চট্টগ্রাম, , শুক্রবার, ২৪ জুন ২০২২

admin

অনিশ্চিয়তায় চলছে বোডিং পাড়া প্রাথমিক বিদ্যালয়: দিশেহারা শিক্ষকগণ!

প্রকাশ: ২০২২-০৫-১৮ ০০:৩১:১৫ || আপডেট: ২০২২-০৫-১৮ ০০:৩১:১৭

নাজিম উদ্দীন রানা, থানচি থেকে ফিরে|

বান্দরবানের দূর্গম থানচি উপজেলার সদর ইউনিয়নের বোডিং পাড়া প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকগণ দীর্ঘ এক যুগ ধরে শিক্ষকতা করেও অনিশ্চিত ভবিষৎ এর দ্বারপ্রান্তে। সরকারীকরণের আশায় স্বল্প বেতনে এ বিদ্যালয়ের শিক্ষকগণ শিক্ষকতা করে আসছেন। মানবেতর জীবন যাপন করেও জীবনের শেষান্তে কঠিন মূহুর্তের মুখোমুখি হলেন। সব নিশ্চিয়তার মধ্যেই যেন সব অনিশ্চিত।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, বিদ্যালয়টি ২০০৮ সালে প্রতিষ্ঠিত হয়ে ২০১৫ সাল পর্যন্ত ইউএনডিপি প্রকল্পের মাধ্যমে পরিচালিত হয়। গতো ২০১৭ সালের ২০ ফেব্রুয়ারী ৩৮.০০৭.০১৫.০০০.১৮.০০, ২০১৪-৬৪ স্বারক মূলে বোর্ডিং পাড়া বেসরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়টি সরকারিকরণ করা হয়। গতো ২০২০ সালের ২৬ আগস্ট ৩৮.০০৭.০১৫.০০০.১৪.০১.২০১৫/২০৫ স্বারক মূলে শিক্ষকদের সরকারিকরণের জন্য তাদের নামে খসড়া গেজেট প্রকাশ করা হয়। এই খসড়া গেজেটে অন্যান্য বিদ্যালয়ের সাথে বিদ্যালয়টির নামসহ শিক্ষকদের নাম প্রকাশিত হয়। পরে ১৩ এপ্রিল, ২০২২ ইং তারিখে যখন চুড়ান্ত গেজেট প্রকাশ হয় তখন কোন অদৃশ্য কারনে ওই চূড়ান্ত গেজেট থেকে হুট করে বিদ্যালয়টির নামসহ তিন শিক্ষকের নাম বাদ পড়ে যায়। কেনো বাদ দেওয়া হলো, কিভাবে বাদ হলো সে বিষয়ে ঘোলাটে অবস্থা বিরাজ করছে জেলা-উপজেলার শিক্ষা অফিসগুলোতে।

সরকারীকরণ থেকে বাদ পড়া ও দীর্ঘ একযুগ ধরে বিদ্যালয়টিতে কর্মরত শিক্ষকগণ হলেন নথি চন্দ্র ত্রিপুরা, মথি ত্রিপুরা ও কৃষ্টিনা ত্রিপুরা। নথি চন্দ্র ত্রিপুরা বলেন, অন্য কোন চাকরিতে প্রবেশের বয়সও শেষের পথে। কোন চাকরীও পাবো না এই বয়সে। সরকারিকরণ না হলে পরিবার নিয়ে পথে বসা ছাড়া কোন উপায় থাকবেনা।

এ প্রসঙ্গে বান্দরবান জেলা শিক্ষা অফিসার শফিউল আলম বলেন, বিদ্যালয়টি ১৫০০ প্রাথমিক বিদ্যালয় প্রকল্পে ঢুকে গেছে। তাই এখানে নাম আসেনি।’

কিন্তু অভিভাবক ও সচেতন মহলের প্রশ্ন ১৫০০ প্রাথমিক বিদ্যালয় প্রকল্পে বিদ্যালয়টি যদি ঢুকে যায় তাহলে শিক্ষক গুলোর ভবিষ্যৎই কি হবে? কারণ ১৫০০ বিদ্যালয়গুলো শুধু নতুন বিদ্যালয় হিসেবে সরকারিকরণ করা হবে এবং শিক্ষকও নতুন নিয়োগের মাধ্যমে নেওয়া হবে।

অথচ এই বিদ্যালয়টি ২০০৮ সাল থেকে শিক্ষা কার্যক্রম চলছে এবং শিক্ষকগুলোও অনেক পুরাতন। সরকারিকরণের আশায় তারা অন্য কোন চাকরিতেও যোগদান করেনি।
এদিকে শিক্ষকগণ বকেয়া বেতন পাওয়ার আশায় খেয়ে না খেয়ে বিদ্যালয়ে একযুগ ধরে শিক্ষকতা করে আসছে। বিদ্যালয়ে দীর্ঘ বছর কর্মরত থাকার পর তাদের চাকরিতে প্রবেশের বয়সসীমাও শেষের পথে।

বিদ্যালয়ের সভাপতি রংরাম ত্রিপুরা বলেন, বর্তমানে বিদ্যালয়ে ১৫০ জন শিক্ষর্থী পড়ালেখা করছে। তারা(শিক্ষকরা) এই দূর্গম এলাকায় অনেকদিন ধরে শিক্ষকতা করে আসছেন। সরকারের কাছে অনুরোধ, শিক্ষকগুলোর পরিশ্রম যাতে ব্যর্থ না যায়।

বান্দরবান জেলা শিক্ষা অফিসার শফিউল আলম আরো বলেন, এটা নিয়ে আমরা কাজ করছি। আশা করছি শিক্ষকগুলো সরকারিকরণের আওতায় আসবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *