admin
প্রকাশ: ২০১৭-১২-১০ ০০:২৫:৩০ || আপডেট: ২০১৭-১২-১০ ০০:৩৩:১০

অধ্যক্ষ খালেদ জামিলঃ
ইসলামের দৃষ্টিতে মদ্যপান , মাদকাসক্তি ও মাদক দ্রব্যের ব্যবহার একটি কবীরা গুনাহ বা বড় ধরনের পাপাচার।
মহান আল্লাহ বলেন :
হে মুমিনগন ! মূলত মদ জুয়া , মূর্তি সমূহ ও ভাগ্য নির্ণায়ক শর ঘৃণ্য বস্তু , শয়তানের কাজ। সুতরাং তোমরা তা বর্জন কর – যাতে তোমরা সফলকাম হও ।
মায়েদা : ৯০ .
প্রিয় নবী হযরত (ﷺ) এরশাদ করেন:
সকল নেশাদার দ্রব্য হচ্ছে মদ আর প্রত্যেক মদ হচ্ছে হারাম। সহীহ মুসলিম : ইবনে উমার রাঃ বর্নিত।
মূলত ইসলাম মানুষের ব্যক্তি জীবন,অর্থনৈতিক জীবন ও সামাজিক জীবনের শান্তি, স্বস্তি ও নিরাপত্তা বিধান সহ তার ইহকালীন ও পরকালীন কল্যাণ সাধনের জন্যই মদ্যপান, মাদকাসক্তি ও মাদক দ্রব্যের ব্যবহার হারাম করে দিয়ছে।
মদ মানুষের বিবেক বুদ্ধি বিদুরিত করে। মাদকাসক্ত ব্যাক্তি বিশ্রী ও অশ্লীল কথা বলে। মাঝে মধ্যে গালাগালি করে আল্লাহ , আল্লাহর রাসূল ও ইসলাম ধর্মকে।আবার অনেক সময় অভিশাপ দেয় পিতা মাতা , স্ত্রী ও আত্মীয়স্বজনকে।
মদ মানুষের অর্থ সম্পদ বিনষ্ট করার পাশাপাশি নষ্ট করে দেয় মানব দেহকে ।
এটি দেহকে দূর্বলতার এমন একটি পর্যায়ে নিয়ে যায় যে , এর রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতার বিলুপ্ত হয়ে এতে সৃষ্টি হয় অনেক রোগের। মদ ও মাদক দ্রব্য আঘাত হানে হৃদযন্ত্র , ফুসফুস,পেট , অন্ত্র , কিডনি ও মস্তিষ্কে।
মাদকাসক্ত ব্যাক্তি বাস্তবতা বিবর্জিত কল্পনার জগতে বিচরণ করে , নিজকে মনে করে বীর বহাদুর , মহারাজ ও দানবীর। কিন্তু বাস্তবতার এক পর্যায়ে সে হয়ে যায় মোরগের চাইতেও দূর্বল, কুৎসিত ঝগড়াটের চাইতেও দুষ্টু, গাধার চাইতেও নির্বোধ এবং শুকরের চাইতেও নোংরা।
মদ মানুষকে আল্লাহর স্মরণ তথা নামাজ কালাম থেকে বিমুখ করে তার চরিত্র ও নৈতিকতা ধ্বংস করে দেয় এবং তাকে নিয়ে যায় পাপাচারের দিকে।
প্রিয় নবী বলেন :
মদ পান কর না , কারণ উহা হচ্ছে সকল অনাচারের চাবিকাঠি। ইবনে মাজা: আবুদ দরদা রাঃ বর্ণিত।
হযরত ওসমান বিন আফ্ফান রাঃ বলেন :
মদপান থেকে বেঁচে থাকো , কারণ উহা হচ্ছে উম্মুল খবায়েছ তথা সকল পাপাচারের মূল।
তোমাদের পূর্ববর্তী উম্মতে একজন আবেদ ছিল। এক নষ্ট মেয়ে সাক্ষ্য দেবার কথা বলে তাকে ডেকে পাঠাল।ঘরে ঢুকতেই বন্ধ করে দেয়া হল সকল দরজা। আবেদ উপস্থিত হল এক সুন্দরী মহিলার কাছে , যার কাছে ছিল এক ডিব্বা মদ ও একটি বাচ্চা ছেলে।
মহিলা বলল : আমি আপনাকে মূলত সাক্ষ্য দেবার জন্য ডাকিনি , বরং ডেকেছি এই উদ্দেশ্যে যে –
হয় আপনি আমার সাথে মিলিত হবেন,
অথবা মদ পান করবেন,
অথবা এই বাচ্চাকে হত্যা করবেন ।
অন্যতায় এখানে কু মতলবে এসেছেন বলে চিৎকার দিয়ে মানুষের কাছে আপনাকে বেইজ্জত করে ছাড়ব।
অগত্যা আবেদ মদ পানেই সম্মত হল।
তাকে এক গ্লাস মদ পরিবেশন করা হলে সে নেশাগ্রস্ত হয়ে আরো চাইল এবং এক সময় নেশার ঘোরে হত্যা করল বাচ্চাকে এবং মিলিত হল মহিলাটির সাথে।
হযরত ওসমান রাঃ বলেন : অতএব তোমরা মদ থেকে বেঁচে থাক। কারণ উহা হচ্ছে সকল পাপাচারের মূল। কোন ব্যক্তির অন্তরে যদি ঈমান ও মদ্যপান একত্রিত হয় তখন একটি (মদ্যপান) অন্যটিকে ( ঈমানকে) বিদূরিত করে দেয়।
নসাঈ শরীফ।
∆বন্ধুগন! মদ্যপান কোন মুসলমানের জন্য বিলাসীতা বা গৌরবের বিষয় হতে পারে না বরং মদ থেকে বেঁচে থাকাটাই তার জন্য গৌরব তথা কৃতিত্বের বিষয়।
লেখক:
অধ্যক্ষঃ আধুনগর ইসলামীয়া ফাজিল মাদ্রাসা।
লোহাগাড়া, চট্টগ্রাম