চট্টগ্রাম, , শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২০

জাহেদুল হক আনোয়ারা প্রতিনিধি

হাতির পদভারে আতঙ্ক কোরিয়ান ইপিজেডে

প্রকাশ: ২০২০-০১-২৭ ১৮:১৩:৩১ || আপডেট: ২০২০-০১-২৭ ১৮:১৩:৩৯


আনোয়ারা প্রতিনিধি :
দেয়াঙ পাহাড়ের এক টিলা থেকে আরেক টিলায় ছুটছে উম্মত্ত হাতি। কখনো দিনে কখনো রাত নামতেই লোকালয়ে নামে হাতির পাল। গত দেড় বছরে হাতির আক্রমণে প্রাণ হারিয়েছেন পাঁচজন। এ কারণে উম্মত্ত হাতি দুটি নিয়ে স্থানীয় বাসিন্দাদের মাঝে আতঙ্ক বিরাজ করছে। গত দুই সপ্তাহ ধরে হাতির পাল অবস্থান করছে আনোয়ারায় অবস্থিত কোরিয়ান ইপিজেড এলাকায়। সেখানে হাতির আক্রমণের ভয়ে শ্রমিকরা আতঙ্কে রয়েছেন।


কেইপিজেড এলাকার পাহাড়ে অবস্থান নেওয়া হাতি দুটি প্রতিদিন বিভিন্ন জাতের গাছপালা ও স্খাপনা ভেঙে ফেলায় এ পর্যন্ত অন্তত এক কোটি ২০ লাখ টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে জানিয়েছেন কেইপিজেড কর্তৃপক্ষ। এছাড়া পাহাড়ের পাদদেশের গ্রামগুলোর লোকালয়ে হাতির পাল নেমে প্রায় প্রতিরাত বাড়িঘর ভাংচুর ও গাছপালা নষ্ট করছে।


কেইপিজেড সূত্র জানায়,গত দুই সপ্তাহ ধরে দুইটি হাতি দেয়াঙ পাহাড়ে অবস্থান নিয়েছে। সন্ধ্যা হলেই হাতি দুটি সড়কে ও লোকালয়ে ডু মারে। এ কারণে কেইপিজেডে কর্মরত শ্রমিক-কর্মচারী,কর্মকর্তা ও নিরাপত্তা প্রহরীদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।

বর্তমানে কেইপিজেডের ২৩টি কারখানায় আনোয়ারা-কর্ণফুলী ও আশপাশের এলাকার প্রায় ২২ হাজার শ্রমিক কাজ করে। তাদের মধ্যে আশপাশের অনেকে পায়ে হেঁটে কারখানায় যান। তাছাড়া শ্রমিকরা পায়ে হেঁটে যানবাহনে ওঠেন। কিন্তু দেয়াঙ পাহাড়ে দুইটি হাতি অবস্থান নেওয়ায় শ্রমিক ও নিরাপত্তা কর্মীরা আতঙ্কে রয়েছেন।


কেইপিজেডের প্রশাসন ও মানবসম্পদ উন্নয়ন বিভাগের সহকারী ব্যবস্থাপক মঈনুল আহসান বলেন, হাতির তান্ডবে এ পর্যন্ত কেইপিজেডের বনায়নকৃত বড় বড় ফলবান নারকেল গাছসহ বিভিন্ন প্রকারের মূল্যবান গাছপালা ও বেশ কয়েকটি স্থাপনা ভেঙে ফেলায় অন্তত এক কোটি ২০ লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে। হাতির বিষয়টি বনবিভাগে বারবার জানানো হলেও তারা কোনো কার্যকর পদক্ষেপ নিচ্ছে না।

স্থানীয় সূত্র জানায়,হাতির আক্রমণে সর্বশেষ প্রাণ হারান গত ৭ জানুয়ারি আনোয়ারা উপজেলার বটতলী গ্রামের নুরপাড়ার মোহাম্মদ সোলায়মান (৭০)। এর আগে গত বছরের ১৮ আগষ্ট হাতির আক্রমণে নিহত হন উপজেলার বারখাইন ইউনিয়নের বটতলা এলাকার আবদুল মোতালেব (৬৮),১৫ জুলাই বৈরাগ ইউনিয়নের হুন্দ্বীপপাড়ার আখতার হোসেন চৌধুরী (৫০),২৬ জুন বটতলী ইউনিয়নের গুচ্ছগ্রাম এলাকার মোমেনা খাতুন (৬৫) ও ২০১৮ সালের ১৩ জুলাই বৈরাগ ইউনিয়নের মোহাম্মদপুর এলাকার আবদুর রহমান (৭০) মারা যান।


বনবিভাগের পটিয়া রেঞ্জের বন কর্মকর্তা সাইফুল ইসলাম বলেন,হাতিগুলো সরিয়ে নেওয়ার জন্য আমাদের বন্যপ্রাণি বিভাগ কাজ করে যাচ্ছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *