admin
প্রকাশ: ২০১৭-১২-০৪ ১৪:৫৯:১৮ || আপডেট: ২০১৭-১২-০৪ ১৪:৫৯:১৮

বীর কন্ঠ ডেস্ক:
চট্টগ্রাম মহানগরীর শুভপুর বাসস্ট্যান্ডে কয়েকশ ট্রান্সপোর্ট এজেন্সিকে ঘিরে চাঁদাবাজির নিয়ন্ত্রণ নিতে ব্যবসায়ী হারুনকে পরিকল্পতিভাবে হত্যা করা হয়েছে বলে বিভিন্ন মহলের ধারণা। ঘটনার পর পরই অভিযুক্ত হিসেবে লিটন নামে এক যুবকের নাম উঠে আসে প্রত্যক্ষদর্শীদের মুখে।
শুভপুর বাসস্ট্যান্ডে চাঁদাবাজি করার অপরাধে গত ২৭ নভেম্বর লিটনকে আটক করেছিল সদরঘাট থানা পুলিশ। পরে একজন ওয়ার্ড কাউন্সিলরের অনুরোধে তাকে ছেড়ে দেয়া হয়।
লিটনকে পাওয়া গেলে ব্যবসায়ী হারুন হত্যার রহস্যের জট খুলবে বলে ধারণা করছে পরিবারসহ বিভিন্ন মহল। লিটন নগরীর সিআরবির জোড়া খুনের মামলার আসামি সাইফুল আলম লিমনের অনুসারী।
অনুসন্ধানে জানা যায়, লিটনের পুরো নাম মোশাররফ হোসনে লিটন। নগরীর কলেজিয়েট স্কুলসংলগ্ন মরিচ্চ্যা পাড়ায় তার বাড়ি। তার নেতৃত্বে আগ্রাবাদ এলাকায় ফুটপাত থেকে প্রতিমাসে প্রায় ৬/৭ লাখ টাকা চাঁদাবাজি করা হয়। কদমতলি শুভপুর বাসস্ট্যান্ড ঘিরে গড়ে উঠা শত শত ট্রান্সপোর্ট প্রতিষ্ঠানকে ঘিরে কয়েক শতাধিক ব্রোকার রয়েছেন। যারা ট্রান্সপোর্ট প্রতিষ্ঠানগুলোকে ট্রাক ঠিক করে দিয়ে মাসে দুই থেকে তিন লাখ টাকা আয় করেন।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক ব্যবসায়ী জানান, লিমনের অনুসারীরা আগ্রাবাদ এলাকায় চাঁদাবাজি করলেও সম্প্রতি শুভপুর বাসস্ট্যান্ড এলাকায় তারা আধিপত্য বিস্তারের উদ্যোগ নেয়। এতে বাধা হয়ে দাঁড়ায় হারুন। বিষয়টি স্বাভাবিকভাবে নেয়নি তারা। ঘর থেকে দুইশ গজ দূর শাহনাজ ট্রান্সপোর্ট এজেন্সি নামে ট্রান্সপোর্ট ব্যবসা রয়েছে হারুনের। মায়ের নামে এ ট্রান্সপোর্ট এজেন্সির রয়েছে নিজস্ব অফিসও। তার প্রতিষ্ঠানের নিয়ন্ত্রণে ৫০ থেকে ৬০টি ট্রাক চলাচল করে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, শোভাযাত্রায় দুই হাজারের অধিক লোকের সমাগম হয়। মিছিল শেষে পাঁচ-ছয়জন যুবক হারুনকে ঘিরে লোহার পাইপ দিয়ে প্রথমে পেটায়। সেখানে মোশাররফ হোসন লিটনও ছিল। এক পর্যায়ে বুকের সাথে অস্ত্র ঠেকিয়ে পর পর তিনটি গুলি করা হয় হারুনকে। তবে গুলি কে করেছে তা নিশ্চিত করা যায়নি।
ঘটনাস্থলে পুলিশের কয়েকজন সদস্য উপস্থিত থাকলেও তারা ছিলেন অনেকটা অসহায়। হারুনকে হত্যা করে পালিয়ে যাবার সময় পুলিশ ধাওয়া করেও হত্যাকারীদের নাগাল পায়নি। হত্যাকারীরা মাদারবাড়ির দিকে চলে যায়।
উল্লেখ্য, জাতির জনক শেখ মুজিবুর রহমানের ঐতিহাসিক ৭ মার্চের ভাষণকে স্বীকৃতি দেওয়ায় গতকাল রোববার চট্টগ্রামের তিন কাউন্সিলরের উদ্যোগে সমাবেশ ও শোভযাত্রার আয়োজন করা হয়। সমাবেশে অনুসারীদের নিয়ে লিমনও অংশ নিয়েছিল বলে জানিয়েছেন কাউন্সিলর আবদুল কাদের।
স্থানীয়রা জানান, ২৭ নভেম্বর লিটন তার সহযোগীদের নিয়ে শুভপুর বাসস্ট্যান্ডে চাঁদাবাজি করতে আসলে হারুন বাধা সৃষ্টি করেন। বিষয়টি নিয়ে দুইজনের মধ্যে বাক-বিতণ্ডা এবং ধাওয়া–পাল্টা ধাওয়া হয়। এক পর্যায়ে সদরঘাট থানা পুলিশ লিটনকে আটক করে থানায় নিয়ে যায়। পরে একজন কাউন্সিলরের অনুরোধে লিটনকে থানা থেকে ছেড়ে দেয়া হয়।
সদরঘাট থানার ওসি মর্জিনা আক্তার বলেন, সাত থেকে আট দিন আগে লিটনের সাথে হারুনের সমস্যা হয়েছিল। খুনের রহস্য উদঘাটনে আমরা সব কিছু খতিয়ে দেখছি। – সূত্র – পরিবর্তন