চট্টগ্রাম, , বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর ২০২০

খলিল চৌধুরী সৌদি আরব প্রতিনিধি

সৌদিতে অবস্থানরত রোহিঙ্গাদের হাতে বাংলাদেশি পাসপোর্ট : লাখ টাকায় মিলে পাসপোর্ট

প্রকাশ: ২০২০-০২-১১ ১১:০২:৩৭ || আপডেট: ২০২০-০২-১১ ১১:০২:৪৫

খলিল চৌধুরী, সৌদি আরব প্রতিনিধি :

সৌদি আরবের দাবি, ওই দেশে বাংলাদেশি পাসপোর্টধারী ৪২ হাজার রোহিঙ্গা আছেন৷ তারা ওই রোহিঙ্গাদের বাংলাদেশে ফেরত পাঠাতে চায়৷ তবে পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ কে আব্দুল মোমেন বলেছেন,সৌদি আরবের এধরনের তৎপরতার বিষয়ে তিনি কিছু জানেন না৷


সংবাদমাধ্যমে কূটনৈতিক সূত্রের বরাত দিয়ে বলা হয়েছে, গত বছরের মাঝামাঝি সময়ে ওই ৪২ হাজার রোহিঙ্গাকে বাংলাদেশে ফেরত পাঠানোর জন্য পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে চিঠি দেওয়া হয়৷

১৩ জানুয়ারি আবুধাবিতে মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোর রাষ্ট্রদূতদের সম্মেলনেও সৌদি কতৃর্পক্ষ বিষয়টি তোলে৷ ১২ ও ১৩ ফেব্রুয়ারি বাংলাদেশ ও সৌদি আরবের যৌথ কমিশনের বৈঠক যাচ্ছেন ঢাকায়৷ সেই বৈঠকেও সৌদি আরব রোহিঙ্গাদের ফেরত পাঠানোর বিষয়টি তুলতে পারে৷

পররাষ্ট্র দপ্তর বিষয়টি কিভাবে মোকাবেলা করবে তা নিয়ে কাজ করছে বলে জানা গেছে৷


সৌদি আরব জনিয়েছে, এ রোহিঙ্গারা ২০১২ থেকে ২০১৪ সালের মধ্যে সৌদি আরবে গেছেন৷ তারা বাংলাদেশি পাসপোর্টে এসে এখানে কাজও করেছেন৷ তাদের সবার কাজের অনুমতিপত্র আগেই শেষ হয়ে গেছে৷ ২০১৬ সালেও সৌদি আরব একবার বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে তুলেছিলো৷

এক লাখ টাকায় রোহিঙ্গাদের পাসপোর্ট।
বাংলাদেশের নাগরিক না হলে কারো বাংলাদেশি পাসপোর্ট পাওয়ার কথা নয়।…


বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ কে আব্দুল মোমেন অবশ্য ডয়চে ভেলেকে বলেছেন,‘‘বাংলাদেশের নাগরিক না হলে কারো বাংলাদেশি পাসপোর্ট পাওয়ার কথা নয়৷ যাদের বাংলাদেশি পাসপোর্ট আছে তারা বাংলাদেশি নাগরিক৷

সৌদি আরব এখন পর্যন্ত কোনো রোহিঙ্গাকে সেখান থেকে বাংলাদেশে ফেরত পাঠায়নি৷ আর তারা ৪২ হাজার রোহিঙ্গাকে বাংলাদেশে ফেরত পাঠাতে চায় বলে কোনো চিঠি দিয়েছে কিনা আমার জানা নেই৷ সংবাদমাধ্যমে অনেক সময় অতিরঞ্জিত খবর ছাপা হয়।


সাবেক রাষ্ট্রদূত মেজর জেনারেল (অব.) শহীদুল হক বলেন, ‘‘আমি হজে গিয়ে সৌদি আরবে বাংলাদেশি পাসপোর্টধারী রোহিঙ্গা দেখেছি৷ ১৯৭৮ সালে সৌদি আরবের মধ্যস্থতায় বাংলাদেশ ও পাকিস্তান আড়াই লাখ করে মোট পাঁচ লাখ রোহিঙ্গাকে পাসপোর্ট দিয়েছিল৷

সৌদি আরব যদি তাদের নিয়ে কথা বলে তাহলে তারা সেটা ঠিক করছে না৷ তবে এর পরে রোহিঙ্গারা বাংলাদেশি পাসপোর্ট পেয়ে থাকলে তা তারা বৈধ পথে পায়নি৷ এটা একটি জটিল পরিস্থিতি৷ বাংলাদেশের এখন ভেরিফাই করে দেখতে হবে তারা কিভাবে পাসপোর্ট পেল৷

এ জন্য সৌদি সরকারেরও সহায়তা চাওয়া যায়৷ আরেকটি বিষয় হলো তারা যেভাবেই পাসপোর্ট পাক তারাতো আর বাংলাদেশের নাগরিক নয়৷ তাই সৌদি আরবের সঙ্গে আলাপ আলোচনা করে তাদের ওয়ার্ক পারমিটের মেয়াদ বাড়িয়ে সেখানেই রাখার ব্যবস্থা করা দরকার।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *