Alauddin Lohagara
প্রকাশ: ২০১৮-০১-০৪ ২০:২৩:৫৩ || আপডেট: ২০১৮-০১-০৪ ২০:২৪:৫৫

লোহাগাড়া অফিস:
লোহাগাড়া উপজেলায় মুক্তিযুদ্ধের বিজয় মেলার নামে প্রকাশ্যে চলছে লটারী ও জুয়া খেলার আয়োজন। তা বন্ধের দাবীতে লোহাগাড়া সদর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি মো: জসিম উদ্দিন ও সাধারন সম্পাদক হেফাজত উল্লাহ সিকদার লিখিত স্মারকলিপি দিয়েছেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার বরাবর। উল্লেখ্য, গত ৩০ ডিসেম্বর এই মেলার উদ্বোধন হয়। মুক্তিযুদ্ধের বিজয় মেলায় মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস নিয়ে স্মৃতিচারণ মূলক নেই কোন আয়োজন।
আবেদনকারীরা এ ব্যাপারে অনুলিপি প্রদান করেন চট্টগ্রাম জেলার বিভাগীয় কমিশনার, জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপার ও লোহাগাড়া থানা পুলিশের অফিসার ইনচার্জ বরাবরে । সূত্রে জানা গেছে, উদ্বোধন হওয়ার অদ্যবধি মেলাটি মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস নিয়ে স্মৃতিচারণমূলক কিছুই নেই। চলছে নানা রকম জুয়া খেলার আয়োজন, যা দলের জন্য ভাবমূর্তির ক্ষতি। সরেজমিনে দেখা যায়, মেলায় প্রতিদিন আয়োজকরা লটারী নামে জুয়া খেলার আয়োজন করে। যা বিক্রি করার জন্য গ্রাম গঞ্জে শতাধিক রিক্সা নিয়ে মাইকিং করে উচ্চ শব্দ ব্যবহার করে শব্দ দূষণ করে। যা অনেক সময় পথচারীরা চলতে বিরক্তবোধ করে। এসব লটারীতে লোভনীয় অফার দিয়ে স্কুল কলেজ ও মাদ্রাসার শিক্ষার্থীদের জুয়া খেলার প্রতি আকৃষ্ট করছে। এছাড়াও প্রতিদিনের লটারী বিক্রির মাইকিং এ ছাত্র-ছাত্রীদের পড়া লেখায় ব্যাঘাত ঘটাচ্ছে। আগামী ১ ফেব্রয়ারী থেকে শুরু হবে সারা দেশে এসএসসি পরীক্ষা। এ নিয়ে অবিভাবগণ উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছেন। তারা অভিযোগ করে বলেন, ছেলে মেয়েদের সামনে এসএসসি পরীক্ষা। মেলার আয়োজন হওয়ায় ছেলে মেয়েদের পড়া লেখায় বিঘ্ন ঘটছে। অনেক সময় পড়া লেখা না করে মেলায় ঘুরা ফেরা করে। এক দিকে যেমন তাদের পরীক্ষায় খারাপ রেজাল্ট করার আশংকা অন্য দিকে উঠতি বয়সের যুবকরা মেলায় গিয়ে বিভিন্ন জুয়া খেলায় আসক্তি হয়ে পড়ছে। এমনকি প্রবাসীর ছেলে মেয়েরা বাজারের টাকা দিয়ে লটারীর টিকেট ক্রয় করছে।
এছাড়াও মেলায় হাউজি নামক জুয়া খেলাসহ গানের আয়োজন চোখে পড়ার মত। মধ্যরাত পর্যন্ত চলে গানের আয়োজন। মেলাকে গিরে লোহাগাড়ার পরিবেশ মারাত্মক বিপর্যয়ের মধ্যে রয়েছে। অনেক সময় লটারীর টিকেট ক্রয় ও হাউজি খেলার জন্য উঠতি বয়সের যুবকরা ছোটখাট অপরাধে জড়িয়ে পড়ছে। উপজেলার সচেতন নাগরিক সমাজ মুক্তিযুদ্ধের এই বিজয় মেলায় মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস নিয়ে স্মৃতিচারণ মূলক আয়োজনসহ মুক্তিুযুদ্ধের সঠিক ইতিহাস নতুন প্রজন্মকে তুলা ধরার মত আয়োজন করার জোর দাবী জানান। না হলে নুতন প্রজন্ম মুক্তিযুদ্ধের সঠিক ইতিহাস জানা থেকে বঞ্চিত হবে।