চট্টগ্রাম, , বুধবার, ২১ অক্টোবর ২০২০

এম মাঈন উদ্দিন মিরসরাই প্রতিনিধি

একুশে বইমেলায় কবি সফিউল হকের ২য় কাব্যগ্রন্থ ‘আত্মমগ্ন কথামালা’

প্রকাশ: ২০২০-০২-২৩ ১৮:৫৯:৫০ || আপডেট: ২০২০-০২-২৩ ১৮:৫৯:৫৭

নিজস্ব প্রতিদেক :
মোহাম্মদ সফিউল হক, কবি, প্রাবন্ধিক ও সংগঠক। জন্ম ১ জুন ১৯৮২, ফেনী জেলার দাগনভূঞা উপজেলার দক্ষিন জায়লস্কর গ্রামে। পিতা মরহুম মাস্টার ছেরাজুল হক, মাতা নুর নাহার বেগম।

পেশাগত জীবনে প্রথম সারির একটি বেসরকারী ব্যাংকে কর্মরত। দূর্গম পাহাড় ট্রেকিং, ঝর্ণার জলে অবগাহন ও শিকড়ের সন্ধানে ঐতিহসিক স্থান পরিদর্শন তার অন্যতম শখ। সমাজ সেবা একটি নেশা। যুক্ত আছেন পথের ফুল ফাউন্ডেশন এবং লায়ন্স ক্লাবসহ ডজনখানেক বিভিন্ন সামাজিক সংগঠনের সাথে। তিনি লিখে যাচ্ছেন দুই হাতে সমানতালে।

স্থানীয় দৈনিক ফেনীর সময় সহ ছাড়াও জাতীয় দৈনিকে বিভিন্ন সাহিত্য পত্রিকায় তার লেখা নিয়মিত প্রকাশ হয়।


বাবা মায়ের আদর্শ সন্তান, স্ত্রীর কাছে আদর্শ স্বামী, সন্তানের কাছে আদর্শ বাবা এবং অফিসের যোগ্য কর্মকর্তা থেকে কবিতার মত শিল্পে টিকে থাকা সহজসাধ্য নয়। এই কঠিন কাজটি করেই কবি এগিয়ে চলেছেন শিল্প ভাবনায় বিশ্বাসের বুননে সত্যের নান্দিপাঠে। তার প্রথম কাব্যগ্রন্থ ছিল বোধ ও সামাজিক দায়বদ্ধতার কবিতা সংকলন ‘শীত নিদ্রায় বসন্ত’। কাব্যগ্রন্থটি পাঠকের দৃষ্টিকাড়তে সক্ষম হয়েছে।


কবির শৈশব কেটেছে ছোট ফেনী নদীর পাড়ে; ফুল, পাখি, ফড়িং ও প্রজাপতির সহচর্যে। উদার প্রকৃতির কোলে বেড়ে উঠায় প্রকৃতির মতোই উদার তার মন। মানব জীবনের জটিল গতি প্রকৃতি, দ্বন্ধ, ভাঙন, অবক্ষয়, গ্লানি, উদ্দীপনা ও সমাজবোধ তাকে তাড়িত করে, বিপন্ন করে, উদ্দীপ্ত করে যা উঠে আসে তার কবিতায়। তার কবিতার উপজীব্য প্রেম, দ্রোহ, স্বপ্ন, মুক্তি ও প্রতীক্ষা।


মোহাম্মদ সফিউল হক’র কবিতা সময়ের মত সাবলীল। তার লেখার ধরণ আকর্ষণীয়। ঐতিহ্যচেতনা, প্রেম কিংবা সত্যানুষঙ্গ তার কাব্যে স্বাতন্ত্রে দীপ্রমান। তিনি লেখেন স্রোতল নদীর মত ঢেউ টংকারে। নিমগ্নতা, অবচেতনভাব, নস্টালজিয়া, স্বদেশের প্রতি ভালবাসা, ভাঙন, অবক্ষয়সহ নানা বিষয় নিয়ে তিনি ফেসবুকে নিয়মিত লিখে যাচ্ছেন আত্মমগ্ন কথামালা সিরিজ। সেই অণু কবিতাগুলোর মলাটবদ্ধরুপ ২য় এই কাব্যগ্রন্থটি। এই কবিতাগুলোতে রয়েছে দার্শনিকভাব, বিন্দুর মধ্যে সিন্ধুর গভীরতা।

কবিতাগুলো ভাবায়, বোধে ছোঁয়ায় সোনার কাঠি আর হৃদয়কে কেন্দ্র করে গড়ে তোলে মোহময় স্বাপ্নিকের গেরস্থালি।


কাবগ্রন্থটি থেকে বিন্দুর মধ্যে সিন্ধুর গভীরতার কিছু নমুনা:
১. আবহমান লিপিতে রক্তের দাগ…
কী কারণে এত রক্ত ?
নিরুত্তর থেকে উত্তর খুঁজে নেওয়াই শ্রেয় !
২. নুর হোসেন হবি?
-হ।
‘আমরা যদি না জাগি মা কেমনে সকাল হবে?’
৩. সহজ পাঠ অতটা সহজ নয়
যতটা ছেলেবেলায় পেয়েছি ;
গভীরতা থেকে গেছে অপ্রকাশিত
এখন তার ভেতরে ঢুকছি, শূন্য থেকে ছুটছি…।
৪. প্রসন্ন রোদ নেই
হতাশায় পুড়ছে মানুষ
স্বপ্নই ভরসা।
৫. বিশ্বাস হারিয়ে গেলে
দেবতা ও শয়তানের মাঝে পার্থক্য থাকে না।
ভালোবাসা হারালে মানুষ মরে না
কিন্তু বিশ্বাস হারালে দেবতাও মরে যায়!
৬৪ পৃষ্ঠার এই বইটির দৃষ্টিনন্দন প্রচ্ছদ করেছেন কাব্য করিম। বইটি প্রকাশ করেছে প্রকাশনা সংস্থা ভাটিয়াল প্রকাশন।

মুদ্রিত মূল্য ১৭৫ টাকা। বইটি পওিয়া যাচ্ছে ঢাকা একুশে বইমেলার সৌহরাওয়ার্দী উদ্যানের লিটল ম্যাগ চত্ত্বরে। চট্টগ্রাম বইমেলার ১৪৮নং সালফি পাবলিকেসন্স স্টলে ও ফেনীর একুশে বইমেলার ভাটিয়াল স্টলে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *