গোল হয়ে করলেন আনন্দনৃত্য। মাঠের বাইরে কোচিং স্টাফদেরও দেখা গেল উল্লাসে মেতে উঠতে।
সিরিজ জয়ের পর এবার বাংলাদেশের অভিযান অস্ট্রেলিয়াকে হোয়াইটওয়াশ করার। চতুর্থ ম্যাচ শনিবারই।

সিরিজ বাংলাদেশের:
প্রত্যাশার চেয়ে একটু কম পুঁজিই পেয়েছিল বাংলাদেশ। কিন্তু বোলারদের আরেকটি দুর্দান্ত পারফরম্যান্সে শেষ পর্যন্ত প্রাপ্তি জয়ের হাসি। পাঁচ ম্যাচের সিরিজ জয় ধরা দিল প্রথম তিন ম্যাচেই।
এবারের আগে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে টি-টোয়েন্টিতে জয়ের স্বাদই ছিল না বাংলাদেশের। এবার জয় এলো টানা তিন ম্যাচে।
আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে যে কোনো সংস্করণেই প্রথমবার অস্ট্রেলিয়াকে সিরিজ হারাতে পারল বাংলাদেশ।
বোলারদের সম্মিলিত পারফরম্যান্সে মধ্যেও উজ্জ্বলতম নাম মুস্তাফিজুর রহমান। কোনো উইকেট তিনি পাননি। কিন্তু ৪ ওভারে রান দিয়েছেন মাত্র ৯। তার স্পেলই ম্যাচে গড়ে দিয়েছে পার্থক্য।

সংক্ষিপ্ত স্কোর:
বাংলাদেশ: ২০ ওভারে ১২৭/৯ (নাঈম ১, সৌম্য ২, সাকিব ২৬, মাহমুদউল্লাহ ৫২, আফিফ ১৯, শামীম ৩, সোহান ১১, মেহেদি ৬, মুস্তাফিজ ০, শরিফুল ০
; টার্নার ১-০-২-০, হেইজেলউড ৪-০-১৬-২, জ্যাম্পা ৪-০-২৪-২, অ্যাগার ৪-০-২৩-০, এলিস ৪-০-৩৪-৩, মার্শ ১-০-১৫-০, ক্রিস্টিয়ান ২-০-৯-০)। অস্ট্রেলিয়া: ২০ ওভারে ১১৭/৪ (ম্যাকডারমট ৩৫, ওয়েড ১, মার্শ ৫১, হেনরিকেস ২, কেয়ারি ২০, ক্রিস্টিয়ান ৭*; মেহেদি ৩-০-২৯-০, নাসুম ৪-১-১৯-১, সাকিব ৪-০-২২-১, মুস্তাফিজ ৪-০-৯-০, শরিফুল ৪-০-২৯-২, সৌম্য ১-০-৯-০)।

দারুণ জয়:
শেষ ওভারে প্রয়োজন ২২ রান, মেহেদি হাসানের প্রথম বলেই শর্ট পেয়ে ছক্কা মেরে ম্যাচ জমিয়ে দেন অ্যালেক্স কেয়ারি। পরের বলে আসে ১ রান। তৃতীয় বলে রান নেই। পরের বলটি নো বল করে বসে মেহেদি। আবার জমে ওঠে নাটকীয়তা। তবে শেষ পর্যন্ত স্নায়ুর চাপ জয় করে ম্যাচ শেষ করেন মেহেদি। শেষ ওভার থেকে অস্ট্রেলিয়া নিতে পারে ১১ রান। বাংলাদেশ জিতে যায় ১০ রানে।

মুস্তাফিজের দুর্দান্ত স্পেল:
২ ওভারে যখন প্রয়োজন ২৩, চোঁখধাধানো সব কাটারে মুস্তাফিজুর রহমান রান দিলেন মাত্র ১! বারবার ব্যাট চালিয়েও ব্যাটে-বলেই করতে পারলেন না ড্যানিয়েল ক্রিস্টিয়ান।
আগের দুই ম্যাচের অসাধারণ এক স্পেল উপহার দিলেন মুস্তাফিজুর রহমান। গুরুত্বপূর্ণ সময়ে শেষ ২ ওভারে রান দেন মাত্র ৫।
কোনো উইকেট পাননি মুস্তাফিজ, কিন্তু ৪ ওভারে রান দিয়েছেন কেবল ৯!

মার্শকে থামালেন শরিফুল:
বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় বাধা সরালেন শরিফুল ইসলাম। ফিরিয়ে দিলেন ফিফটি করা মিচেল মার্শকে।
দ্রুত রানের চেষ্টায় শরিফুলকে টার্গেট করতেই হতো অস্ট্রেলিয়ার। মার্শ বড় শটের চেষ্টা করেন ডাউন দা উইকেটে গিয়ে। তাকে ক্রিজ ছেড়ে বেরিয়ে আসতে দেখেই খাটো লেংথে বল টেনে দেন শরিফুল। ব্যাট চালান মার্শ, কিন্তু টাইমিং করতে পারেননি। লং অফ থেকে ছুটে এসে ক্যাচ নেন মোহাম্মদ নাঈম শেখ।
৪৭ বলে ৫১ করে আউট হলেন মার্শ। অস্ট্রেলিয়ার রান ১৭.১ ওভারে ৪ উইকেটে ৯৪।

ফিরেই শরিফুলের উইকেট:
নতুন স্পেলে ফিরেই উইকেটের দেখা পেলেন শরিফুল ইসলাম। তার স্লোয়ারে উড়িয়ে মারতে গিয়ে মিড অনে ক্যাচ তুলে দিলেন মোইজেস হেনরিকেস।
৩ বলে ২ রানে আউট হেনরিকেস। অস্ট্রেলিয়া ১৪.১ ওভারে ৩ উইকেটে ৭৪।

জুটি ভাঙলেন সাকিব:
জীবন পেয়ে সুযোগটা সেভাবে কাজে লাগাতে পারলেন না বেন ম্যাকডারমট। সাকিবকে স্লগ করতে গিয়ে বোল্ড হয়ে গেলেন তিনি ৪১ বলে ৩৫ রান করে।
আগের ওভারে মুস্তাফিজ মাত্র ১ রান দেওয়ায় একটু চাপে পড়ে যায় অস্ট্রেলিয়া। ম্যাকডারমটের উইকেট হয়তো সেটিরই ফসল। সাকিবের স্টাম্প সোজা বলে স্লগ করতে গিয়ে ঠিকমতো ব্যাটে-বলে করতে পারেননি। বল তার ব্যাটের কানায় লেগে আঘাত করে স্টাম্পে।
১৩.২ ওভারে অস্ট্রেলিয়া ২ উইকেটে ৭১। নতুন ব্যাটসম্যান মোইজেস হেনরিকেস।

জীবন পেলেন ম্যাকডারমট:
জুটি ভাঙতে মুস্তাফিজুর রহমানকে আক্রমণে আনেন অধিনায়ক। প্রথম বলেই তিনি পেতে পারতেন উইকেট। কিন্তু বেন ম্যাকডারমটের সহজ ক্যাচ ছেড়ে দিলেন শরিফুল ইসলাম।
শর্ট অব লেংথ কাটারটিতে ব্যাট চালালেও টাইমিং বরতে পারেননি ম্যাকডারমট। বল উড়ে যায় স্কয়ার লেগ সীমানায় শরিফুলের কাছে। বলের নিচে গিয়ে তিনি বল হাতে নিলেও তা পড়ে যায়।
ম্যাকডারমট রক্ষা পেলেন ৩২ রানে।

জুটির ফিফটি:
সৌম্য সরকারের একটি স্লোয়ার শর্ট বলে পুল করে মিচেল মার্শের বাউন্ডারিতে ফিফটি হলো দ্বিতীয় উইকেট জুটির। ৫৫ বলে এলো জুটির পঞ্চাশ।

মন্থর পাওয়ার প্লে:
সিরিজে প্রথমবার পাওয়ার প্লেতে একটির বেশি উইকেট হারায়নি অস্ট্রেলিয়া। তবে বাংলাদেশ খুব বেশি রানও করতে দেয়নি তাদের। ৬ ওভারে অস্ট্রেলিয়ার রান ১ উইকেটে ২০।
সিরিজে দুই দল মিলিয়ে ৬ ইনিংসে পাওয়ার প্লেতে সবচেয়ে কম রান এটিই

রিভিউয়ে রক্ষা মার্শের:
সাকিব আল হাসানের বলে মিচেল মার্শকে আউট দিয়েছিলেন আম্পায়ার শরফুদ্দৌলা। তবে রিভিউ নিয়ে টিকে রইলেন মার্শ।
সাকিবের স্পিন করে বেরিয়ে যাওয়া বলে অফ সাইডে উড়িয়ে মারার চেষ্টা করেন মার্শ। বল তার ব্যাটকে ফাঁকি দিয়ে যায় কিপারের গ্লাভসে। আবেদনে সাড়া দেন আম্পায়ার। মার্শ রিভিউ নিতে সময় নেন খুব একটা। রিভিউয়ে দেখা যায়, ব্যাট থেকে বেশ দূরে ছিল বল।

আবার নাসুমের শিকার ওয়েড:
প্রথম ম্যাচে যেভাবে ম্যাথু ওয়েডকে আউট করেছিলেন নাসুম আহমেদ, অনেকটা একইভাবেই এই বাঁহাতি স্পিনার আবার ফেরালেন ওয়েডকে। দ্বিতীয় ওভারে বাংলাদেশ পেল প্রথম উইকেটের দেখা।

প্রথম ম্যাচে লেগ স্টাম্পের শর্ট বলে বাজে শটে শর্ট ফাইন লেগে ক্যাচ দিয়েছিলেন ওয়েড। এবারের বলটি ছিল মিডল স্টাম্পে। ওয়েড শরীর ঘুরিয়ে পুল করার চেষ্টা করেন সজোরে। কিন্তু বল বাড়তি লাফিয়ে তার ব্যাটের ওপরের দিকে লেগে সহজ ক্যাচ যায় সেই শর্ট ফাইন লেগেই।
৫ বলে ১ রান করে আউট ওয়েড। অস্ট্রেলিয়া ১.৩ ওভারে ১ উইকেটে ৮।

নতুন উদ্বোধনী জুটি:
জশ ফিলিপি না থাকায় অস্ট্রেলিয়ার উদ্বোধনী জুটিতে পরিবর্তন আসতোই। তবে শুধু এক প্রান্তে নয়, বদলটা এলো দুই পাশেই। একাদশে আসা বেন ম্যাকডারমটের সঙ্গে ইনিংস শুরু করলেন অধিনায়ক ম্যাথু ওয়েড। আগের দুই ম্যাচে মিডল অর্ডারে ব্যাট করেন ওয়েড।

অস্ট্রেলিয়ার লক্ষ্য ১২৮:
ইনিংস শেষ তিন বলে ন্যাথান এলিসের হ্যাটট্রিকে বাংলাদেশের রান ছুঁতে পারল না ১৩০। সিরিজ জিইয়ে রাখতে অস্ট্রেলিয়ার লক্ষ্য ১২৮।
শেষের ওই হ্যাটট্রিকে সফলতম বোলার এলিস। তবে সেরা বোলার ছিলেন নিঃসন্দেহে জশ হেইজেলউড। ৪ ওভারে ১৬ রান দিয়ে নেন তিনি ২ উইকেট।

সংক্ষিপ্ত স্কোর:
বাংলাদেশ: ২০ ওভারে ১২৭/৯ (নাঈম ১, সৌম্য ২, সাকিব ২৬, মাহমুদউল্লাহ ৫২, আফিফ ১৯, শামীম ৩, সোহান ১১, মেহেদি ৬, মুস্তাফিজ ০, শরিফুল ০*; টার্নার ১-০-২-০, হেইজেলউড ৪-০-১৬-২, জ্যাম্পা ৪-০-২৪-২, অ্যাগার ৪-০-২৩-০, এলিস ৪-০-৩৪-৩, মার্শ ১-০-১৫-০, ক্রিস্টিয়ান ২-০-৯-০)।

অভিষেকে হ্যাটট্রিক!
টানা তিন বলে উইকেট নিয়ে অভিষেক স্মরণীয় করে রাখলেন ন্যাথান এলিস। মাহমুদউল্লাহ ও মুস্তাফিজের পর তার শিকার মেহেদি হাসান।
ইনিংসের সেটি শেষ বল। হ্যাটট্রিক ঠেকানোর চেয়ে দলের রান বাড়ানোর ভাবনাই ছিল মেহেদির বেশি। শর্ট অব লেংথ স্লোয়ার বলে পুল করেন মেহেদি। কিন্তু জোর পাননি শটে। স্কয়ার লেগ সীমানায় ক্যাচ নেন অ্যাশটন অ্যাগার। হ্যাটট্রিক আনন্দে ডানা মেলে দেন এলিস।
১১ বলে ৬ রানে আউট মেহেদি। বাংলাদেশ থামল ১২৭ রানে।
প্রথম বোলার হিসেবে টি-টোয়েন্টি অভিষেকে হ্যাটট্রিক করলেন এলিস।
সব মিলিয়ে টি-টোয়েন্টিতে এটি সপ্তদশ হ্যাটট্রিক, অস্ট্রেলিয়ার হয়ে তৃতীয়।

এলিসের আরেকটি:
প্রথম উইকেটের হাত ধরে আরেকটি শিকারের দেখা পেলেন ন্যাথান এলিস। উইকেটে গিয়ে লেগ সাইডে উড়িয়ে মারেন মুস্তাফিজ। টাইমিং হয়নি ঠিকমতো। মিড উইকেটে ক্যাচ নেন মিচেল মার্শ। মুস্তাফিজ আউট প্রথম বলেই।

এলিসের প্রথম:
ফিফটির পরের বলেই আউট মাহমুদউল্লাহ। অভিষিক্ত ন্যাথান এলিস পেলেন প্রথম উইকেটের দেখা।
এলিসের ফুল লেংথ বলটিতে ক্রস ব্যাটে উড়িয়ে মারার চেষ্টা করেন মাহমুদউল্লাহ। ব্যাটে-বলে হয়নি। বল ছোবল দেয় স্টাম্পে।
মাহমুদউল্লাহ আউট হলেন ৫৩ বলে ৫২ রান করে।

মন্থরতম মাহমুদউল্লাহ:
মাহমুদউল্লাহর ৫২ বলের ফিফটি বাংলাদেশের হয়ে টি-টোয়েন্টিতে সবচেয়ে ধীরগতির ফিফটি। আগেরটি ছিল ২০১৩ সালে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে বুলাওয়ায়োতে শামসুর রহমানের ৪৭ বলের ফিফটি।
বাংলাদেশের হয়ে টি-টোয়েন্টিতে পঞ্চাশ ছোঁয়া ইনিংসগুলোর মধ্যে সবচেয়ে কম স্ট্রাইক রেটের ইনিংসও মাহমুদউল্লাহর এটি। ৫৩ বলে ৫২ করেছেন তিনি, স্ট্রাইক রেট ৯৮.১১।
আগের রেকর্ডটি ছিল তামিম ইকবালের। ২০১২ সালে নেদারল্যান্ডসের বিপক্ষে তার ৪৬ বলে ৫০ রানের ইনিংসে স্ট্রাইক রেট ছিল ১০৮.৬৯।

মাহমুদউল্লাহর ফিফটি:
ন্যাথান এলিসের স্লোয়ার ডেলিভারিতে দারুণ শটে চার মেরে মাহমুদউল্লাহ স্পর্শ করলেন ফিফটি। ৫২ বলে এলো তার পঞ্চাশ।
টি-টোয়েন্টিতে তার পঞ্চম ফিফটি এটি, অধিনায়ক হিসেবে ২০ ম্যাচে প্রথম।

সরাসরি থ্রোয়ে আরেকটি:
অস্ট্রেলিয়ানদের দুর্দান্ত ফিল্ডিংয়ের শিকার বাংলাদেশের আরেক ব্যাটসম্যান। এবার সরাসরি থ্রোয়ে বিদায় নিলেন নুরুল হাসান সোহান।
উইকেটে যাওয়ার পর থেকে দারুণ আত্মবিশ্বাসী খেলছিলেন সোহান। জ্যাম্পাকে জায়গায় দাঁড়িয়ে ছক্কাও মারেন দারুণ এক শটে। মাহমুদউল্লাহর সঙ্গে দ্রুত সিঙ্গেল-ডাবল নেওয়ার চেষ্টা করছিলেন। সেই চেষ্টায়ই হারাতে হলো উইকেট।
ড্যানিয়েল ক্রিস্টিয়ানের বলে আলতো ড্রাইভ করেই রান নিতে ছোটেন মাহমুদউল্লাহ। কিন্তু বল সরাসরি যায় কাভার ফিল্ডারের দিকে। সেটা দেখে একটু থমকে যান সোহান। পরে মাহমুদউল্লাহর ডাকে সাড়া দিতে ছোটেন আবারও। কিন্তু কাভার থেকে সরাসরি থ্রোয়ে স্টাম্পে লাগান মোইজেস হেনরিকেস।
৫ বলে ১১ রানে আউট সোহান। ১৫.৪ ওভারে বাংলাদেশ ৬ উইকেটে ৯৭। নতুন ম্যাচসম্যান মেহেদি হাসান।

অল্পতে শেষ শামীম:
নুরুল হাসান সোহানের ওপরে ব্যাটিংয়ের সুযোগ পেয়ে কাজে লাগাতে পারলেন না শামীম হোসেন। হেইজেলউডের বলে ক্রস ব্যাটে খেলে আউট হলেন তিনি ৮ বলে ৩ রান করে।
হেইজেলউডের বলটি পুল করার মতো শর্ট ছিল না। স্কিড করা লেংথ বলে ক্রস ব্যাটে অন সাইডে চালান শামীম। বল ব্যাটের ওপরের দিকে লেগে উঠে যায় ওপরে। শর্ট মিড উইকেট থেকে পেছনে দিকে খানিকটা দৌড়ে ক্যাচ নেন বেন ম্যাকডারমট।
১৩.৪ ওভারে বাংলাদেশ ৫ উইকেটে ৮১। নতুন ব্যাটসম্যান সোহান।

রান আউট আফিফ:
আগের দুই ম্যাচে দুটি কার্যকর ইনিংস খেলা আফিফ হোসেন শুরু করেছিলেন এবারও। কিন্তু তাকে থামতে হলো ঝুঁকিপূর্ণ একটি সিঙ্গেলের চেষ্টায় রান আউট হয়ে।
ক্রিজে যাওয়ার কিছুক্ষণ পর অ্যাশটন অ্যাগারকে ছক্কা হাঁকানো আফিফ পরের ওভারে ন্যাথন এলিসকে মারেন চার। গতি পায় বাংলাদেশের ইনিংস। জমে যাচ্ছিল তার সঙ্গে অধিনায়ক মাহমুদউল্লাহর জুটি। সেটা ভাঙল অ্যালেক্স কেয়ারির দারুণ ফিল্ডিংয়ে।
ড্যানিয়েল ক্রিস্টিয়ানের বল কাভারে পাঠিয়েই রানের জন্য ছুটেন আফিফ। ঝাঁপিয়ে বল মুঠোয় নিয়ে সরাসরি থ্রোয়ে বেলস ফেলে দেন কেয়ারি। স্ই করার জন্য কেবল এক স্টাম্প দেখছিলেন তিনি।
১৩ বলে একটি করে ছক্কা ও চারে ১৯ রান করেন আফিফ।
১২ ওভারে বাংলাদেশের রান ৪ উইকেটে ৭৬। নতুন ব্যাটসম্যান শামীম হোসেন।  

বাংলাদেশের ফিফটি:
জ্যাম্পার বলে মাহমুদউল্লাহর সিঙ্গেলে বাংলাদেশের রান পঞ্চাশ স্পর্শ করল ৮.৫ ওভারে।

ছক্কার চেষ্টায় সাকিবের বিদায়:
রানের গতিতে মাত্রই দম দিতে শুরু করেছিলেন সাকিব আল হাসান। কিন্তু তাকে থামতে হলো বড় শটের চেষ্টায়। আক্রমণে ফিরে দলকে উইকেট এনে দিলেন অ্যাডাম জ্যাম্পা।
আগের ওভারেই মিচেল মার্শের বোলিংয়ে দারুণ এক ফ্লিকে চার মারেন মাহমুদউল্লাহ, সাকিব দুটি চার মারেন স্কুপ ও কাট করে। বিপজ্জনক জুটি ভাঙতে জ্যাম্পাকে বোলিংয়ে আনেন ম্যাথু ওয়েড। সাফল্য প্রথম বলেই।
জ্যাম্পার ঝুলিয়ে দেওয়া বল হাঁটু গেড়ে সোজা ব্যাটে উড়িয়ে মারেন সাকিব। কিন্ত মারে জোর হয়নি যথেষ্ট। লং অফ থেকে সামনে এগিয়ে ক্যাচ নেন অ্যাশটন অ্যাগার। সাকিবের প্রতিক্রিয়ায় হতাশা ফুটে ওঠে স্পষ্ট।
১৭ বলে ২৬ রান করে বিদায় নিলেন সাকিব। মাহমুদউল্লাহর সঙ্গে তার জুটি থামল ২৬ বলে ৪৪ রানে।
বাংলাদেশের রান ৮.১ ওভারে ৩ উইকেটে ৪৭। নতুন ব্যাটসম্যান আফিফ হোসেন। 

পাওয়ার নেই পাওয়ার প্লেতে:
দুই ওপেনারকে হারানোর পর পাওয়ার প্লেতে আর কোনো উইকেট হারায়নি বাংলাদেশ। তবে রানও ওঠেনি খুব বেশি। ৬ ওভারে রান ২ উইকেটে ২৮।
বাউন্ডারি এসেছে কেবল দুটি। সাকিবের ব্যাট থেকেই এসেছে দুটি। ১০ বলে ১৪ রানে খেলছেন তিনি। অধিনায়ক মাহমুদউল্লাহ খেলছেন ৯ রানে।

পঞ্চম ওভারে আক্রমণে অ্যাশটন অ্যাগার। তার প্রথম বলে চার মেরে দলকে ম্যাচের প্রথম বাউন্ডারি এনে দিলেন সাকিব আল হাসান।
বলটি ছিল স্টাম্পের বেশ বাইরে। শট খেলার মতোই। সাকিবের ড্রাইভে তবু বল উঠে যায় ওপরে। তবে বিপদ হয়নি। পয়েন্ট ও কাভার ফিল্ডারের মাঝ দিয়ে বল যায় বাউন্ডারিতে।

সৌম্যর ব্যর্থতা চলছেই:
উইকেটে অস্বস্তিময় সময় কাটিয়ে ফিরে গেলেন সৌম্য সরকারও। সিরিজে তার ব্যর্থতার ধারা দীর্ঘায়িত হলো আরেকটু।
তৃতীয় ওভারে লেগ স্পিনার অ্যাডাম জ্যাম্পাকে আক্রমণে আনেন অস্ট্রেলিয়ান অধিনায়ক। প্রথম বলটিই সুইপ করার চেষ্টা করেন সৌম্য। বল আঘাত করে তার প্যাডে। অস্ট্রেলিয়ানদের এলবিডব্লিউয়ের আবেদনে বেশ কিছুক্ষণ ভেবে আঙুল তুলে দেন আম্পায়ার।
সৌম্য রিভিউ নেন। তবে বাঁচতে পারেন। আম্পায়ার্স কলে অটুট থাকে আউটের সিদ্ধান্ত। বাংলাদেশের রিভিউ টিকে গেলেও টিকতে পারেননি সৌম্য।
আউট হওয়ার আগের সময়টুকুতেও সৌম্য ছিলেন দিশাহারা। ব্যাটে-বলেই করতে পারছিলেন না, টিকে ছিলেন কোনোরকমে। শেষ পর্যন্ত আউট হলেন ১১ বলে ২ রান করে।
২.১ ওভারে বাংলাদেশের রান ২ উইকেটে ৩।
সিরিজের আগের ২ ম্যাচে সৌম্যর রান ছিল ২ ও ০। প্রতিবারই আউট হন বাজে শটে।

নাঈম ব্যর্থ আবার:
অস্ট্রেলিয়াকে প্রথম ব্রেক থ্রু এনে দিলেন জশ হেইজেলউড। ২ বলে ১ রান করেই আউট হলেন মোহাম্মদ নাঈম শেখ।
হেইজেলউডের ডেলিভারিটি ছিল দুর্দান্ত। মিডল স্টাম্পে বলটি পিচ করে সিমে, হালকা সুইং করে বেরিয়ে যায়। এমন এক ডেলিভারিতেই নাঈম চেষ্টা করেন ব্যাটের মুখ পেতে দিয়ে থার্ডম্যানে খেলতে। তার ব্যাটের কানায় লেগে বল যায় কিপার ম্যাথু ওয়েডের গ্লাভসে।
আগের দুই ম্যাচে ৩০ ও ১ রানের পর এবার নাঈমের রান ২। বাংলাদেশ ২ ওভারে ১ উইকেটে ৩।

প্রথম ওভারেই বেঁচে গেলেন সৌম্য:
ইনিংসের প্রথম ওভারেই দুই দফায় অল্পের জন্য রক্ষা পেলেন সৌম্য সরকার।
প্রথমটি ছিল স্টাম্পিং থেকে। লেগ স্টাম্পের বাইরের বলে ঠিকমতো খেলতে পারেননি বাঁহাতি ব্যাটসম্যান, ফলো ধ্রুতে পা চলে আসে বাইরে। কিপার ম্যাথু ওয়েড বেল ফেলে দেন। তবে টিভি রিপ্লেতে দেখা যায়, সেকেন্ডের ভগ্নাংশ সময় আগে পা ক্রিজে চলে আসে সৌম্যর।
পরের বলেই জীবন পান তিনি ক্যাচ হওয়া থেকে। মিডল স্টাম্পে পিচ করা লেংথ বলে সুইপ আর ফ্লিকের মাঝামাঝি ধরনের কোনো শট খেলেন সৌম্য, স্কয়ার লেগে বৃত্তের ভেতরই ফিল্ডার লাফিয়ে ওঠেন। বলে হাত ছোঁয়াতেও পারেন তিনি, তবে তালুবন্দি করতে পারেননি।
সৌম্য বেঁচে গেলেন শূন্য রানে।

টার্নারকে দিয়ে শুরু:
অস্ট্রেলিয়া বোলিং আক্রমণ শুরু করেছে অ্যাশটন টার্নারকে দিয়ে। সিরিজের আগের দুই ম্যাচে বলই হাতে নেননি অনিয়মিত এই অফ স্পিনার।

তিন পরিবর্তন অস্ট্রেলিয়ার:
সিরিজ বাঁচানোর লড়াইয়ে একাদশে পড় পরিবর্তন এনেছে অস্ট্রেলিয়া। ওপেনিংয়ে জশ ফিলিপির জায়গায় সুযোগ পেয়েছেন বেন ম্যাকডারমট। মূল স্ট্রাইক বোলার মিচেল স্টার্ককে বিশ্রাম দিয়ে একাদশে আনা হয়েছে পেস বোলিং অলরাউন্ডার ড্যানিয়েল ক্রিস্টিয়ানকে। তাতে অস্ট্রেলিয়া বোলিং শক্তি কমেছে একটু, বেড়েছে ব্যাটিং শক্তি। সিরিজের আগের দুই ম্যাচে ব্যাটিং নিয়েই ধুঁকেছে দলটি।
অস্ট্রেলিয়ার আরেকটি পরিবর্তন পেস আক্রমণে। অ্যান্ড্রু টাই চলে গেছে বাইরে, অভিষেক হচ্ছে পেসার ন্যাতান এলিসের।
এই সফরে এলিস দলে ছিলেন রিজার্ভ হিসেবে। পরে রাইলি মেরেডিথের চোটে তার জায়গা হয় মূল স্কোয়াডে। এবার ঢুকে গেলেন একাদশেও।
২৬ বছর বয়সী এলিস এখনও পর্যন্ত খেলেছেন ৩১ ম্যাচ, উইকেট ৩৩টি। গত বিগ ব্যাশে তিনি নজর কাড়েন ১৪ ম্যাচে ২০ উইকেট নিয়ে। ডেথ ওভারে বেশ কার্যকর মনে করা হয় তাকে।

অস্ট্রেলিয়া একাদশ:
বেন ম্যাকডারমট, অ্যালেক্স কেয়ারি, মিচেল মার্শ, মোইজেস হেনরিকেস, ম্যাথু ওয়েড (অধিনায়ক), অ্যাশটন টার্নার, অ্যাশটন অ্যাগার, ড্যানিয়েল ক্রিস্টিয়ান, অ্যাডাম জ্যাম্পা, ন্যাথান এলিস, জশ হেইজেলউড।

একই একাদশ বাংলাদেশের:
আগের দুই ম্যাচ জয়ী দলে কোনো পরিবর্তন আনেনি বাংলাদেশ। সিরিজ জয়ের অভিযানে নেমেছে তারা জয়ী একাদশ নিয়ে।

বাংলাদেশ একাদশ: সৌম্য সরকার, মোহাম্মদ নাঈম শেখ, সাকিব আল হাসান, মাহমুদউল্লাহ (অধিনায়ক), আফিফ হাসান, নুরুল হাসান সোহান, শামীম হোসেন, মেহেদি হাসান, শরিফুল ইসলাম, মুস্তাফিজুর রহমান, নাসুম আহমেদ।

অবশেষে টসে হাসি মাহমুদউল্লাহর:
টানা পাঁচটি টি-টোয়েন্টিতে টস হারার পর অবশেষে মুদ্রা নিক্ষেপে ভাগ্যকে পাশে পেলেন মাহমুদউল্লাহ। বাংলাদেশ অধিনায়ক টস জিতে বেছে নিলেন ব্যাটিং।
বৃষ্টি বিঘ্নিত ম্যাচে এমনিতে টস জয়ী দল পরে ব্যাট করতেই পছন্দ করে বেশি। তবে মাহমুদউল্লাহ বললেন, ‘আগে ব্যাট করে ভালো একটি স্কোর গড়তে চাই আমরা। এরপর বাকিটা ছেড়ে দিতে চাই বোলারদের ওপর। দারুণ ফর্মে আছেন আমাদের বোলাররা।”
অস্ট্রেলিয়ান অধিনায়ক ম্যাথু ওয়েড বললেন, টস জিতলে তিনি বোলিংই নিতেন। মূলত আবহাওয়ার ভাবনাতেই আগে বোলিং নিতে চেয়েছিলেন বলে জানালেন তিনি। 

টস ৭টায়:
অপেক্ষা শেষ হতে চলেছে। সন্ধ্যা ৭টায় হবে টস, খেলা হচ্ছে পুরো ২০ ওভারই। দুই ইনিংসের মাঝের বিরতি স্রেফ ১০ মিনিট।

উইকেটে চোখ ডমিঙ্গোর:
কাভার সরানোর পর থেকে বারবার উইকেট পরখ করে দেখছেন বাংলাদেশ কোচ রাসেল ডমিঙ্গো। দলকে ফিল্ডিং অনুশীলন করানোর ফাঁকে বেশ কবারই কাছাকাছি গিয়ে চোখ রেখেছেন উইকেটে।

আশার আলো:
বৃষ্টি থেমেছে আবার। আকাশে কালো মেঘের আনাগোনাও কমেছে বেশ। সরানো হয়েছে উইকেটের কাভার। চলছে পানি শুকানোর কাজ।

আবার বৃষ্টি:
উইকেটের কাভার সরিয়ে মাঠ শুকানোর কাজ যখন শেষের পথে, তখন আবার নেমেছে বৃষ্টি। এবার অবশ্য বেগ তীব্র নয়। হালকা বৃষ্টির মধ্যে মাঠে গা গরম করছেন দুই দলের ক্রিকেটাররা।

থেমেছে বৃষ্টি:
বিকেল পৌনে ৬টার দিকে থেমেছে বৃষ্টি। উইকেটের কাভারের ওপর থেকে পানি শুকানোর কাজ চলছে সুপার সপার দিয়ে। মাঠকর্মীরা শুরু করেছেন মাঠ পরিচর্যার কাজ।

বৃষ্টির হানা:
মিরপুরে রোদ-মেঘের লুকোচুরি চলছিল দুপুর থেকেই। উইকেট ঢেকে রাখা ও কাভার সরানোর পালা চলে কয়েক দফায়। শঙ্কাকে সত্যি করে বিকেল পৌনে পাঁচটার দিকে নামে বৃষ্টি। শুরুতে টিপটিপ বৃষ্টি থাকলেও পরে শুরু হয় মুষলধারে। মিরপুর শের-ই-বাংলা স্টেডিয়ামে তাই টস হতে পারেনি সময়মতো।
টসের নির্ধারিত সময় বিকেল সাড়ে ৫টায় বৃষ্টির বেগ ছিল বেশ তীব্র।

হ্যাটট্রিক জয়ের হাতছানি:
এ সিরিজ থেকে প্রাপ্তি বাংলাদেশের এর মধ্যেই হয়ে গেছে বেশ কিছু। টি-টোয়েন্টিতে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে প্রথম জয় এসেছে। আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে প্রথমবার অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে টানা দুই ম্যাচ জয়ও ধরা দিয়েছে। এবার হাতছানি সব ফরম্যাট মিলিয়ে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে প্রথম সিরিজ জয়ের।
এই ম্যাচের পরও সিরিজ জয়ের দুটি সুযোগ থাকবে বাংলাদেশের সামনে। তবে টানা তিন জয়ে সিরিজ জয় নিশ্চিত করার লক্ষ্যেই মাঠে নামবে বাংলাদেশ।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *