চট্টগ্রাম, , সোমবার, ১৫ আগস্ট ২০২২

admin

অাজিজনগর জেনারেল হাসপাতালের অনিয়ম ও চিকিৎসার নামে হয়রানির : ধারাবাহিক প্রতিবেদন পর্ব-১

প্রকাশ: ২০১৮-০৩-৩০ ০০:৫৮:৪৮ || আপডেট: ২০১৮-০৩-৩০ ০০:৫৮:৪৮

নাজিম উদ্দীন রানা,বীর কন্ঠ :

বান্দরবান পার্বত্য জেলার অাজিজনগর বাস স্টেশনের সামান্য উত্তরপাশে সড়কের সাথে খাদ্যগুদাম সংলগ্ন বহুতল ভবনের নীচতলায় অবস্হিত রোগী হয়রানির অারেকনাম অাজিজনগর জেনারেল হাসপাতাল।

 

বিগত বছর চারেকপূর্বে লোহাগাড়া ও অাজিজনগরের প্রায় ৩০ জনের শেয়ারের সমন্বয়ে অাজিজনগর জেনারেল হাসপাতাল নামক এ প্রতিষ্টানটি যাত্রা শুরু করে।হাসপাতাল চালুর খবর শুনে এলাকাবাসির মনে অাশার সঞ্চার হয়।কারন জরুরি মুহুর্তে লোহাগাড়া কিংবা চকরিয়ার মধ্যখানে কোন হাসপাতাল না থাকায় এলাকার লোকদের চরম ভোগান্তিতে পড়তে হয়।তাই সকলে হাসপাতাল কতৃপক্ষকে যথাসাধ্য উৎসাহ যুগিয়েছিল।

 

শেয়ার হোল্ডারদের মধ্যে ২/৩ ডাক্তার ও ছিল।মুলত লোহাগাড়ার সাবেক এম,পি মরহুম মোস্তাক অাহামদ চৌধুরীর ছেলে এটির উদ্যোগ নিয়ে সব কিছুই সে দেখাশোনা করতো।চেয়ারম্যানের দায়িত্বে ছিলেন লোহাগাড়া ডায়াবেটিক হাসপাতালের সাবেক অাবাসিক মেডিকেল অফিসার ডাঃ মোহাম্মদ অালী।

প্রতিষ্টানটির সবকিছু মোশাররফ হোসেন চৌধুরীর একক সিদ্ধান্তে পরিচালিত হতো বিধায় প্রতিষ্টানটি উদ্বোধনের কয়েকমাস না যেতেই শেয়ার হোল্ডারদের মাঝে বিরুপ প্রতিক্রয়া সৃষ্টি হয়।তাছাড়া হাসপাতাল পরিচালনার কোন যোগ্যতা তার মাঝে ছিলনা বলেই তা সফলতার মুখ দেখছেনা বলে অধিকাংশ পরিচালকের অভিমত।।মাঝে মাঝে কিছু দূর্ঘটনার রোগী চিকিৎসা নিতে গিয়ে বিশাল অার্থিক হয়রানীর শিকার হতে হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন অনেকেই।

পরিচালনা পর্ষদের নিকট সবটাকা জম হতোনা বলে এ নিয়ে তাদের মাঝে স্বল্প সময়ের মাঝে বিভেদের সৃষ্টি হয়, যার দরুন সকল শেয়ার হোল্ডারগণ হিসেবের ব্যাপারে সম্মিলিতভাবে জানতে চাইলে তিনি তা এড়িয়ে যান অার সেটি দিনের পর দিন বৃহৎ অাকার ধারন করলে শেয়ার হোল্ডারগণ এক প্রকার হাসপাতালের কার্যক্রম বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেন।মাস খানেক পর হাসপাতালটির মালামাল যখন একটি একটি করে বিক্রি করা শুরু করেন তখন সবাই মিলে হাসপাতালে তালা মেরে দেন।পরবর্তীতে দীর্ঘদিন হাসপাতালের ভাড়া বকেয়া থাকায় বিল্ডিংয়ের মালিক স্হানীয় শেয়ার হোল্ডারদের সাথে অালাপ করে তালা ভেঙ্গে কিছু সরন্জাম বিক্রি করে কিছু টাকা কয়েকজন শেয়ারহোল্ডারদের মাঝে ভাগ করে দিয়ে বাকিটা ভাড়ার সাথে সমন্বয় করেন।অার এরি ফাকে মোশাররফ হোসেন চৌধুরী স্ব-পরিবারে অামেরিকা পাড়ি জমান।

 

দীর্ঘ ২বছর পর হাসপাতালটি পুনরায় চালু করেন মালুমঘাঠ

মেমোরিয়াল ক্রিষ্টান হাসপাতালের সাবেক কথিত ডাঃ জেমস ইটেন।নাম পরিবর্তন না করে অাগেরটাই বহাল রাখেন।

নতুন উদ্যোগে হাসপাতালের কার্যক্রমে এলাকার মানুষ অাবারো স্বপ্ন দেখতে শুরু করে।তাদের বিশ্বাস পুরনোদের মত চিকিৎসার নামে হয়রানির শিকার হবেনা তারা।

পরিতাপের বিষয় যে লংকা যায় সেই রাবন বনে হয়।পরিস্হিতি কিংবা ধারনাকে ভ্রান্ত করে দিয়ে যেটি উপলদ্ধি করলাম তারা শুরুতেই চিকিৎসা সেবার নামে ডাকাতি শুরু করে দিয়েছে।প্রতিদিন অনেক অভিযোগ অাসে।অপেক্ষায় থাকতাম হয়তো ঠিক হয়ে যাবে।কয়েকজন কথিত পরিচালক ডাঃ জেমসকে বোঝাতে চাইলে সে উল্টা শাসিয়ে বলে” অাই এম প্রোডাক্ট অব মালুমঘাট”

কি বোঝাতে চেয়েছে বোঝলাম না। মালুমঘাঠের ক্যাডার নাকি অন্য কিছু।একটি বিষয় উল্লেখ্য তিনি প্রায় বলেন অামি মালুমঘাট থেকে এম বি বি এস করেছি।গুগলে সার্চ দিলাম বাংলাদেশ কিংবা বর্হিবিশ্বে মালুমঘাট নামক কোন মেডিকেল কলেজের অস্হিত্ব পেলাম না।তাই তিনি সত্যিকার এম বি বি এস কিনা সেটিকে প্রশ্নবিদ্ধ করে তুলেছে।

 

কেইস স্টাডি-১

———–

মাস তিনেক পূর্বে হাসপাতালের সামনে ভীড় জমায় শ খানেক মানুষ।কোন এক নাম্বার থেকে কল করে বিষয়টি অবহিত করলে ঘন্টাখানেক পর সেখানে উপস্হিত হলাম।ভিতরে দেখলাম কিছু সংবাদকর্মি ডাক্তার জেমসের সাথে কথা বলছে।উভয়ের মাঝে তর্কাতর্কি চলছে।জুনিয়র ২/১ জন এগিয়ে এসে অামাকে বিষয়টি উপস্হাপন করলে অামার শরীরের লোম খাড়া হয়ে গেল।ভাবতেই অবাক হলাম একজন চিকিৎসক টাকার জন্য কতটা নীচে নামতে পারে।শিক্ষা জীবনে জেনেছিলাম চিকিৎসা পেশা সেবার জন্য।অাজ দেখলাম তার সম্পূর্ণ বিপরীত।

মুল ঘঠনাঃ উত্তর হারবাং ভিলেজার পাড়ার ট্রলি চালক অাব্দুর রশিদের স্ত্রীর পেঠব্যথা জনিত সমস্যায় সেখানে নিয়ে গেলে ডাঃ জেমস অাল্ট্রাঃ করে জানান তার এ্যাপেনডিসাইসিস এর সমস্যা অপারেশন করাতে হবে ৪০ হাজার টাকা লাগবে।গরীব অসহায় ট্রলি চালক পগে যায় বিপাকে।মাথায় অাকাশ ভেঙ্গে পড়ার অবস্হা। সহযোগিতার জন্য দ্বারে দ্বারে যেতে লাগলো।কোন একজন সংবাদকর্মি পরামর্শ দিলো রিপোর্ট ভূল ও অাসতে পারে তাই অন্যত্র পুনরায় পরীক্ষা করাতে।

সাথে সাথে একই দিনে লোহাগাড়া অাধুনিক হাসপাতাল ও জেনারেল জাসপাতালে যথাক্রমে ডাঃ মোঃ অালী ও ডাঃ রোজী সিদ্দীকার নিকট অাল্ট্রাতো কোন কিছুর অস্হিত্ব মেলেনী।তাছাড়া ডাঃ জেমস যে অাল্ট্রা করিয়েছেন তার কোন প্রমানাদি ও দেননি।ডাঃ মোঃ অালির নিকট বিষয়টি বুঝিয়ে বলার পন তিনি জেমসের ভূল সিদ্ধান্তের কথা স্বীকার করেন।

পরে রিপোর্ট সমূহ নিয়ে ডাঃ জেমসের নিকট জানতে চাইলে তিনি প্রথমে রাগ্বতস্বরে গালিগালাজ করেন।পরে পরিস্হিতি বোঝতে পেরে ভূল স্বীকার করে।

মহিলাটির নিকট জামানতেস্বরুপ ৫০০০ টাকা এখনো পর্যন্ত ফেরত দেননী।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *