চট্টগ্রাম, , রোববার, ১৮ আগস্ট ২০১৯

মিজবাউল হক চকরিয়া অফিস

আগুনে পুড়ে যাওয়া ছাবাত্বীন পেলো দেশ সেরার পুরস্কার

প্রকাশ: ২০১৯-০৮-০৬ ২২:৫০:৩৬ || আপডেট: ২০১৯-০৮-০৬ ২২:৫০:৩৬

মিজবাউল হক : আগুনে পুড়ে মারা গেছে তার বাবা-মা। পুড়ে গেছে দোলনায় থাকা তার ছোট ভাইও। পুড়েছে সে নিজেও। নাম তার আছমাউল তাজনীন ছাবাত্বীন। অগ্নিকান্ডের ঘটনা রাজধানী ঢাকার মগবাজারে। সূত্রপাত পাশের বাড়ি থেকে তাদের ঘরে। অগ্নিদগ্ধ ছাবাত্বীনের মা-বাবার স্বপ্ন ছিল বড়। মেয়েটাকে বাবা বানাবে ডাক্তার আর মা বানাবে আদর্শ শিক্ষক। কিছুটাই হয়নি। স্বপ্নদ্রষ্টারাই পুড়েছে আগুনে। এতোক্ষণ পর্যন্ত এসব কথাগুলো ছিলো প্রতিযোগি ছাবাত্বীনের অভিনয়ের মূল চরিত্রের অংশ বিশেষ। তার অভিনয়ে উপস্থিত দর্শকও কেঁদেছে। চোখের পানি গড়িয়েছে বিচারকও। সোমবার ৫আগস্ট রাজধানী সূত্রাপুর থানা জহির রায়হান অডিটরিয়ামে অনুষ্ঠিত হয় সেরাদের সেরা প্রতিযোগিতার গ্রান্ড ফিনাল।

দেশব্যাপি জাতীয় এ প্রতিযোগিতার আয়োজন করে সমন্বিত সাংস্কৃতিক সংসদ (সসাস)। ওই প্রতিযোগিতায় পর্যটন রাজধানী কক্সবাজার নয়; পুরো চট্টগ্রাম বিভাগের প্রতিনিধিত্ব করেছেন চকরিয়ার প্রতিভাবান মেয়ে আছমাউল তাজনীন ছাবাত্বীন। পুরো অডিটরিয়াম একাই নীরব-নিস্তব্ধ করে রাখে “ক” বিভাগের প্রতিযোগি ছাবাত্বীন। অডিটরিয়াম ভর্তি বিপুল দর্শক যে যার মতো করে চোখের পানি ফেলেছে ছাবাত্বীনের অভিনয়ে। এই প্রতিযোগিতায় বিচারকও করেছে চুলচেরা বিশ্লেষন। বিচারকদের বিচারে জাতীয়ভাবে দ্বিতীয় রানার আপ নির্বাচিত হয়েছে সেই অভিনয়ের চরিত্রে আগুনে পুড়ে যাওয়া চকরিয়ার মেয়ে আছমাউল তাজনীন ছাবাত্বীন। সে উপজেলা যুবলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক সাবেক ছাত্রনেতা তারেকুল ইসলাম চৌধুরী ও সিরাজ পাপড়ি রায়হান (সনেট) দম্পতির সুযোগ্য কন্যা। চকরিয়া কিডস কেয়ার ইন্টারন্যাশনাল স্কুলের ছাত্রী ছাবাত্বীন সেরাদের সেরা প্রতিযোগিতায় শুরু থেকেই মঞ্চ কাঁপিয়ে আসছিলো।

জাতীয় প্রতিযোগিতার সিঁড়িতেই ঠাঁই হবে সেই কল্পনা তার ছিলোনা। তবে মা-বাবার আছে সেটি প্রকাশও করেছেন ফেসবুক ওয়ালে দিয়ে ছাবাত্বীনের গর্বিত পিতা তারেকুল ইসলাম। তিনি এলাকাবাসীসহ সকলের দোয়া কামনা করেছিলেন। সেটি হয়েছেও দেশসেরা পুরস্কার অর্জনের মাধ্যমে। একক অভিনয়ে নৈপূণ্যতার শীর্ষ অবস্থানে থাকা ছাবাত্বীন থানা পর্যায় প্রথম, জেলা পর্যায় প্রথম, চট্টগ্রাম বিভাগীয় পর্যায়ে ২য় হয়ে সেমি ফাইনালে ঠাঁই করে নেয় ইয়েস কার্ডের জন্য। আর জাতীয় পর্যায় তথা গ্রান্ড ফিনালের পথ উম্মুক্ত করে সেমি ফাইনালের ওই ইয়েস কার্ডই। ইয়েস কার্ডটি পেতে সাধনা পর সাধনা আর রপ্ত করেছে নানান কলা কৌশল।

এদিকে দেশসেরা পুরস্কার পাওয়ায় ছাবাত্বীনকে বিভিন্ন মহল অভিনন্দন জানিয়েছেন এবং তার সুস্থতা ও সমৃদ্ধি কামনা করেছেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *