চট্টগ্রাম, , মঙ্গলবার, ৯ আগস্ট ২০২২

Alauddin Lohagara

শঙ্খে সেতু নির্মাণ প্রক্রিয়া শুরু হওয়ায় নদীর দু’পাড়ের মানুষের মাঝে ফিরেছে স্বস্তি  

প্রকাশ: ২০১৮-০২-২৪ ১৭:০৪:১৫ || আপডেট: ২০১৮-০২-২৪ ১৭:০৪:১৫

 

মোঃ নাজিম উদ্দিন, বীর কণ্ঠ :

৪৭ বছর ধরে নদীর দু’পাড়ের বাসিন্দারা স্বপ্ন দেখে আসছে পুরানগড়ের চৌকিদার ফাঁড়ি এলাকায় দক্ষিণ চট্টগ্রামের উপর দিয়ে বয়ে যাওয়া শঙ্খে একটি সেতু নির্মাণের। সেতুটি নির্মিত হলে বদলে যাবে এ অঞ্চলের মানুষের জীবনযাত্রা। গ্রামবাসীদের মাঝে ফিরে আসবে স্বচ্ছলতা। সেতু না থাকায় সবজি ভান্ডার খ্যাত পুরানগড়-শীলঘাটাসহ আশেপাশে এলাকায় উৎপাদিত কৃষি পণ্যের ন্যায্যমূল্য থেকে বঞ্চিত হয়ে আসছে গ্রামের চাষিরা। অর্ধ শত বছর ধরে সাতকানিয়ার পুরানগড়, বাজালিয়া, চন্দনাইশের ধোপাছড়ির বাসিন্দাদের বিভাজন করে রেখেছে একটি সেতু। বর্ষা আসলেই খর¯্রােতা শঙ্খ নৌকাযোগে পারাপারে চরম দুর্ভোগে পড়ে গ্রামের লোকজন ও শিক্ষার্থীরা।

জানা যায়, চট্টগ্রাম-১৪ আসনের সাংসদ বীর মুক্তিযোদ্ধা আলহাজ্ব নজরুল ইসলাম চৌধুরীর প্রচেষ্টায় নদীর দু’পাড়ের মানুষের মাঝে সেতুবন্ধন রচনায় গত অর্থ বছরে প্রকল্পটি পাস হয়। শঙ্খ নদীতে ৪৮ কোটি টাকা ব্যয়ে ২২০ মিটার দীর্ঘ এ সেতুটির নির্মাণ প্রস্তাবনা একনেকে পাস হয়ে আসার খবরটি খুব দ্রুত দু’পাড়ের জনগণের মাঝে পৌঁছে গেলে হাজার হাজার জনতা উল্লাসে মেতে উঠে।

 

স্থানীয়রা জানান, স্বাধীনতা লাভের পর থেকে প্রতিবারই দেশে জাতীয় সংসদের নির্বাচন ঘনিয়ে আসলে বিভিন্ন দলের প্রার্থীরা ভোট চাইতে এসে লালুটিয়া চৌকিদার ফাঁড়ি এলাকায় একটি সেতু নির্মাণ করে দেয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়ে গেছে। কিন্তু নির্বাচীত হওয়ার পর সেই সব জনপ্রতিনিধিরা ভোটের আগে দেয়া তাদের প্রতিশ্রুতি থেকে সরে দাঁড়াত। জনগণের ভোটে নির্বাচিত হয়ে ক্ষমতার দুয়ারে পৌঁছে যাওয়ার পর কেউ আর তাদের প্রতিশ্রুতি রক্ষা করার ন্যূনতম সৌজন্যবোধও দেখায়নি স্বপ্নের এ সেতুটি নিয়ে।

 

গত ২৯ ডিসেম্বর এলাকার সাংসদ নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বে ঢাকা থেকে একটি উচ্চ পর্যায়ের প্রতিনিধদল চৌকিদার ফাঁড়ি– নয়াহাট এলাকায় প্রস্তাবিত শংখ সেতুর স্থান নির্বাচন, পরিবেশগত সমস্যা এবং ব্যয় বরাদ্দের ব্যাপারে পরিদর্শনে আসে। প্রতিনিধিদলের আসার খবরে দু’পাড়েই মানুষের ঢল নামে। প্রতিনিধি দলের সদ্যস্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর ঢাকা প্রধান কার্যালয়ের মৃত্ত্বিকা বিশেষজ্ঞ ড. মোহাম্মদ অসীম উদ্দীন, পরিবেশ পরামর্শক আশরাফুল আলম, অর্থ পরামর্শক আশীষ ধর ও চন্দনাইশ উপজেলা প্রকৌশল বিভাগের উপ সহকারী প্রকৌশলী সুবোধ চন্দ্র পাল। সেতুর স্থান পরিদর্শন শেষে উপস্থিত লোকজনের উদ্দেশ্যে সাংসদ নজরুল ইসলাম চৌধুরী বলেন, দীর্ঘ অর্ধশত বছর পর ২০ হাজার জনগণের স্বপ্নের এই সেতু নির্মাণের প্রাথমিক প্রক্রিয়া শুরু করতে পেরে তিনি আনন্দিত ও গর্বিত। তিনি বলেন এলাকার মানুষের দুর্ভোগের কথা চিন্তা করে সাংসদ নির্বাচিত হওয়ার পর থেকেই তিনি এখানে একটি সেতু নির্মার্ণের স্বপ্ন দেখে আসছেন এবং এ ব্যাপারে তার তৎপরতা অব্যাহত রেখেছেন। যে কারণে আজ দীর্ঘদিনের লালিত এ সেতু বাস্তবায়নের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। তার স্বপ্ন সফল হওয়ায় তিনি এ সময় পরম করুণাময়ের কাছে শোকরিয়া আদায় করেন।

নয়াহাটের বাসিন্দা আক্কাস উদ্দিন বলেন, একটি সেতুর জন্য যুগ যুগ ধরে নদী পারাপারে গ্রামের কৃষক, ব্যবসায়ী ও ছাত্র-ছাত্রীরা চরম দুর্ভোগের শিকার হয়ে আসছে। আজ বর্তমান সাংসদের একান্ত প্রচেষ্টায় এ অঞ্চলের সব মানুষের কষ্ট মোচন হতে যাচ্ছে। পুরানগড় ইউপি চেয়ারম্যান আ.ফ.ম মাহাবুবুল হক সিকদার বলেন, চৌকিদার ফাঁড়ি এলাকায় শঙ্খে একটি সেতু নির্মাণের স্বপ্ন দেখে আসছিল অঞ্চলের বাসিন্দারা। আজ সাংসদ নজরুল ইসলামের প্রচেষ্টায় সেতুটির নির্মাণ প্রক্রিয়া শুরু হওয়াতে আমি খুবই আনন্দিত। এই সেতুর নির্মাণকাজ শেষ হলে সবচেয়ে লাভমান হবে চাষিরা। এতোদিন সেতুর অভাবে এখানকার উৎপাদিত সবজি সড়ক পথে বেশি দূর ঘুরে চট্টগ্রাম শহরে পৌঁছাতে গিয়ে চাষিরা বঞ্চিত হতো ন্যায্যমূল্য থেকে। সেতুর নির্মাণকাজ সম্পন্ন হয়ে একদিকে গ্রামের লোকজন দুর্ভোগ থেকে বাচবে, অন্যদিকে তাদের উৎপাদিত সবজির ন্যায্যমূল্য পাবে।

 

 

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *