চট্টগ্রাম, , শুক্রবার, ১৩ ডিসেম্বর ২০১৯

নূর হোসেন মামুন , কাপ্তাই প্রতিনিধি :

কাপ্তাইয়ের পিডিবি স্কুলে ৬৫ বছর পর সর্ববৃহৎ ঘন্টা, উৎসুক জনতার ভিড়

প্রকাশ: ২০১৯-০৪-০৪ ০০:১২:৫৯ || আপডেট: ২০১৯-০৪-০৪ ০০:১২:৫৯

 নূর হোসেন মামুন, কাপ্তাই- কাপ্তাইয়ের বিউবো (পিডিবি) মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে ১৯৮০ সালে ঈদের ছুঁটি ঘোষণার দিন স্কুলের বাথরুমে সকলের অজান্তে তালা বন্ধ হয়ে আটকে পড়ে একটি ১২ বছর বয়সের ছাত্র। আর তালা বন্ধ বাথরুমে দীর্ঘ ১১ দিনের ছুঁটি শেষ হওয়ার প্রতিক্ষার মধ্যে দিয়ে হৃদয় বিদারক নানা ঘটনা ও মুক্তির কল্পনায় ১০ দিন অমানবিক কষ্ট সহ্য করার পর মুখ মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়ে শিশু শিল্পী সুমন। ১৯৮০ সালে আজিজুর রহমানের পরিচালনায় মুক্তিপ্রাপ্ত শিশুতোষ চলচ্চিত্র ‘ছুঁটির ঘন্টা’ ছবিতে এমনই একটি করূন দৃশ্য তুলে ধরা হয়। ছবির মূল ভূমিকায় অভিনয় করেছে শিশু শিল্পী সুমন ও অন্যান্য চরিত্রে নায়ক রাজ রাজ্জাক, শাবানা, সুজাতা, শওকত আকবর, এবং এ টি এম শামসুজ্জামান। ছবিটির অধিকাংশ ফুটেজ-ই ধারণ করা হয় বিদ্যালয়টিতে। যেই ঘন্টা দিয়ে ছবিটি ধারণ করা হয় ১৯৫৪ সালে থেকে বিদ্যালয়টি প্রতিষ্ঠিত হাওয়ার পর হতে প্রায় ৬৫ বছর যাবত তিন কেজি ওজনের একটি ঘন্টা (বেল) দিয়ে কার্যক্রম অদ্যবতি চলে আসছিল। বর্তমানে ঘন্টাটি একেবারে পুরাতন এবং মধ্যে ভেঙে গেছে।

বুধবার কাপ্তাইয়ের বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে দেশের সর্ববৃহৎ ১৫ কেজি ওজনের ঘন্টা আনুষ্ঠানিক ভাবে উদ্বোধন করা হয়েছে। চট্টগ্রাম বিদুৎ কেন্দ্রের (বিউবো) প্রধান প্রকৌশলী মো. আব্দুর রহমান স্কুলের প্রতি ভালবাসা স্মৃতি স্বরুপ একটি ঘন্টা এই স্কুল শিক্ষার্থীদের উপহার প্রদান করেন। ঘন্টাটি একনজর দেখার জন্য শিক্ষার্থী, অনেক অভিভাবক শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ভিড় করতে দেখা যায়। এসময় উপস্থিত ছিলেন, কাপ্তাই বিউবো মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. ইমরুল হাসান, কাপ্তাই কর্ণফুলী পানি বিদুৎ কেন্দ্রের নিরাপত্তা কর্মকর্তা মো. জসিম উদ্দিন সহ সকল শিক্ষক, অভিভাবক, শিক্ষার্থীসহ আরও অনেকে।

প্রধান প্রকৌশলী আব্দুর রহমান বলেন, আমার জানামতে এত বড় স্কুল ঘন্টা দেশের আর কোন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে নেই। চট্টগ্রামের কোন কারখানায় এত বড় ঘন্টা তৈরি করতে না পাড়ায় তিনি ঢাকা হতে ইসপাতের তৈরি এ ঘন্টাটি তৈরি করেন। তিনি জানান, এ ঘন্টাটি এত বড় এবং এমন ভাবে তৈরি করা হয়েছে চুরি করার মত কোন সুযোগ নেই। এ স্কুলের এবং বিউবোর বিভিন্ন দায়িত্ব থাকায় স্কুলকে ভালবেসে স্মৃতি স্বরুপ এক ঘন্টটি উপহার প্রদান করা হয়। এর আওয়াজ শুনে শিক্ষার্থীরা ক্লাসে আসবে নিয়মিত পড়া লেখা করবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *